ICT Bangladesh: শেখ হাসিনার মামলায় নজরে International Crimes Tribunal of Bangladesh! – Bengali News | International Crimes Tribunal of Bangladesh: International Tribunal of Bangladesh is looking into Sheikh Hasina’s case!
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল কী?Image Credit: PTI
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল। এই ট্রাইব্যুনালে মামলা চলছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে তিনি গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। আপাতত কূটনৈতিক সুরক্ষায় ভারতে রয়েছেন শেখ হাসিনা। কিন্তু এই মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে ইউনূস প্রশাসন। ফলে, যদি এমন কোনও সাজা হয়, তাহলে বাংলাদেশ ইন্টারপোলে রেড কর্নার নোটিসের আবেদন করবে। আর তখন ভারত কী করে সেদিকেই তালিয়ে গোটা বিশ্ব।
কিন্তু হাসিনার এই মামলা চলছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি আসলে কী? ১৯৭৩ সালের আইন অনুযায়ী তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর দীর্ঘদিনই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল এই ট্রাইব্যুনাল। এরপর আওয়ামি লিগ সরকারের আমলে ২০১০ সালে এই ট্রাইব্যুনাল পুনরায় যাত্রা শুরু করে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার জন্যই এই ট্রাইব্যুনালকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। আর তারপর থেকেই আব্দুল কাদের মোল্লা বা মতিউর রহমান নিজামির মতো বিরোধী দলের নেতাদের শাস্তি দিয়েছে এই ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়াও মানবতা বিরোধী অপরাধের কারণে ফাঁসি কার্যকর হয়েছে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর।
২০২৪ সালের গণবিক্ষোভ বা জুলাই আন্দোলনের পর এই ট্রাইব্যুনালের কাজের ধরন বদলে যায়। মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এই ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করছে ২০২৪-এর আন্দোলনের সময়ের অত্যাচারের বিচারের জন্য। শেখ হাসিনার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ চৌধুরী আবদুল্লা আল-মামুন এখন একই মামলার আসামি। যদিও গ্রেপ্তার হওয়া চৌধুরী আবদুল্লা আল-মামুন এই মামলায় রাজস্বাক্ষী হিসাবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
যদিও এই ট্রাইব্যুনাল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থা শুরু থেকেই এর নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। তারা বিচারের প্রক্রিয়ায় একাধিক অসঙ্গতিও খুঁজে পেয়েছে। যা ন্যায্য বিচারের দাবির সঙ্গে পরস্পর বিরোধী। বিশেষত বিরোধী নেতাদের টার্গেট করা এবং কারও অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে এই ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে।
তাছাড়া, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতাও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলির সমালোচনার প্রধান কারণ। আর এই কারণেই এই মুহূর্তে এই বিচারের খবর এখন নয়া দিল্লির কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।