TMC: পৌরপ্রধান নির্বাচনে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, স্বাক্ষর করলেন না ৭ কাউন্সিলর – Bengali News | TMC inner conflict in Purba Bardhaman over chairman election in Dainhat municipality
দাঁইহাট পৌরসভায় পৌরপ্রধান নির্বাচন ঘিরে শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগImage Credit: TV9 Bangla
কাটোয়া: বিধানসভা নির্বাচনের কয়েকমাস আগে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল। দাঁইহাটে পৌরপ্রধান নির্বাচন ঘিরে শোরগোল। দলীয় নির্দেশ অমান্য করে সভা ত্যাগ করলেন ১৪ জনের মধ্যে সাত পৌর সদস্য।
শুক্রবার ছিল দাঁইহাট পৌরসভার পৌরপ্রধান নির্বাচন। বৈঠক থেকে সাত সদস্য বেরিয়ে গেলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাঁদের সই ছাড়াই পৌরপ্রধান নির্বাচিত হয়। দলের নির্দেশে পৌরপ্রধান হন সমর সাহা। তিনি দাঁইহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। জানা গিয়েছে, রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ অনুযায়ী, দাঁইহাট পৌরসভার নতুন পৌরপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সমর সাহা। শুক্রবার ১৪ জন পৌর সদস্যকে নিয়ে বৈঠক ডাকেন উপ পৌরপ্রধান অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের পক্ষ থেকে সমর সাহার নাম প্রস্তাব করা হলে শিশির মণ্ডল-সহ সাত পৌর সদস্য তাতে আপত্তি জানিয়ে সভাকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান।
শিশির মণ্ডলের অভিযোগ, “যে কাগজটি রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ বলে দেখানো হচ্ছে, তাতে কোনও রাজ্য নেতার স্বাক্ষর নেই। তাই আমরা এই সিদ্ধান্ত মানছি না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণাও এখানে মানা হয়নি। তিনি বলেছিলেন, যে পৌর সদস্যরা নিজেদের ওয়ার্ডে হেরেছেন, তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে জেতা পৌর সদস্যদের সম্মান দেওয়া হবে। কালনা, কাটোয়ায় সেই নিয়ম মানা হলেও দাঁইহাটে হয়নি। তাই নিজের ওয়ার্ডে হেরে যাওয়া একজনকে পৌরপ্রধান করা মেনে নেওয়া যায় না।”
উপ পৌরপ্রধান অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “সাতজন পৌর সদস্য সই না করেই বেরিয়ে গেছেন। আমরা বাকি সাতজন দলের নির্দেশিত নামেই সম্মতি জানিয়েছি। সেই অনুযায়ী সমর সাহা নতুন পৌরপ্রধান নির্বাচিত হয়েছেন।” তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এই নিয়ে বলেন, “সাত পৌর সদস্য দলবিরোধী কাজ করেছেন। এই আচরণের বিষয়ে রাজ্য নেতৃত্বকে লিখিতভাবে জানানো হবে। উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে দল।”
উল্লেখ্য, এর আগেও দাঁইহাট পৌরসভার প্রাক্তন পৌরপ্রধান প্রদীপ রায়কে নিয়ে মতবিরোধ ছিল। প্রকাশ্যে এসেছিল গোষ্ঠীকোন্দল। এই কোন্দল মেটাতে হাল ধরতে হয় মন্ত্রী-সহ জেলা নেতৃত্বদের। দু’পক্ষকে নিয়ে বহুবার আলোচনায় বসা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও মেটেনি সমস্যা। এবার দলীয় নির্দেশে পৌরপ্রধান পরিবর্তন করা হল ঠিকই, কিন্তু সাত কাউন্সিলর পৌরপ্রধান নির্বাচন থেকে সরে আসায় দলীয় কোন্দল থেকেই গেল বলে মনে করা হচ্ছে।