Purba medinipur: ২ বছর পর ‘মৃত’ সন্তান ফিরল মায়ের কোলে – Bengali News | A newborn child was sold by nursing home owner, back to his mother after 2 years in Purba Medinipur
২ বছর পর সন্তানকে কোলে নিলেন মাImage Credit: TV9 Bangla
পটাশপুর: নার্সিংহোমে সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। জন্মের পরই সন্তানের মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছিলেন। মৃত সন্তানের মুখও দেখানো হয়নি মাকে। সেই ‘মৃত’ সন্তানই ২ বছর পর ফিরল মায়ের কোলে। ঘটনাটি পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের। সন্তানকে কোলে নিয়ে আনন্দে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না পটাশপুরের বাসিন্দা প্রতিমা পাল। জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানালেন তিনি।
কী করে ‘মৃত’ সন্তানকে ফিরে পেলেন প্রতিমা?
পটাশপুরের আড়গোয়াল গ্রামের বাসিন্দা প্রতিমা পাল ২০২৩ সালের অগস্টে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে এগরার একটি নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন। ২৪ অগস্ট সকালে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ প্রতিমার পরিবারকে জানায়, সন্তান জন্মের পরপরই মারা গিয়েছে এবং শিশুটির মৃতদেহ ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। শোকাহত পরিবার কোনও প্রশ্ন না করে প্রতিমাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু এরই মধ্যে ঘটে যায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অভিযোগ, ওই নার্সিংহোমের মালিক এক দালালের মাধ্যমে রামনগরের এক মহিলাকে প্রায় দু’ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ওই নবজাতককে বিক্রি করে দেয়। চার দিন পর অর্থাৎ ২৮ অগস্ট, শিশুটিকে নিয়ে ওই মহিলা টিকা দেওয়ার জন্য দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। সন্দেহ হওয়ায় হাসপাতাল কর্মীরা খবর দেন পুলিশে। পুলিশ দ্রুত গিয়ে তদন্তে নামে এবং মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে তিনি টাকার বিনিময়ে নার্সিংহোমের মালিকের কাছ থেকে শিশুটিকে কিনেছেন।
ঘটনার সূত্র ধরে পুলিশ নার্সিংহোমের মালিক, তাঁর স্ত্রী, এক দালাল এবং ক্রেতা মহিলাকে গ্রেফতার করে। এরপর তদন্তে জানা যায়, প্রতিমা পাল শিশুটির জন্মদাত্রী। প্রায় দশ দিন পর পুলিশ তাঁকে খুঁজে পায়। পুলিশ প্রতিমাকে জানায়, তাঁর সন্তান জীবিত রয়েছে ও সুস্থ আছে।
তবে আইনি জটিলতার কারণে শিশুটিকে অবিলম্বে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি। আদালতের নির্দেশে তাকে কাঁথির একটি হোমে রাখা হয়। সেখানেই কেটে যায় প্রায় দু’ বছর। অবশেষে চলতি মাসের ৩ তারিখে প্রতিমা পাল জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের দফতরে যোগাযোগ করেন। জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব সুদীপা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়। আদালত, থানা ও হাসপাতাল, সব দিক থেকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে, মাত্র দশ দিনের মধ্যেই সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হয়।
অবশেষে এদিন নিমতৌড়ির চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির অফিস থেকে প্রতিমা পালের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয় তাঁর শিশুপুত্রকে। জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব সুদীপা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দিন কয়েক আগে প্রতিমা দেবী আমাদের দফতরে এসেছিলেন। আমরা সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত নথি যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করি। আদালত ও প্রশাসনের সহায়তায় মাত্র দশ দিনের মধ্যেই আমরা শিশুটিকে তার মায়ের হাতে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।”
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সন্তানকে কোলে নিয়ে প্রতিমা পাল কান্না সামলাতে পারেননি। তিনি বলেন, “যেদিন নার্সিংহোমে আমার ছেলে জন্মেছিল, সেদিনই আমাকে জানানো হয়েছিল সে মারা গেছে। আমরা বিশ্বাস করেছিলাম। পরে জানতে পারি, আমার সন্তান জীবিত এবং অন্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এতদিন আইনি জটিলতার কারণে তাকে নিজের কাছে আনতে পারিনি। আজ জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ছেলেকে ফিরে পেলাম। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ।”