Fraud Case: শহরের নামজাদা শিল্পপতির বিরুদ্ধে ৩১৭ কোটি জালিয়াতির অভিযোগ, কে তিনি? – Bengali News | Fraud case Corruption allegation of Rs 317 crore at industrialist Pawan Ruia’s
শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী: শহরে ৩১৭ কোটি টাকার জালিয়াতি! ভুয়ো ঠিকানা ব্যবহার করে একাধিক সংস্থা খুলে তাতে বিনিয়োগ দুর্নীতির টাকা। তার মধ্যে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ক্রিপ্টোকারেন্সিতেও ট্রান্সফার! নেপথ্যে শহরের এক নামজাদা শিল্পপতি, এমনটাই অভিযোগ। সেই তিনিই আবার বহুল পরিচিত মুখও বটে! তদন্তে নেমে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় সাইবার ক্রাইমের গোয়েন্দাদের। ভাবছেন তো, শহরের কোন বড় শিল্পপতি! যা জানা যাচ্ছে তা হল পবন রুইয়া! নাম তো সুনা হি হোগা! একটু মনে করে দেখুন, ওই যে জেসপ-ডানলপ…. হ্যাঁ, সেই জেসপ কারখানার মালিক পবন রুইয়া! চলুন, একবার তাঁর ইতিহাসটা ঝালিয়ে নিই বরং।
পবন রুইয়া, যাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেছিল রেল! সালটা ২০১৬! দিল্লির সুন্দরনগরের বাড়ি থেকে রুইয়াকে গ্রেফতার করেছিলেন সিআইডি-র তদন্তকারীরা। ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জেসপকে সাতটি এসি রেক এবং আরও কিছু সরঞ্জাম তৈরির জন্য অগ্রিম বাবদ ৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। প্রচুর কাঁচামাল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি মেনে রেক তৈরি করেনি জেসপ। দায় বর্তায় জেসপের তৎকালীন ডিরেক্টর পবন রুইয়ার ওপর! দমদম থানায় অভিযোগ দায়ের করে রেল! তারপরই গ্রেফতার।
সে সময় এই পবন রুইয়াকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা। কারণ, সবে সবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তাঁর দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছে। মমতা যে জেসপ অধিগ্রহণ করতে চাইছেন, সেই রাজনৈতিক বার্তা নির্বাচনের আগে থেকেই বহুল প্রচারিত। বিধানসভায় ডানলপ-জেসপ অধিগ্রহণের বিল পাশ হয়েছিল বিধানসভা নির্বাচনের আগেই। একদিকে যখন জেসপে রহস্যজনক চুরি, অগ্নিকাণ্ড এবং ডানলপেও যন্ত্রাংশ লুঠে রুইয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার, তখন আবার রাজ্য সরকারের সঙ্গে ‘আপস আলোচনা’য় আগ্রহী হয়েছিলেন জেসপ কারখানার মালিক পবন রুইয়া। তখন শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্র।
জেসপ-ডানলপ—রাজনীতির পাঠ্যক্রমে এসব শব্দবন্ধে এখন মরচে ধরেছে। ধূলো পড়েছে ফাইলে! কিন্তু আবারও সেই পবন রুইয়া উঠে এলন খবরে! ফের তিনি গোয়েন্দাদের স্ক্যানারে! এবার আরও বড়, ৩১৭ কোটির দুর্নীতি! এবার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, শেয়ারমার্কেটে বিনিয়োগের নামে দুর্নীতি! আর সেই দায়ে আবারও স্ক্যানারে শিল্পপতির গোটা পরিবার। পবন রুইয়ার বাড়ি ও সংস্থায় চলল তল্লাশি। উদ্ধার ভিন দেশের সিম কার্ড, হার্ড ডিস্ক, পেনড্রাইভ, ৬টি মোবাইল ফোন। রাজ্য সাইবার ক্রাইম উয়ং সূত্রে খবর, শেয়ার মার্কেট জালিয়াতির যে মামলায় শিল্পপতির বাড়ি ও দফতরে তল্লাশি চালানো হয়েছে, সেই মামলায় ১৭০ কোটি টাকা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বদলে ফেলেছেন পবন রুইয়া। মোট ৩১৭ কোটি টাকার জালিয়াতি!
আর পবন রুইয়ার এবারের কেলেঙ্কারির কেঁচো খুড়তে TV9 বাংলা পৌঁছে গেল লালবাজার সংলগ্ন ৯ নম্বর এজরা স্ট্রিটে। একটা রংচটা জীর্ণ তিন তলা ভবন! সে ভবনের পাঁজর বেরিয়েছে সময়ের কালে! এক সময়ে এখানেই রমরমিয়ে চলত রুইয়া গোষ্ঠীর ব্যবসা। এই বিল্ডিংয়ের দোতলাতেই অফিস ছিল রুইয়া গোষ্ঠীর কর্ণধার পবন রুইয়ার। কিন্তু এখন এই ভবন রীতিমতো পোড়ো বাড়ির সামিল। তদন্তকারীদের দাবি, এই ৩১৭ কোটি টাকার বড় অংশই রুইয়া গোষ্ঠীর একাধিক কোম্পানিতে জমা পড়েছে। তার মধ্যে হুগলি মিশনারিজ প্রাইভেট লিমিটেড অন্যতম। যে সংস্থার ঠিকানা আবার দেওয়া রয়েছে ৯ নম্বর এজরা স্ট্রিট।
এখনও ওই বিল্ডিংয়ে হাতে গোনা বেশ কয়েকটি অফিস রয়েছে। প্রত্যেকটি বৈধ কোম্পানির নাম ঠিকানা বোর্ড ও লেটারবক্সে উল্লেখিত। তিন তলা বিল্ডিংয়ের খাঁড়া সিঁড়িতে ওঠার মুখেই সেই লেটার বক্স। কিন্তু তাতে নজর পড়ল না হুগলি মিশনারিজ প্রাইভেট লিমিটেডের নামে কোনও সংস্থার নাম।
তবে ওই বিল্ডিংয়ে যাঁদের অফিস রয়েছে, তাঁদেরই কয়েকজন জানালেন, বিল্ডিংয়ের টপ ফ্লোরে ২৩ নম্বর রুমে একটি অফিস রয়েছে। যেখানে এমন কয়েকজনের যাতায়াত এখনও রয়েছে, যাঁরা নাকি নিজেদের ‘রহস্যময়’ সেই হুগলি মিশনারিজ প্রাইভেট লিমিটেডের কর্মী বলেই পরিচয় দেন।
এই ২৩ নম্বর ঘরে একাধিকবার হানা দিয়েছে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ। তদন্তকারীরা বলছেন, এই ঠিকানা দেখিয়েই প্রায় ৫০টার বেশি অফিস খোলা হয়েছে। সেই সংস্থাগুলিতে সরাসরি জমা পড়েছে দুর্নীতির ৩১৭ কোটি টাকা।
এখন এই পবন রুইয়াকে নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে কাটাছেড়া। জেসপের ডিরেক্টর-পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন দীর্ঘদিন। তিনি এখন রুইয়া গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান! পদের মতোই দুর্নীতির অভিযোগও অনেক চওড়া! এই শিল্পপতির হাত কতদূর, সেটাই খুঁজছেন তদন্তকারীরা! দেখা যাক, উৎসের সন্ধান মেলে কিনা!