EXPLAINED: ১০০ দিনের কাজে কুড়িয়ে পাওয়া চোদ্দো আনায় কতটা লাভবান হতে পারে তৃণমূল? – Bengali News | In Depth: will TMC get benefit over Supreme Court order in 100 days work
কতটা লাভবান হতে পারে তৃণমূল?Image Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: বড়জোর আর মাস ছয়েক। তার মধ্যেই বাংলায় নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার কথা। টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে তৃণমূলের হাতিয়ার কী কী হতে পারে? রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের মতো স্বাভাবিকভাবেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তৃণমূলের প্রচারের প্রধান হাতিয়ার হতে চলেছে। আর কী? এই আর কী কী-র মধ্যেই তৃণমূলের হাতে কুড়িয়ে পাওয়া চোদ্দো আনার মতো এসে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়। কী সেই রায়? সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজ শুরু করতে হবে কেন্দ্রকে। টাকাও মঞ্জুর করতে হবে। কেন কুড়িয়ে পাওয়া চোদ্দো আনা বলা হচ্ছে? একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, বিধানসভা নির্বাচনে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে কতটা হাতিয়ার করতে পারবে তৃণমূল? এই নিয়ে বিজেপির পাল্টা প্রচার কী হতে পারে?
একটু পিছনে ফিরে দেখা যাক। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজের মজুরি দেওয়া হয়নি। এই অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গ খেতমজুর সমিতি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিল। চলতি বছরের ১৮ জুন হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেছিল, পুরনো দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলতে পারে। শর্ত আরোপ করতে পারে কেন্দ্র। কিন্তু প্রকল্প বন্ধ রাখা যাবে না। কাজ চালু করতেই হবে। গত ১ অগস্ট থেকে কাজ শুরু করতে বলেছিল হাইকোর্ট। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় কেন্দ্র। গত ২৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ কেন্দ্রের আর্জি খারিজ করে দেয়। হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। অর্থাৎ কেন্দ্রকে পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজ শুরু করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও কাজ শুরু ও বকেয়া দেওয়া নিয়ে কেন্দ্র টালবাহানা করলেই প্রচারের বাড়তি অস্ত্র চলে আসবে তৃণমূলের হাতে। এটাই তৃণমূলের কাছে কুড়িয়ে পাওয়া চোদ্দো আনা। কারণ, মামলা করেছিল পশ্চিমবঙ্গ খেতমজুর সমিতি। আর হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র ধাক্কা খাওয়ায় প্রচারের অস্ত্র পেয়ে গেল তৃণমূল।
কুড়িয়ে পাওয়া চোদ্দো আনা তৃণমূল যে প্রচারে কাজে লাগাবে, তার ইঙ্গিত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই পাওয়া গিয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে লেখেন, “কেন্দ্র যদি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বকেয়া মঞ্জুর না করে তাহলে বাংলা আবার দিল্লির বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে। জমিদাররা ভোটেও হেরেছে, কোর্টেও হেরেছে। কিন্তু, আমি জানি এরপরও তাঁরা কমিশন ও ইডি-র সমর্থনে নিজেদের খেলা খেলে যাবে।”
চোদ্দ আনা কুড়িয়ে পেলেও কি এই ইস্যুকে ষোলাআনা কাজে লাগাতে পারবে তৃণমূল? এটা এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। আর সেটাই বুঝেই এক কদম এগিয়ে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড বড় বার্তা দেন। কারণ, ভোট আর হাতে গোনা ছ’মাস। তার আগেই নির্বাচন বিধি লাগু হয়ে গেলে উন্নয়ন মূলক কাজ থমকে যাবে। অর্থাৎ খাতায় কলমে ১০০ দিনের কাজের গ্রিন সিগন্যাল থাকলেও, বাস্তবে কার্যকর করা নাও যেতে পারে। এই আশঙ্কা করে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন অভিষেক। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে দিল্লিতে ধরনা বসেছিলেন তিনি। এবারও সেই হুঁশিয়ারি শোনা গেল অভিষেকের কণ্ঠে। বলেন, “হাইকোর্ট এক গালে থাপ্পড় মেরেছে আর সুপ্রিম কোর্ট এক গালে থাপ্পড় মেরেছে। আমরা তো ১০০ দিনের কাজের টাকা ছিনিয়ে আনবই।”
কী বলছে বিজেপি?
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর কি কেন্দ্র টাকা দেবে? যদি না দেয় কতটা চাপে পড়বে রাজ্য বিজেপি? গেরুয়া শিবিরের যুক্তি, কেন্দ্রের শর্ত না মানা পর্যন্ত টাকা দিতে বাধ্য নয়। এসআইআরের কাজকে পিছিয়ে দিতেই মিথ্যে ইস্যুকে তৃণমূল সামনে আনার চেষ্টা করছে বলে দাবি করলেন বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার। আর রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ কী বলছেন? তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে দিলীপের বক্তব্য, ধরনা দিতেই সারাজীবন কেটে যাবে তৃণমূলের।
বাংলায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা শুরুর ঘোষণা করে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া চলবে। ওয়াকিবহল মনে করছে, তার কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো বাংলায় নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা করবে কমিশন। ফলে এই সময়ের মধ্যে ১০০ দিনের কাজ কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর কেন্দ্র কী করে আর রাজ্যের শাসকদল কোন রণকৌশল নেয়, সেটাই এখন দেখার।