Gold Investment Explained: ডিজিটাল সোনায় বিনিয়োগ করতে ETF ভালো নাকি Mutual Funds? – Bengali News | Gold Investment: Gold ETF or Gold Mutual Fund, Which is Better for Investing in Digital Gold?
সোনার দাম যে জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল তাতে মধ্যবিত্তের পক্ষে সোনার গয়না কেনা ধীরে ধীরে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে ভাল খবর এটাই যে, গত কয়েকদিনে কিছুটা হলেও কমেছে সোনার দাম। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই ‘সেফ হেভেন’ অর্থাৎ সোনায় বিনিয়োগের কথা ভাবছেন। তবে, দোকান থেকে সোনা কেনা ও সেই সোনা সংরক্ষণের ঝামেলা এড়াতে অনেকেই এখন ঝুঁকছেন ডিজিটাল সোনার দিকে। কিন্তু প্রশ্ন হল, গোল্ড ইটিএফ ও গোল্ড মিউচুয়াল ফান্ড; এই দু’য়ের মধ্যে কোন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করলে সেটা আপনার জন্য ভাল হবে?
গোল্ড ইটিএফ কী?
গোল্ড ইটিএফ মূলত ফিজিক্যাল সোনার দামকে ট্র্যাক করে। ইটিএফ বা এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড আসলে একটি প্যাসিভলি ম্যানেজড ফান্ড। এই ইটিএফ সাধারণত ৯৯.৫ শতাংশ খাঁটি সোনার এক গ্রামের দামকে ইউনিট হিসাবে ধরে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ১ গ্রামের ১ হাজার ভাগের ১ ভাগকেও ইউনিট হিসাবে ধরা হয়। ইটিএফে বিনিয়োগ করতে গেলে ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট থাকা আবশ্যক। এ ছাড়াও স্টকের মতো সারাদিন এই ইটিএফ কেনাবেচা করা যায়।
গোল্ড মিউচুয়াল ফান্ড কী?
অন্যদিকে, গোল্ড মিউচুয়াল ফান্ড সাধারণত নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশি সুবিধাজনক। এখানে ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন হয় না। সাধারণ মিউচুয়াল ফান্ডের মতো আপনি সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা SIP-এর মাধ্যমে মাত্র ১০০ টাকা থেকেও বিনিয়োগ শুরু করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞেরা কী বলছেন?
রিদ্ধিসিদ্ধি বুলিয়ানস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর, পৃথ্বীরাজ কোঠারি বলছেন, ‘নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য গোল্ড মিউচুয়াল ফান্ড বেশি সুবিধাজনক। তবে ইটিএফের ক্ষেত্রে লিক্যুইডিটি অনেকটা বেশি। এ ছাড়াও ইটিএফের ক্ষেত্রে রিয়েল-টাইমেও কেনাবেচা করা যায়’।
খরচ কোথায় বেশি?
ইটিএফ নাকি মিউচুয়াল ফান্ড, কোন ক্ষেত্রে বিনিয়োগে খরচ বেশি? হিসাব বলে, ইটিএফের এক্সপেন্স রেশিও কম। সাধারণত ০.৪ শতাংশ থেকে ০.৭ শতাংশ। যদিও এই ফান্ডের সঙ্গে যুক্ত হয় ব্রোকারেজ চার্জ ও ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণের খরচ। তবে, বর্তমানে একাধিক ব্রোকারেজ সংস্থা ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণের খরচ নেয় না।
অন্যদিকে, গোল্ড মিউচুয়াল ফান্ডের এক্সপেন্স রেশিও অপেক্ষাকৃত বেশি। সাধারণত ০.৮ শতাংশ থেকে ১.৫ শতাংশের মধ্যে থাকে গোল্ড মিউচুয়াল ফান্ডের এক্সপেন্স রেশিও। এর সঙ্গে যোগ হতে পারে এক্সিট লোড বা ডিস্ট্রিবিউটরের কমিশনও। বিশেষজ্ঞরা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কথা এখানে বলেছেন। সেটি হল ট্র্যাকিং এরর। অর্থাৎ, বেঞ্চমার্কের রিটার্ন বা প্রকৃত রিটার্নের সঙ্গে ফান্ডের রিটার্নের পার্থক্য। এই ট্র্যাকিং এরর হয়, তার কারণ গোল্ড ফান্ডগুলো সাধারণত ইটিএফে বিনিয়োগ করে। ফলে, ইটিএফের ওই খরচগুলো এখানে যুক্ত হয়ে যায়।
দীর্ঘমেয়াদি রিটার্ন ও ট্যাক্সের হিসাব
গত ১০ বছরে গোল্ড ইটিএফ এবং মিউচুয়াল ফান্ড উভয়ই বছরে গড়ে প্রায় ১৩ শতাংশ থেকে ১৪ শতাংশ হারে রিটার্ন দিয়েছে। তবে হিসাব বলে, সামগ্রিক খরচ কম থাকায় গোল্ড ইটিএফ সামান্য বেশি রিটার্ন দেয়।
২০২৪ সালের ২৩ জুলাই থেকে করের নিয়মে এসেছে বিরাট পরিবর্তন। শর্ট টার্ম ক্যাপিটাল গেনস ও লং টার্ম ক্যাপিটাল গেনসে আলাদা আলাদা কর বসে। আর সেই করের কারণে রিটার্নের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে।
শর্ট টার্মে অর্থাৎ ১২ মাস পর্যন্ত রাখা হলে, আয়ের স্ল্যাব অনুযায়ী কর দিতে হবে। আবার লং টার্ম বা ১২ মাসের বেশি রাখা হলে, ফ্ল্যাট ১২.৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।
আপনি যদি এসআইপি বা সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানের মাধ্যমে অল্প অল্প করে বিনিয়োগ করতে চান, ও ডি্যাট অ্যাকাউন্টের ঝামেলা এড়াতে চান, তাহলে গোল্ড মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। আর যদি ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট থাকে, রিয়েল-টাইম কেনা বেচায় আগ্রহী হন ও বিনিয়োগের খরচ কমাতে চান, তবে ইটিএফের কেনার কথা ভাবতে পারেন। তবে, এই ধরনের যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার আর্থিক লক্ষ্য ও ঝুঁকির ক্ষমতা বিবেচনা করে তবেই বিনিয়োগ করুন।
কোথাও বিনিয়োগ করতে চাইলে সেই বিষয়ে যথাযথ তথ্যানুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করুন। এই লেখা শুধুমাত্র শিক্ষাগত উদ্দেশ্যে। TV9 বাংলা বিনিয়োগের কোনও উপদেশ দেয় না।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যে কোনও বিনিয়োগে বাজারগত ঝুঁকি রয়েছে। ফলে, আগে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত নথি সাবধানে পড়ে নেবেন। তারপর বিনিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।