Gold Production at Home: বাড়ির রান্নাঘরে সোনা বানানো সম্ভব? - Bengali News | Gold Price History—Historical Gold Charts and what you need to know - 24 Ghanta Bangla News
Home

Gold Production at Home: বাড়ির রান্নাঘরে সোনা বানানো সম্ভব? – Bengali News | Gold Price History—Historical Gold Charts and what you need to know

Spread the love

সোনার দাম কত বাড়বে? সোনার দাম কবে পড়বে? সোনা কিনুক বা না কিনুক, এসব প্রশ্ন বাঙালির মনে জাগবেই। তবে, সোনা কীভাবে তৈরি হয়েছিল, সেটা বলুন তো? আচ্ছা, ল্যাবরেটরিতে সোনা বানালে তো দাম কমে যাবে হলুদ ধাতুর। তাহলে সেটা করা হচ্ছে না কেন? সোনার আসল গল্পটা শুরু হয় আজ থেকে কোটি কোটি বছর আগে। খুব কাছাকাছি আসার পরেই দু’টি নিউট্রন স্টার একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। আর এই প্রবল মারামারি এতটাই ভয়ঙ্কর যে এক মুহূর্তে উৎপন্ন হয় অকল্পনীয় তাপ ও শক্তি—কতটা শক্তি একটা আইডিয়া দিই। সূর্য তার সারা জীবনে যতটা তাপশক্তি উৎপন্ন করেছে এবং করবে, তার থেকেও কয়েকশো গুণ বেশি শক্তি উৎপন্ন করতে পারে একটা সুপারনোভা। এমন বড়সড় মহাজাগতিক ঘটনায় তৈরি হয় ভারী মৌল, এর মধ্যে আছে প্লাটিনাম, তেজস্ক্রিয় মৌল ইউরেনিয়াম। আর তৈরি হয় এক চকচকে ধাতু, হলুদ রঙয়ের অমূল্য ধাতুর নাম মানুষ দিয়েছে ‘সোনা’! সুপারনোভার বিস্ফোরণ মহাবিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে এইসব মৌল, তা পৌঁছেছে পৃথিবীতে। আর আজ আপনার স্ত্রীর গলায় শোভা পাচ্ছে সেই ধাতুর তৈরি ‘সীতাহার’…

‘আমরা তারা-নক্ষত্রদের ধুলো দিয়ে তৈরি…‘

জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল সাগানের একটা উক্তি মনে পড়ে যায়। ‘We are made of star-stuff’ অর্থাৎ আমরা তারা-নক্ষত্রদের ধুলো দিয়ে তৈরি। বিগ-ব্যাং ঘটে যাওয়ার পর তারা-নক্ষত্রদের থেকে ছড়িয়ে পড়ে মৌল, এবং সেই মৌল-যৌগগুলিই পাওয়া যায় আমাদের শরীরে, আমাদের গোটা প্রকৃতিতে। একইভাবে আমাদের পৃথিবীতে যে পরিমাণ সোনা উত্তোলিত হচ্ছে এবং আগামীতে হবে, সেগুলিও নক্ষত্রের ধুলিকণা থেকে তৈরি হয়েছে। অণু-অণু সোনা ধীরে ধীরে একত্রিত এবং পুঞ্জীভূত হয়েছে। কয়েকশো কোটি বছর পরে সেই সোনাই পাওয়া যাচ্ছে খনির গহ্বরে।

খনির অতলে ঢুকে পড়লেই সোনা মেলে না…

এখানেও একটা ব্যাপার রয়েছে। কয়লার মতো খনির অতলে ঢুকে পড়লেই সোনা মেলে না। গভীর ভূগর্ভে তাপ, চাপ, এবং আগ্নেয়গিরির নানাবিধ রাসায়নিক ক্রিয়ায়, গলিত ম্যাগমার সঙ্গে মিশে সোনার অণুগুলো ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর বিভিন্ন শিলাস্তরে। যখন গরম জল বা গ্যাস সেই শিলাগুলোর ফাঁক গলে বেরিয়ে আসতে থাকে, তখন তার সঙ্গে উঠে আসে সোনার কণা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ফুটন্ত তরল ঠান্ডা হয়, এবং সোনা জমে ওঠে কোয়ার্টজ বা শিলার ফাটলে। এইভাবে, হাজার হাজার বছর ধরে তৈরি হয় সোনার শিরা-উপশিরা, এর ডাকনাম হচ্ছে ‘গোল্ড ভেইন’ (Gold Vein)।

সোনা বানানোর প্রক্রিয়া খুঁজতে শুরু করেছি আমরা…

তবে সব সোনা মাটির নিচে লুকিয়ে নেই। কিছু সোনা নদীর স্রোতের সঙ্গে বেরিয়ে আসে ছোট ছোট দানার আকারে। বহু গল্পে, বহু নথিতে এমন ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় যেখানে সোনার খোঁজে মানুষ নদীর জলে হাঁটু ডুবিয়ে ঘুরে বেরিয়েছে এবং ঝুড়িতে উঠে এসেছে দানা দানা সোনা। সর্বহারা মানুষের ভাগ্য ঘোরাতে যা যথেষ্ট ছিল সেই সময়ে! তবে এখন মানুষের চাহিদা বেড়েছে, ফলে সোনা খোঁজা ছেড়ে সোনা বানানোর প্রক্রিয়া খুঁজতে শুরু করেছি আমরা। ‘অ্যালকেমি’র (Alchemy) মতো অপরসায়নের কথা বলছি না। মানুষ এখন চেষ্টা করছে পিরিয়ডিক টেবিলে সোনার আশপাশে থাকা মৌল থেকে ইলেকট্রন সরিয়ে সোনা সৃষ্টির, যা আদতে কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে এখনও।

পারমাণবিক বিক্রিয়াতে যে পরিস্থিতি ল্যাবরেটরিতে তৈরি করতে হয়, তা ভীষণ ব্যয়বহুল

সোজা কথা হচ্ছে, ল্যাবরেটরিতে সোনা তৈরি করা খুব কঠিন এবং প্রায় অসম্ভব একটি প্রক্রিয়া। পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটাতে যে পরিস্থিতি ল্যাবরেটরিতে তৈরি করতে হয়, তা ভীষণ ব্যয়বহুল। সোনার নিউক্লিয়াসে থাকে ৭৯টি প্রোটন, অতএব কোনও ধাতুকে সোনায় রূপান্তরিত করতে তার পরমাণুতেও ৭৯টি প্রোটন আনতে হয়। আর এখানেই সমস্যা! পারদের নিউক্লিয়াসে ৮০টি প্রোটন থাকে। সামান্য কয়েক গ্রাম সোনা পারদ থেকে তৈরি করতে যে বিপুল খরচ হবে, তার চেয়ে কয়েক গুণ কম ব্যয়ে খনি থেকে সোনা উত্তোলন সম্ভব। তাছাড়া পারমাণবিক বিক্রিয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক, তাই এই ধরনের প্রক্রিয়া শুধুমাত্র গবেষণাগারের কঠোর নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে করা হলেও রুম টেম্পারেচারে পরিবর্তিত ধাতুকে আনা হলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে, ঘটে যেতে পারে বিশাল দুর্ঘটনা। তাই আমাদের পৃথিবীর জঠরে আদরে বেড়ে ওঠা সোনাকেই ভালবাসুন…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *