Explained: বিশ্বজুড়ে মোটা হওয়ার ‘মহামারী’তে মুছে যেতে পারে আস্ত একটা জেনারেশন – Bengali News | World Grows Sicker and Fatter as High Blood Sugar Fuels Obesity Driven Early Deaths, Lancet Study Reveals
মোটা হওয়ার ‘রোগ’ বিশ্বজুড়ে। স্থূলতা বা ‘ওবেসিটি’ দ্রুত হারে বাড়ছে। অধিকাংশ রোগভোগেরই অন্যতম মূল কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই মেদবৃদ্ধি। অবিলম্বে বাড়তি মেদ কমাতে না পারলে সেটা মহামারীর পর্যায়ে পৌঁছতে আর দেরি নেই। কোনও একটা বা দুটো দেশের এই সমস্যা না। উন্নত থেকে উন্নয়নশীল – সর্বত্রই এই একই রোগ আজ মাথা তুলছে। সম্প্রতি ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণার ফলাফলে এমনটাই প্রকাশিত হয়েছে, যা দেখে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞ থেকে চিকিৎসক মহল-ও।

ল্যানসেটের ‘গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ স্টাডি’-তে প্রকাশিত, গত ১০ বছর ধরে মানুষের রোগভোগের প্রকৃতি পাল্টেছে। যার অন্যতম বড় কারণ, বায়ুদূষণ, ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ। তবে সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ‘হাই ব্লাড সুগার’ ও ‘ওবেসিটি’ -তে আক্রান্তরা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই সব রোগ বাড়তে বাড়তে এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছবে, যে প্রতিরোধের ব্যবস্থা না করলে পৃথিবীর বুক থেকে আস্ত একটা ‘জেনারেশন’কেই মুছে দিতে পারে।
ল্যানসেটে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে-
- চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতি সত্ত্বেও গত ১০ বছরে রোগে ভুগে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে ১১%।
- হাই কোলেস্টেরল ও হাই ব্লাড প্রেশারে ভুগে মারা যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে ১৫%
- হাই ব্লাড সুগার সংক্রান্ত রোগে ভুগে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে ৬%

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এই পরিসংখ্যানের জন্য মানুষের ব্যস্ত লাইফ-স্টাইলকেই দায়ী করছেন। তাঁদের মতে গত ৫০ বছরে কোনও দেশের সরকার বা স্বাস্থ্য দফতর ‘ওবেসিটি’ বা মোটা হওয়ার প্রবণতা কমাতে তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করেনি। তাঁরা বলছেন, ‘হেলান দিয়ে বসে থাকা, প্রসেসড খাবার বেশি খাওয়া ও ক্যালরি না মেপে খাওয়া– এখন আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। সঙ্গে জুড়েছে বেশি নুন, বেশি মিষ্টি ও বেশি ট্রান্স-ফ্যাট দেওয়া খাবার খাওয়ার প্রবণতাও।’ বিশ্বজুড়েই এই প্রবণতার বাড়বাড়ন্ত দেখতে পাওয়া গেছে। বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত হয়ে কোল্ড ড্রিঙ্কসের মতো বেশি চিনি দেওয়া তরল পানীয়, বার্গার-স্যান্ডউইচের মতো প্রসেসড মাংস দেওয়া খাবার বেশি করে খাওয়ার প্রবণতা এতটাই বেড়েছে যে আজ সেটা রীতিমমতো আশংকার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৈজ্ঞানিকরা দেখিয়েছেন, হাই ব্লাড প্রেশারের কারণে হৃদরোগের সমস্যা ও স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা চড়চড় করে বাড়ছে। আজ বিশ্বজুড়ে যে তিনটি রোগে মানুষ সবচেয়ে বেশি মারা যাচ্ছেন, হৃদরোগ তার মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে। বেড়েছে ধূমপান ও দূষণের কারণে রোগে ভুগে মৃত্যুর হারও। ল্যানসেটের সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে, কোভিড মহামারীর পর ডিপ্রেশন ও উৎকণ্ঠা-উদ্বেগে (anxiety) আক্রান্তদের সংখ্যাও প্রবল হারে বেড়েছে। আগে কখনও এমন ভয়াবহ পরিসংখ্যান কোনও গবেষণায় ধরা পড়েনি।

তবে রোগে আক্রান্তদের সংখ্যার বিচারে এগিয়ে ‘ওবেসিটি’ বা মেদবৃদ্ধি। আজ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রতি ৮ জনের মধ্যে একজন ওবেসিটি-তে আক্রান্ত। এই রোগে গতবছরই আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ কোটি ছাড়িয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হল, এই রোগ ছোট-বড় মানে না। কৈশোর পেরোনোর আগেই প্রায় ১৬ কোটি শিশু এই রোগে আজ আক্রান্ত। বাকি প্রায় ৯০ কোটি প্রাপ্তবয়স্কর ওজন তাঁদের উচ্চতার সঙ্গে এতটাই খাপছাড়া ভাবে বেশি যে তাঁরা ‘ওবেস’ বা অতিরিক্ত মোটা।
পরিসংখ্যান বলছে,
- ১৯৯০ থেকে ২০২২-এর মধ্যে ছোটদের মধ্যে প্রতিবছর ওবেসিটি বেড়েছে চারগুণ হারে
- বড়দের মধ্যে প্রতি বছর দ্বিগুণ হারে।
- শুধু ব্রিটেনেই প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ স্থূলতায় আক্রান্ত।
- ৮০ লক্ষ মহিলা ওবেসিটিতে আক্রান্ত।
- পুরুষদের মধ্যে সংখ্যাটা প্রায় ৭৫ লক্ষ।
- ব্রিটেনে প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ কিশোর অতিরিক্ত মোটা।
- কিশোরীদের মধ্যে প্রায় ৬ লক্ষ ওবেসিটি ধরা পড়েছে।