৯ ঘণ্টা ধরে চলে চন্দ্রনাথের জেরা, ইডি অফিস থেকে বেরিয়ে মন্ত্রী বললেন…, বাংলার মুখ
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গতকাল ফের একবার তলব করা হয়েছিল রাজ্যের মন্ত্রী চন্ত্রনাথ সিনহাকে। এই আবহে ইডির অফিসে গিয়েছিলেন এই তৃণমূল নেতা। দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা পর তিনি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অফিস থেকে বের হন। এদিকে তিনি ইডি অফিস থেকে বের হতেই সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে শুরু করেন চন্দ্রনাথকে। জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ ছিল, ইডি ডাকলেই আমাকে আসতে হবে। আজ ডেকেছিল। আমি এসেছি। যা যা প্রশ্ন ছিল তার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। ইডি কিছু নথি নিয়ে আসতে বলেছিল। তা জমা দিয়েছি।’ তবে ফের তাঁকে ডাকা হবে কিনা, এই নিয়ে মন্ত্রী জানান, তাঁকে আপাতত কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, চন্দ্রনাথকে ইডি হেফাজতে নিতে পারবে না। তবে তাঁকে যখনই ডাকা হবে, তখনই মন্ত্রীকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির দফতরে গিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। উল্লেখ্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পর প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চার্জশিটে নাম থাকা দ্বিতীয় মন্ত্রী হলেন চন্দ্রনাথ সিনহা। ইডির তরফে অভিযোগ, নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছিল। কিন্তু গত ৬ সেপ্টেম্বর চন্দ্রনাথ বিচারভবনের ইডি বিশেষ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিনের আবেদন জানান। আদালত ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁর জামিন মঞ্জুর করে।
প্রসঙ্গত, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তের সময় কুন্তল ঘোষের একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়েছিল। সেখানে বহু নাম ছিল। তাতে চন্দ্রনাথ সিনহারও নাম ছিল বলে দাবি করে ইডি। এই আবহে বোলপুরের বিধায়কের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছিল। সেখান থেকে একাধিক নথি এবং ৪১ লাখ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছিল। তারপর চার্জশিটে চন্দ্রনাথের নাম লেখে ইডি। এর আগে ২০২২ সালের জুলাইয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল ইডি। পরবর্তীতে তাঁকে সিবিআইও গ্রেফতার করেছিল। তাঁকে এসএসসির নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও যুক্ত করেছিল সিবিআই।