Pakistan-USA: আমেরিকাকে রেয়ার আর্থ ‘ঘুষ’ দিচ্ছে পাকিস্তান? কতটা চাপ ভারতের? – Bengali News | Pakistan is giving rare earth ‘bribes’ to America, speculation is growing, but how much pressure on India
আন্তর্জাতিক মহলে চর্চা তুঙ্গেImage Credit: Social Media & TV9 Bangla GFX
সত্যিই নিলামে উঠেছে পাকিস্তান? গত সেপ্টেম্বরের একটা গোপন চুক্তির পর থেকেই যেন প্রশ্নটা বারবার উঠছে আন্তর্জাতিক আঙিনায়। আর চুক্তিটা কার সঙ্গে জানেন? আমেরিকা! আর চুক্তির নেপথ্যে? সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিফ মুনির! নামটা শুনেই বুঝতে পারছেন, ডাল ম্যা কুছ কালা তো জরুর হ্যা! সে দেশ তো বটেই, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবরটা অন্তত তেমনই।
পাকিস্তানের মাটিতে শাহবাজ শরীফ নামমাত্র প্রধানমন্ত্রী হলেও, পাকিস্তানের আসল ভাগ্য এখন সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিফ মুনিরের হাতে, তা মনে হয় খুব একটা বলার অপেক্ষা রাখে না। পাকিস্তানে কান পাতলেই শোনা যায় মুনিরই নিজেকে দেশের সর্বেসর্বা মনে করেন। যার অনুমতি ছাড়া নাকি দেশে একটি পাতাও নড়ে না। এখন অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের কাছে চরম নাস্তানাবুদ হওয়ার পর আসিফ মুনির যেন তার পেশাই বদলে ফেলেছেন। তিনি এখন ফিল্ড মার্শাল কম, বরং একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘সেলসম্যান’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। অভিযোগ নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তিনি দেশের সম্পদ ও সার্বভৌমত্বকেও বাজি রাখছেন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, মুনির যেন গোটা দেশটাই ‘বিক্রির জন্য’ (On Sale) বোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
সেলসম্যান মুনির
ঘটনার সূত্রপাত তখনই, যখন আসিফ মুনির পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে সঙ্গে নিয়ে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে মুনিরকে দেখা যায় এক্কেবারে সাধারণ সেলসম্যানের মতো ব্রিফকেসে করে পাকিস্তানের খনিজ সম্পদের নমুনা ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরছেন। তার মধ্যেই ছিল রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট। যার বর্তমান চাহিদা এক্কেবারে আকাশছোঁয়া। যা নিয়ে কাড়াকাড়ি চলছে গোটা পৃথিবীতেই। আসছি এই প্রসঙ্গে…. কিন্তু জানেন শুধু বিরল মৃত্তিকা ধাতু মানে ওই রেয়ার আর্থই নয় — শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তানের বন্দর, এমনকি আমেরিকান ড্রোন ঘাঁটি তৈরির জায়গাও ট্রাম্পের কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তুরস্ককেও নাকি করাচির কিছু জমি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানি মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, এই গোপন বৈঠকের পরেই আমেরিকার মিসৌরিতে থাকা ইউএস স্ট্র্যাটেজিক মেটালস (US Strategic Metals) নামের একটি বেসরকারি কোম্পানির কাছে পাকিস্তান থেকে রেয়ার আর্থের প্রথম চালান পাঠানো হয়েছে। সংবাদ সংস্থা ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকায় পাঠানো এই প্রথম চালানে অ্যান্টিমনি , কপার কনসেনট্রেট এবং নিওডিমিয়াম ও প্র্যাসিওডিমিয়াম-এর মতো বিরল মৃত্তিকা উপাদান ছিল।
কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলছেন এই চালানই নাকি নিলামের প্রথম ধাপ। বদলে আমেরিকা পাকিস্তানকে তেল শোধনাগার ও জ্বালানি উৎপাদনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। অর্থাৎ, পাকিস্তান দিচ্ছে সম্পদ — আর নিচ্ছে প্রযুক্তি, অস্ত্র ও ঋণ।
সূত্রের খবর, ৮ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যে একটি MOU (সমঝোতা স্মারক) স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির পক্ষ ছিল পাকিস্তানের এফডব্লিউও এবং আমেরিকার US Strategic Minerals। তারা একসঙ্গে রেয়ার আর্থ খনিজ উত্তোলন ও সহযোগিতার বিষয়ে পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় — এই MOU কেউই দেখেনি! কেবল স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানটিই প্রকাশ্যে দেখানো হয়েছিল, কিন্তু এর আসল বিবরণ গোপন রাখা হয়েছে।
মোবাইল ফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি, রাডার, মিসাইল, এমনকি স্যাটেলাইট পর্যন্ত তৈরি হয় এই রেয়ার আর্থ দিয়ে। গোটা বিশ্বেই এই খনিজের মানে এই রেয়ার অর্থের দাম ও চাহিদা দুই-ই এখন আকাশচুম্বী। যার সিংহভাগ নিয়ে বসে আছে চিন। কিন্তু তীক্ষ্ম নজর রয়েছে আমেরিকার। তাই পাকিস্তান এই সুযোগ কাজে লাগাতে চায় — কিন্তু তাদের হাতে পর্যাপ্ত প্রযুক্তি বা টাকা নেই খনিজ তুলতে ও প্রক্রিয়াজাত করতে। এদিকে সূত্রের খবর, এর জন্য ওই সংস্থা পাকিস্তানে পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের তোড়জোড়ও করছে।
ভারতের চাপ কোথায়?
শুধু খনিজ সম্পদ নয়, আসিফ মুনির নাকি এখন আরব সাগরের পাসনি বন্দরও আমেরিকাকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এই বন্দরটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ — কারণ এটি চিনের গোয়াদর বন্দর থেকে মাত্র ১১২ কিলোমিটার দূরে এবং ইরানের চাবাহার বন্দরের খুব কাছেই।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহলের অনেকেই বলছেন, যদি আমেরিকা পাসনির নিয়ন্ত্রণ নেয়, তাহলে তারা শুধু পাকিস্তানের সম্পদের ওপর নয়, ইরান ও ভারতের কার্যকলাপের ওপরও সহজে নজর রাখতে পারবে। অর্থাৎ, পুরো অঞ্চলেই একটি সামরিক ত্রিভুজ গড়ে উঠবে — যা পাকিস্তান নয়, বরং আমেরিকার শক্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে।
কেন এমন করলেন মুনির?
এই মুনিরই একসময় বালুচিস্তানের খনিজ সম্পদ চিনের কাছে বিক্রি করেছিলেন, পরে একই অঞ্চল এখন তুলে ধরছেন আমেরিকার কাছেও। সবচেয়ে বড় বিস্ময়, এই চুক্তিতে পাকিস্তান সরকারের কোনও মন্ত্রক স্বাক্ষরই করেনি। বরং চুক্তিটি করেছে সেনাবাহিনীর অধীনস্থ এফডব্লিউও (Frontier Works Organisation) — যার মানে দাঁড়ায়, পুরো বিষয়টি সরাসরি মুনিরের নিয়ন্ত্রণে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে রাগে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। গোপন চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে ইমরান খানের দলও।
প্রশ্ন উঠছে — একজন সেনাপ্রধান কেন নিজের দেশকে এমনভাবে বিক্রি করতে চাইবেন?বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের কাছে চূড়ান্ত পর্যুদস্ত হওয়ার পর আসিফ মুনির নিজের অহংকার রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। আর তাতেই যেন এক সময়ের সেনানায়ক এখন অনেকের চোখে ‘সেলসম্যান’। অনেক বিশ্লেষকই বলছেন, ট্রাম্পকে খুশি করতে গিয়ে দেশের ভাগ্যটাই আমেরিকার হাতে তুলে দিচ্ছেন আসিফ মুনির। এই চুক্তিগুলো নিছক কোনো বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, এটি একটি গভীর রাজনৈতিক সওদা। আর যে সওদায় মুনির যেন নিজের হাতে পাকিস্তানের ধন-ভাণ্ডারের চাবি তুলে দিচ্ছেন আমেরিকার হাতে। যার জেরে পাকিস্তানের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ঝুঁকির মুখে তো পড়ছেই। সঙ্গে চিনের সঙ্গে সম্পর্কও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আর এই করতে করতে গোটা পাকিস্তানটাই একদিন নিলামে উঠে যাবে না তো?