Festival: কেন বলা হয় বাঙালির ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’? জেনে নিন প্রতিটি উৎসবের অর্থ – Bengali News | What is the meaning of bengali baro mase tero parbon
কেন বলা হয় বাঙালির ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’? জানুন প্রতিটি উৎসবের অর্থImage Credit: Getty Images
বাঙালি মানেই সব জায়গায় পৌঁছতে লেট! বাঙালি মানেই অলস, বাঙালি মানেই ঘরকুনো— আরও কত্ত কী! আর সেই বাঙালি যখন উৎসবের মরসুম আসে, তখন হয়ে যায় সবচেয়ে চনমনে। আসলে বাঙালি উৎসবপ্রিয় একটা জাতি। ঋতুর পালাবদলের মতোই বাঙালিদের জীবনে উৎসব আসে একের পর এক। তাই তো কথায় আছে, “বারো মাসে তেরো পার্বণ”! প্রকৃতি, ধর্ম, সংস্কৃতি ও লোকাচারের মেলবন্ধনে এই পার্বণগুলো বাঙালির জীবনকে রঙিন করে তোলে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এই তেরো পার্বণ ঠিক কোন কোন উৎসবকে বোঝায়।
১) বাংলা নববর্ষ –
বাঙালির বারে মাসে তেরো পার্বণের প্রথমেই যেটা আসে পয়লা বৈশাখে, বাংলা নববর্ষ। এদিন দেখা যায় দোকানে দোকানে হালখাতা, বাড়িতে ঐতিহ্যবাহী রান্না, আর সবার মুখে হাসি। এ যেন বাঙালিয়ানার এক প্রকৃত প্রতিচ্ছবি।
২) জামাই ষষ্ঠী –
জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে ষষ্ঠী পুজো করা হয়। এই দিন শাশুড়িরা জামাইকে বাড়িতে ডেকে নানা খাবার পেটপুরে খাওয়ায় এবং আশীর্বাদ করেন।
৩) রথযাত্রা –
আষাঢ় মাসে হয় রথযাত্রা। প্রথমে হয় সোজা রথ। আর তার ৮দিন পর হয় উল্টোরথ। পুরী তে তো বটেই, সেইসঙ্গে মাহেশ ও আরও নানা জায়গায় রথযাত্রা ধুমধাম করে পালিত হয়।
৪) শিব পুজো –
গোটা শ্রাবণ মাসজুড়ে শিবের ভক্তরা বিশেষ করে শিব পুজো করে থাকেন। সকলের বিশ্বাস এই মাসে মহাদেবের পুজো করলে জীবনে বিরাট পরিবর্তন হয়। জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসে।
৫) মনসা পুজো –
গ্রাম বাংলায় এই পুজো মহাসমারোহে হয়। মাটির মূর্তি, মনসা গাছ বা মনসার থানে পুজো হয়। ঘট স্থাপন করা হয়। মনসা সাপের দেবী। তাই তাঁর আরাধনা করে সর্পদংশন এড়ানোর কামনা করেন অনেকে।
৬) জন্মাষ্টমী –
হিন্দুদের এক জনপ্রিয় উৎসব জন্মাষ্টমী। এদিনটি ভগবান বিষ্ণুর অবতার কৃষ্ণের জন্মদিন হিসেবে পালন করা হয়। ভাদ্রমাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্মাষ্টমী।
৭) দুর্গাপুজো –
বাঙালিদের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। যা বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে অন্যতম। কমবেশি সারা দেশজুড়েই এই উৎসব পালিত হয়।
৮) কালীপুজো –
দশমহাবিদ্যার প্রথম মহাবিদ্যা কালী। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে বাঙালিরা কালীপুজো উদযাপন করেন। যা দীপান্বিতা কালী পুজো বলেও পরিচিত। দেশের নানা প্রান্তে এই দিনটিতে আলোর উৎসব দীপাবলিও পালিত হয়।
৯) ভাইফোঁটা –
বাঙালিরা যে উৎসবকে ভাইফোঁটা বলে, তা দেশের নানা প্রান্তে ‘ভাইদুজ’ বলেও পরিচিত। এ ছাড়া এই দিনকে ভ্রাতৃদ্বিতীয়ও বলা হয়। কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
১০) অঘ্রানে নবান্ন –
গ্রাম বাংলায় এই উৎসবের বিরাট গুরুত্ব রয়েছে। অগ্রহায়ণ মাসে নতুন ধান ওঠার সময় এই উৎসব পালিত হয়। সকলেই প্রার্থনা করেন, যেন অধিক শস্য লাভ হয়।
১১) পিঠেপুলি উৎসব –
পৌষ মাসে বাঙালিরা পিঠেপুলি উৎসবে মেতে ওঠে। এই সময় অনেকে নতুন গুড়, চাল দিয়ে নানারকম সুস্বাদু পিঠেপুলি তৈরি করে থাকেন।
১২) সরস্বতী পুজো –
মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যাদেবীর আরাধনা করা হয়। স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে তো বটেই, পাশাপাশি অনেকে বাড়িতে সরস্বতী পুজো করে থাকেন।
১৩) দোলযাত্রা –
বসন্ত কাল মানেই রঙের খেলা, রঙের মেলা দোলযাত্রা। বৈষ্ণবদের বিশ্বাস ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোল পূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ রঙ (আবির বা গুলাল) নিয়ে রাধারাণী ও অন্য গোপীদের সঙ্গে খেলায় মেতেছিলেন।