Rail Station: ‘নামহীন স্টেশন’, বর্ধমানের এই স্টেশন সম্বর্কে জানলে অবাক হবেন – Bengali News | This station of west Bengal did not have name for a long time, know the reason
নয়া দিল্লি: সারা দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ ট্রেনে ভ্রমণ করেন। তবে রেলের অনেক তথ্যই এখনও অনেকের অজানা। ভারতের রেলওয়ে নেটওয়ার্ককে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম বলে উল্লেখ করা হয়। এই বিরাট নেটওয়ার্কের মধ্যে রয়েছে এমন একটি স্টেশন যেখানে রবিবার সারাদিন কোনও বাঁশি বাজে না।
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলা থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে এই স্টেশন। সেখানে রবিবার কোনও ট্রেন বাঁশি বাজায় না। বাঁকুড়া-মাসাগ্রাম রুটের যাত্রীবাহী ট্রেন থামে এই স্টেশনে। কিন্তু রবিবার এই স্টেশন সম্পূর্ণ নীরব থাকে।
কারণটা জানলে তো অবাক হয়ে যাবেন। স্টেশন মাস্টার টিকিট কিনতে বর্ধমান শহরে যান, সেই কারণে টিকিট কাউন্টার এবং অন্যান্য সমস্ত পরিষেবা বন্ধ থাকে। এই কারণেই রবিবার সারাদিন ট্রেনের বাঁশি বাজে না।
এই রেলওয়ে স্টেশনের আর একটি বিশেষত্ব হল, এর কোনও অফিশিয়াল নাম ছিল না দীর্ঘদিন। টিকিটগুলি রায়নগর হিসেবে ছাপা হত, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে যায়। গোটা দেশে স্টেশনের সংখ্যা প্রায় ৭১১২টি। এর মধ্যে বাংলার এই স্টেশন একেবারে আলাদা।
বর্ধমানের রায়না এলাকার কাছেই রয়েছে এই স্টেশন। স্টেশনে গেলেই দেখতে পাওয়া যেত ফাঁকা একটি হলুদ রঙের বোর্ড। আসলে নাম নিয়ে একটা বিতর্ক ছিল। রায়নগর নাম ব্যবহার করায় আপত্তি রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। অনেকেই চান, স্টেশনে নাম হোক রায়না। পরে অবশ্য পুরনো নাম রায়নগর ফিরে পায় ওই স্টেশন।
দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বাঁকুড়া থেকে মশাগ্রাম পর্যন্ত ন্যারোগেজ লাইনে ট্রেন চলত একটা সময়। ১৯৯৮ সালে রেল এই লাইনটি ব্রডগেজ করার পরিকল্পনা করে রেল। তিন ধাপে কাজ হয়। প্রথমে বাঁকুড়া থেকে সোনামুখী, পরে সোনামুখী থেকে রায়নগর এবং সব শেষে রায়নগর থেকে বর্ধমান-হাওড়া কর্ডলাইনের মশাগ্রাম পর্যন্ত এই লাইন সম্প্রসারিত করা হয়।