Airstrikes in Kabul: কাবুলে ‘হামলা’, তালিবানদের মন্ত্রী নয়াদিল্লিতে আসতেই চটল পাকিস্তান? – Bengali News | Explosions Rock Kabul Amid Taliban’s Diplomatic Overtures Toward India
কাবুল: কেঁপে উঠল আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল। বৃহস্পতিবার রাতে পরপর পড়ল বোমা। নিমেশে ধ্বংস হয়ে গেল তেহরিক-ই-তালিবানের একাধিক ঘাঁটি। কিন্তু কারা এই হামলা চালাল? সেই নিয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, কাবুলে হওয়া ঘটনার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। বলে রাখা প্রয়োজন, আনুষ্ঠানিক এই ঘটনাকে এখনও ‘হামলা’ বলে দাগায়নি তালিবান সরকার।
তবে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পাকিস্তানের সেনা সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এই হামলা তাঁদেরই মস্তিষ্ক প্রসূত। এমনকি, হামলার পরপরই পাক-বিরোধী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবানের প্রধান নুর ওয়ালি মেহসুদ এবং তার সহকারী প্রধান কারি সাইফুল্লাহ মেহসুদের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে বেশ কয়েকজন। কিন্তু কিছু সময় পর দুই মেহসুদই হামলা থেকে নিরাপদ থাকার বার্তা দিয়েছেন।
‘হামলা’ হয়েছে, কেঁপেছে কাবুল। সেখানে কারওর প্রাণ গিয়েছে কিনা তা স্পষ্ট করেনি তাঁদের প্রশাসন। কারা ‘হামলা’ চালিয়েছে, সেই নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে তালিবান সরকার। না মুখ খুলেছে টিটিপি নিয়ে। না নাম করেছে পাকিস্তানের। একদিকে তালিবানরা যখন ‘চুপ’, সেই সময় গরম গরম ভাষণ দিচ্ছে পাকিস্তান। জঙ্গি মেরে বদলা নিয়েছে বলেই দাবি করেছে তাঁরা। এদিন পাক সেনার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর বা আইএসপিআর-র তরফে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তান সীমান্তে অভিযান চালিয়ে মোট ৩০ জন টিটিপি ‘সন্ত্রাসবাদীকে’ খতম করা হয়েছে। তবে এই অভিযানের সঙ্গে কাবুলের হামলা কোনও সম্পর্ক রয়েছে কিনা তা স্পষ্ট করেনি তাঁরা। এদিন আইএসপিআর-র ডিজি জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বললেন, ‘আফগানিস্তানের কাছে হাত না পেতে খাইবার পখতুনখোয়ার সরকারের উচিত নিজেদের জনগণকে রক্ষা করা।’
কাবুলে ‘হামলা’, তালিবান মন্ত্রীর ভারত সফর আর এই আবহে পাকিস্তানের এমন মন্তব্যকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। ছয় দিনের সফরে ভারতে এসেছেন তালিবানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। শুক্রবারই তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। কাবুলে পুনরায় দূতাবাস চালু করার প্রসঙ্গে আলোচনা হয় দু’পক্ষের মধ্য়ে। ওয়াকিবহাল মহল, বলছে, তালিবানদের আফগানিস্তানকে প্রশাসনিক ভাবে স্বীকৃতি না দিলেও, তাঁদের সঙ্গে অলিখিত ভাবে রসায়ন ঠিক করছে নয়াদিল্লি। নিরাপত্তা মহলের মতে, পাকিস্তানকে শায়েস্তা করতে তালিবানদের হাতে রাখতে চায় নয়াদিল্লি।