TMC on Khagen Murmu: ফটো সেশন করতে গিয়ে ফাটল মুখ? খগেন-হামলায় কী যুক্তি তৃণমূলের - Bengali News | Mamata, Other TMC Leaders Defend Themselves After Grisly Attack on Khagen Murmu - 24 Ghanta Bangla News
Home

TMC on Khagen Murmu: ফটো সেশন করতে গিয়ে ফাটল মুখ? খগেন-হামলায় কী যুক্তি তৃণমূলের – Bengali News | Mamata, Other TMC Leaders Defend Themselves After Grisly Attack on Khagen Murmu

Spread the love

কলকাতা: নাক দিয়ে, মুখ দিয়ে গলগল করে বেরচ্ছে রক্ত। রুমাল চাপা দিলেও থামছে না। যে কেউ বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর রক্তাক্ত মুখ দেখলে শিউড়ে যাবে। কেন হল? কীভাবে হল? এই নিয়ে প্রথম প্রতিক্রিয়া শোনা যায় ঘটনাস্থল থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে দাঁড়িয়ে থাকা খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে। ঘটনার নিন্দা করেন, তবে আবভাবে এও বুঝিয়ে দেন, এটা আসলে জনগণের ক্ষোভ ছিল। তারপর দিনভর তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা কার্যত একই সুরে রা মেলান।

তৃণমূলের ‘মাথা থেকে পা’, কারা কী বললেন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক:

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: কারও প্ররোচনায় পা দেবেন না, এমন কোনও ঘটনা যাতে না ঘটে। এটা কাম্য নয়। কারও উপর কোনও আঘাত নয়। যে যার মতো আসবে কথা বলবে চলে যাবে। সবার অধিকার আছে। আসুন সবাই মানুষের পাশে এসে দাঁড়াই।

এরপর তিনি বলেন, “৩০-৪০টি গাড়ি নিয়ে বন্যা কবলিত এলাকায় গেলে ক্ষোভ তো বাড়বেই।

সোশ্যাল মিডিয়াতেও মুখ্যমন্ত্রী পোস্ট করে জানান, “যখন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ, ত্রাণ এবং উদ্ধারকাজে ব্যস্ত, তখন বিজেপি নেতারা বন্যা কবলিত এলাকায় বিপুল সংখ্যক গাড়ির কনভয় নিয়ে পৌঁছে যান। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়ে এবং স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে কোনও খবর না দিয়ে তারা সেখানে চলে যায়। এরপরেও কীভাবে প্রধানমন্ত্রী রাজ্য প্রশাসন, স্থানীয় পুলিশ বা তৃণমূল কংগ্রেসকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করেন?”

কুণাল ঘোষ, তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক: খগেন মুর্মু ও শঙ্কর ঘোষের হামলার ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে একটা বিকৃত প্রচার চলছে। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস কোনও মতেই এই ঘটনাকে সমর্থন করে না। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় রাজনীতি করবে, ত্রাণ নয়! ফটো সেশন করতে যাবে। মানুষ তো ক্ষেপে যাবেই। দশটা গাড়ি নিয়ে ফটো শ্যুট করতে গিয়েছিলেন। এরা তো মানুষের সুখ-দুঃখে থাকেন না।

নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়কা তথা তৃণমূলের উত্তর কলকাতা কোর কমিটি সদস্য: এরকম ঘটনা কোনও মতেই কাম্য নয়। কিন্তু ওনারা গেলে ওনাদেরকেই মারছেন, ধরছেন কেন? ওদেরই গাড়ি ভাঙচুর হয়, ওরাই মার খায়। যেখানেই অশান্তি, সেখানেই ওনারা চলে যাচ্ছেন।

উদয়ন গুহ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী: কে বলল এটা তৃণমূল করেছে? সাধারণ মানুষ ক্ষেপে গিয়ে ওনার উপর হামলা চালিয়েছে বলে মনে হয়।

অরূপ চক্রবর্তী, ৯৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর: গতকাল যে ঘটনা ঘটেছে, তা সত্যিই নিন্দনীয়। কিন্তু নাগরাকাটার স্থানীয় বিধায়ক কোথায়। উনি তো মালদহের সাংসদ। ভুতনি জলের তলায়, গঙ্গার ভাঙনে জনজীবন বিধ্বস্ত। উনি নিজের অঞ্চলে না গিয়ে ওখানে গেলেন কেন? তা হলে কি বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব? যখন গাড়িতে উঠছিলেন তখনও মুখে রক্তের কোনও চিহ্ন নেই। কিন্তু গাড়ি থেকে যখন নামছেন তখন মুখ পুরো রক্তাক্ত। এনআইএ কেন, সিআইএ-কে নিয়ে এসে তদন্ত করুক। এমন আক্রমণ নিন্দনীয়। কিন্তু বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্বে এই কাজ হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা দরকার।

সোমবার নাগরাকাটায় বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছিলেন মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। কিন্তু মাঝপথে হামলার মুখে পড়েন গেরুয়া শিবিরের এই দুই জনপ্রতিনিধি। ভেঙে দেওয়া হয় সাংসদ-বিধায়কদের গাড়ির কাচ, চলে লাঠির মার। সব মিলিয়ে তৈরি হয় উত্তাল পরিস্থিতি। যা প্রতিরোধে কার্যত ব্যাকফুটে পড়তে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও।

এই হামলায় গুরুতর ভাবে আহত হয়েছেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। একাধিক ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, তাঁর নাক-মুখ ফেটে গলগল করে রক্ত বেরচ্ছে। রুমাল, গামছা চেপেও সেই রক্তস্রোত ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। রক্তে সব ভিজে লাল হয়ে যাচ্ছে। এই ছবি মোটেই স্বাভাবিক নয়। ফলত সেদিন দিনভর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চড়ে রাজনীতি। রাজ্যের শাসকদলের দিকেই দায় ঠেলে দেয় গেরুয়া শিবির। সরব হন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।

রাজনীতি তো চলছে, গ্রেফতার হয়েছে? শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত খগেন-শঙ্করের উপর হামলার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা হতে চললেও এখনও কাউকে গ্রেফতার করেতে পারেনি পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় বিজেপির তরফে মোট ৮ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হলেও, এখনও পর্যন্ত পাকড়াও শূন্য। এই পরিস্থিতিতে পুলিশকে ‘ডেডলাইন’ বেঁধে শুভেন্দুর সাফ কথা, ‘আজ বিকালের মধ্যে অভিযুক্তদের মধ্যে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা না নিলে, আগামিকাল কলকাতা হাইকোর্টে দ্বারস্থ হব।’

এ প্রসঙ্গে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবশ্য দাবি, ‘পুলিশ আগে কোনটা করবে? সময় দিতে হবে তো। আপনারা কি চান আগে গ্রেফতারি নাকি বন্যা মোকাবিলা? কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *