Mount Everest: হিমালয়ের দুর্যোগের পেছনে কলকাঠি জিনপিং-এর? – Bengali News | Hundreds still stranded near everest as rescuers battle heavy snow after shock blizzard
প্রবল তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত হিমালয়। উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি ও ধসে যেমন জনজীবন বিপর্যস্ত, তেমনই হিমালয়ের বুকেও নেমে এসেছে ভয়াবহ দুর্যোগ। বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে ওঠার পথ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই মুহূর্তে প্রায় সাড়ে তিনশো থেকে চারশো অভিযাত্রী ওই রুটে আটকে রয়েছেন।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, গতপরশু রাত থেকে কপ্টারের সাহায্যে প্রায় সাড়ে তিনশো অভিযাত্রীকে নামানো হয়েছে। কিন্তু এখনও বহু অভিযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে বিভিন্ন মাউন্টেনিয়ারিং এজেন্সি।
রয়টার্সকে নরওয়ের পর্বতারোহী জেন ওয়েনার বলেছেন, ‘আমি আগেও এভারেস্টে উঠেছি, আরও কঠিন শৃঙ্গ জয় করেছি। কিন্তু এবারের অভিজ্ঞতা অভূতপূর্ব। হিমালয় যেন ঠিক করেই নিয়েছিল, আমাদের আর এগোতে দেবে না। ঝড় এতটাই প্রবল ছিল যে দাঁড়িয়ে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। অনেককে চোখের সামনে গড়িয়ে নামতে দেখেছি।’ অভিযাত্রীদের দাবি, এভারেস্টের তিব্বতের দিকের রুট, যা তুলনামূলকভাবে সহজ বলে ধরা হয়, সেখানেই এবার পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। প্রবল তুষারঝড়ে শৃঙ্গের রাস্তাই হারিয়ে গেছে।
প্রশ্ন উঠছে, প্রকৃতির এই রোষের পেছনে মানুষের ভূমিকা নেই তো? বছরের পর বছর ধরে এভারেস্টের গায়ে জমছে প্লাস্টিক, বর্জ্য, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির জঞ্জাল। অনেকের মত, হয়তো প্রকৃতিই প্রতিশোধ নিচ্ছে মানুষের এই অযত্নের জন্য।
তবে আরও এক সম্ভাবনার ইঙ্গিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। কয়েক সপ্তাহ আগে তিব্বতে এক সভা থেকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঘোষণা করেছিলেন, তিব্বতের সামরিক ঘাঁটি থেকে নতুন ও আধুনিক পরীক্ষানিরীক্ষা চালাবে পিপলস লিবারেশন আর্মি। কেউ কেউ মনে করছেন, সেই পরীক্ষারই কোনও প্রভাব হিমালয়ের এই বিপর্যয়ের পেছনে থাকতে পারে। যদিও তার সরকারি প্রমাণ মেলেনি।
অভিজ্ঞরা বলছেন, এভারেস্ট কোনওদিনই সহজে ধরা দেয় না। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এভারেস্ট অভিযানের জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়েছে যে অনেকেই এখন একে প্রায় ‘পিকনিক’ ভাবছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, এই অবহেলাই কি হিমালয়ের এই ক্রোধের কারণ?