US Shutdown Explained: আমেরিকায় বাজেট নিয়ে অচলাবস্থা, চড়চড়িয়ে বাড়ছে সোনার দাম; ভারতে কী প্রভাব? – Bengali News | US Shutdown Explained: Shutdown of Budget in America, Gold Prices Skyrocketing; What is The Impact on India?
আমেরিকায় শাটডাউন। আর তার কারণে অচলাবস্থা বিশ্বের অর্থনীতিতে। একদিকে যখন ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ধাক্কা ভারতের বাজার সম্পূর্ণ এখনও সামলে উঠতে পারেনি। আর সেই সময় আর এক ধাক্কা এসে লাগল গোটা বিশ্বের বাজারে। যার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারতের অর্থনীতি।
শাটডাউন কী?
শাটডাউন, যাবে বাংলায় বলে অচলাবস্থা। মার্কিন কংগ্রেসে বাজেট পেশের সময় রিপাবলিকান ও ডেমক্র্যাটরা হেলথ কেয়ার ফান্ডিং নিয়ে নিজের অবস্থানে অনড়। আমেরিকার সরকার সেনেটরদের সমর্থন পায়নি। আর সেই কারণেই লক করে দেওয়া হয়েছে বাজেট। এই অচলাবস্থার কারণে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে আমেরিকার একাধিক প্রয়োজনীয় সরকারি পরিষেবা।
এটিকে কেবল আমেরিকার অভ্যন্তরীণ সমস্যা বলে দাগিয়ে দেওয়া যে ঠিক নয়, তা বোঝা যায় যখন সেই সমস্যার প্রভাব পড়তে শুরু করে গোটা বিশ্বের বাজারে। ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। ফলে, নয়া এই সঙ্কট দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আগামীতে যে আরও জটিল করে তুলবে, সে কথা বলার আর অপেক্ষা রাখে না।
কবে উঠবে শাটডাউন?
এই শাটডাউন কবে উঠবে তা কেউ জানে না। এর আগেও বহুবার এমন অচলাবস্থার মুখে পড়েছে আমেরিকার প্রশাসন। ২০১৮-১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম টার্মে টানা ৩৫ দিনের শাটডাউন দেখেছিল আমেরিকাবাসী। তারও আগে ১৯৯৫-৯৬ সালে হয়েছিল ২১ দিনের শাটডাউন। এ ছাড়াও ২০১৩ সালে বারাক ওবামার সময় ১৬ দিনের শাটডাউন দেখেছিল গোটা বিশ্ব। তথ্য বলছে, ২০১৩ সালের ১৬ দিনের ওই শাটডাউনে আমেরিকার অর্থনীতি থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলার জাস্ট হারিয়ে গিয়েছিল।
অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ক্যাপিটাল আউটফ্লো
আমেরিকায় শাটডাউনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতের বাজারও। বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছেন অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জায়গায়। ফলে ভারতের বাজারে যে সব বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারী ছিল, তারাও তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবস্থায় দুর্বল হচ্ছে টাকার দাম। কারণ, আমেরিকায় অচলাবস্থার কারণে চাহিদা বাড়ছে ডলারের। ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে ডলার প্রতি টাকার বিনিময়মূল্য বাড়ছে। শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব কিছু ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে, শাটডাউন উঠে গেলে এই ধাক্কার প্রভাব যে আর থাকবে না, সেই কথা বলাই যায়।
চ্যালেঞ্জের মুখে ভারতের বাণিজ্য
ভারতের একাধিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষত বস্ত্রবয়ন, ওষুধ ও অন্যান্য সেক্টর এই কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। কারণ, আমেরিকার একাধিক সরকারি সংস্থা বন্ধ। অন্যদিকে আমেরিকার কাস্টমসও অনেক ধীর গতিতে কাজ করছে। ফলে, ভারত থেকে যা যা রফতানি করা হয় সেই সব পণ্য আমেরিকার মাটিতে নামাতে অনেক সময় লেগে যাবে। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারতীয় সংস্থাগুলোই। আর আগেই আমেরিকা ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছে। আর তারপর এই নতুন চ্যালেঞ্জের কারণে অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারতের বাজার, মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অর্থ ও কর্মসংস্থানে ঝুঁকি
শাটডাউনের কারণে আমেরিকার ৭ লক্ষেরও বেশি কর্মচারী তাদের বেতন পাচ্ছেন না। কাজ বন্ধ করেছেন অনেকেই। এর প্রভাব পড়বে সে দেশের বেসরিকারি সংস্থাগুলোতেও। ফলে, আটকে যেতে পারে তাদের বেতনও। আর আমেরিকায় সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্র মিলিয়ে কয়েক লক্ষ ভারতীয় কাজ করেন। ফলে, তাদের বেতন আটকে গেলে তার প্রভাব পড়বে রেমিট্যান্সের উপর। অর্থাৎ, সে দেশ থেকে সেখানে বসবাসকারী মানুষরা যে ভারতে টাকা পাঠান, টান পড়বে সেখানে।
শাটডাউন যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় ও সরকারি সংস্থায় কর্মী ছাঁটাই শুরু হয় তাহলে হইচই পড়ে যাবে দেশের বেসরকারী ক্ষেত্রেও। প্রায় সব ক্ষেত্রেই কাজ হারানোর একটা ভয় তৈরি হবে সে দেশে বসবাসকারী ভারতীয় কর্মীদের মনে। আর এর ফলে একটা অর্থনৈতিক মন্দার কথা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
দেশীয় প্রতিরোধ ক্ষমতা
আমেরিকার কারণে ভারতের অর্থনীতিতে একটা ধাক্কা লাগলেও তার প্রভাব কতটা পড়বে, সেটা বলা মুশকিল। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন সম্প্রতি কৌটিল্য ইকোনমিক কনক্লেভে বলেছেন, ‘ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে একটি স্থিতিস্থাপক অবস্থায় রয়েছে। যে কোনও ধাক্কা সামলে নিতে পারে এই অর্থনীতি’।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ভারতের জিডিপি সাধারণত দেশীয় বাজারের উপর নির্ভরশীল। ফলে, বিশ্ব বাজারের অস্থিরতা থেকে কিছুটা সুরক্ষা পায় ভারতের অর্থনীতি। এ ছাড়াও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একাধিক নীতিও ভারতের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
আগামীতে কী হবে?
আমেরিকার এই শাটডাউনের প্রভাব বিশ্ব বাজারে স্বল্পমেয়াদি হবে নাকি দীর্ঘমেয়াদি হবে সেটা নির্ভর করছে সে দেশে কতদিনে এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটে তার উপর। যদি সমস্যা দ্রুত সমাধান না হয় তাহলে সোনা সহ একাধিক পণ্যের দাম বাড়তে পারে। আর যত তাড়াতাড়ি এই সমস্যার সমাধান হবে, ভারতের বাজার ততই দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। তবে ভারতের কাছে বাড়তি সুবিধা হিসাবে রয়েছে নিজস্ব এক রক্ষাকবচ। আমাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি ও স্থিতিশীলতাই এই সমস্যার সামনে একটি রক্ষাকবচ, এই কথা বলাই যায়।