Diabetes: ডায়াবেটিস থাকলেও বিজয়ায় খেতে পারবেন ভরপুর মিষ্টি, যদি মানতে পারেন এই কটি নিয়ম – Bengali News | Tips and tricks for diabetics to stay healthy after eating sweets
পুজো শেষ মানেই বিজয়া দশমী। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা বাঙালি সংস্কৃতির অঙ্গ। তারপর কোলাকুলি সেরে জমিয়ে আড্ডা আর কব্জি ডুবিয়ে খাওয়া। বিজয়ার খাওয়া-দাওয়া মানেই মিষ্টির সমাহার। রসগোল্লা, পান্তুয়া, লেডিকেনি, চমচম, সন্দেশ, তালশাঁস, লাড্ডু আরও কত কী! এই সব লোভনীয় মিষ্টি এক থালা পেলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা বড়ই কঠিন। তাছাড়া না খেলে রুষ্ট হতে পারেন আত্মীয়স্বজন। উপায় থাকে না। এদিকে ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলে এই ভালবাসাই তখন বিষের সমান হয়ে দাঁড়ায়। তবে এই বিষয়ে একটু সচেতন হলেই উৎসব উপভোগ করা যায় স্বাস্থ্যকে সঙ্গী করে। রইল সেই টিপস।
পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ রাখুন – বিজয়ার দিনে মিষ্টি খাওয়া একেবারে নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। একটি ছোট সন্দেশ বা আধখানা রসগোল্লা খাওয়া যেতে পারে, কিন্তু একসঙ্গে কয়েকটি মিষ্টি খাওয়া রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে।
চিনির বিকল্প ব্যবহার করুন – বাড়িতে যদি আপনি নিজে মিষ্টি বানান, তবে সাধারণ চিনি না দিয়ে ‘স্টেভিয়া’, ‘এরিথ্রিটল’ বা ‘সুগার-ফ্রি’ মিষ্টিকারক ব্যবহার করতে পারেন। এগুলি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায় না, অথচ স্বাদও বজায় রাখে।
খালি পেটে মিষ্টি নয় – খালি পেটে মিষ্টি খাওয়া বিপজ্জনক, কারণ এতে ব্লাড সুগার হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে। তাই মিষ্টি খাওয়ার আগে কিছু ফাইবার বা প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন—চিরে, দই, বা বাদাম খান। এতে সুগারের ওঠানামা অনেকটা কম হয়।
পর্যাপ্ত জল পান করুন – বিজয়ার দিনে যাতায়াত, কথা বলা, খাওয়া—সবকিছুর ভিড়ে অনেকে জল খেতে ভুলে যান। অথচ শরীরে পর্যাপ্ত জল না থাকলে গ্লুকোজ জমে থাকে এবং সুগার লেভেল বাড়ে। তাই নিয়ম করে জল খান, বিশেষত মিষ্টি খাওয়ার পরে।
হালকা হাঁটাচলা করুন – বিজয়ার ভিড়, আড্ডা, খাওয়া—এসবের পর অন্তত ২০-৩০ মিনিট হাঁটা অভ্যাস করুন। এতে শরীরের ইনসুলিন কার্যকর হয় এবং অতিরিক্ত গ্লুকোজ পুড়ে যায়।
ফলের মিষ্টি বেছে নিন – যদি খেতে হয়, তবে খেজুর, নারকেল বা ফলের রস দিয়ে তৈরি মিষ্টি বেছে নিন। যেমন—নারকেল নারু, গাজরের হালুয়া, বা শুকনো ফলের লাড্ডু। এগুলোতে প্রাকৃতিক চিনি থাকে, যা তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর।
নিয়মিত রক্তে সুগার পরীক্ষা করুন – উৎসবের সময় অনেকেই ওষুধ ও পরীক্ষা ভুলে যান। এটা বিপজ্জনক। প্রতিদিন সকালে বা রাতে গ্লুকোমিটারে নিজের ব্লাড সুগার চেক করুন, যেন বাড়তি মিষ্টি খাওয়ার প্রভাব বোঝা যায়।
চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন – ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধ বা ইনসুলিন নিয়ম করে নিন। বিজয়ার সময় খাওয়া-দাওয়ার পরিবর্তন হলে ডাক্তারকে আগেই জানান, যাতে প্রয়োজনে ডোজ সমন্বয় করা যায়।