বিসর্জনের শোভাযাত্রায় রাজনৈতিক রেষারেষি, নজিরবিহীন অভিজ্ঞতা বালুরঘাটবাসীর
দুর্গাপুজোর বিসর্জন মানেই একদিকে ভক্তি-আবেগ, অন্যদিকে আনন্দ-উৎসবের আবহ। কিন্তু এবারের বিসর্জনের শোভাযাত্রা বালুরঘাটে রাজনৈতিক রঙ পেল। তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বালুরঘাটে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাজানো হলো দুটি আলাদা মঞ্চ, একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে বিজেপি। উৎসবের আবহে দুই দলের রেষারেষি শেষ পর্যন্ত শহরবাসীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: বালুরঘাটে পুজোর আবহে রাজনৈতিক অশান্তি, মঞ্চের জায়গা নিয়ে BJP-TMC দ্বন্দ্ব
কয়েকদিন আগেই বালুরঘাট থানা মোড়ে পুজো উদ্যোক্তাদের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য মঞ্চ বানানো নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। বৃহস্পতিবার তা আরও স্পষ্ট হয়। জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে রাস্তায় মুখোমুখি দুটি মঞ্চ, একদিকে তৃণমূল, অন্যদিকে বিজেপি। প্রত্যেকেই চেয়েছিল উৎসবের ভিড়ে নিজেদের উপস্থিতি ও প্রভাব দেখাতে। তৃণমূলের মঞ্চে ছিলেন বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র, টাউন সভাপতি সুভাষ চাকি-সহ দলের একাধিক নেতৃত্ব। অন্যদিকে বিজেপির মঞ্চে হাজির হন সাংসদ ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী এবং আরও বেশ কয়েকজন নেতা। দুই শিবিরের পক্ষ থেকেই শোভাযাত্রায় আসা ক্লাবগুলিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো চলছিল অবিরত।
রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার আবহকে আরও উসকে দেয় মাইকে বাজতে থাকা তৃণমূলের জনপ্রিয় স্লোগান ‘খেলা হবে’। তাতে উত্তেজনার পারদ আরও চড়তে থাকে। এক মঞ্চ থেকে উদ্যোক্তাদের ঠান্ডা পানীয় পরিবেশন শুরু হতেই অপর মঞ্চ থেকেও একই উদ্যোগ নেওয়া হয়। কে বেশি প্রভাব ফেলতে পারবে, তার প্রতিযোগিতা যেন দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল পুরো রাস্তা জুড়ে। উৎসবের আবেগেও রাজনীতির রং যে এভাবে মিশে যাবে, তা দেখে হতবাক শহরবাসী। প্রতি বছর বিসর্জনের শোভাযাত্রায় কোন ক্লাবের প্রতিমা কোন রাস্তায় যাচ্ছে, তা স্পষ্ট বোঝা যায়। কিন্তু এবারে দুই দলের রেষারেষিতে সেই পরিষ্কার ধারাটাই হারিয়ে যায় বলে অভিযোগ। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলির উচিত ছিল এই সময়ে আরও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দেওয়া, প্রতিযোগিতার নয়।