তাজমুলের নামে ‘অমর রহে’ স্লোগান, ‘তৃণমূল কর্মীরা অশিক্ষিত’ তোপ বিজেপির
দুর্গাপুজোর সপ্তমীর বিকেল। মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে নবনির্মিত একটি রাস্তার উদ্বোধনে গিয়েছিলেন রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী ও এলাকার বিধায়ক তজমুল হোসেন। উৎসবের আবহে স্থানীয় মানুষ আর দলীয় অনুগামীরা জড়ো হয়েছিলেন ওই অনুষ্ঠানে। প্রথমে সবকিছুই ছিল নিয়মমাফিক, ফিতে কাটা, করতালি আর ‘বন্দেমাতরম’ ধ্বনি। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয় মঞ্চে। উপস্থিত কয়েকজন কর্মী হঠাৎ স্লোগান দিতে শুরু করেন, ‘তজমুল হোসেন অমর রহে!’। মুহূর্তেই স্লোগানে গলা মেলায় আরও অনেকে। আর এই নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
আরও পড়ুন: সিপিএমের তরুণীর নৃত্য দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ কুণাল, দিলেন দলের তরুণদের বার্তা
জীবিত মন্ত্রীকে ‘অমর’ বানানোয় চারদিকে হাসি-ঠাট্টা থেকে কটাক্ষ সবই শুরু হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, প্রথমে একজন স্লোগান শুরু করলেও ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে ভিড়ের মধ্যে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই এক বয়োজ্যেষ্ঠ কর্মী আপত্তি জানিয়ে থামানোর চেষ্টা করেন। অবশেষে কয়েক দফা স্লোগানের পর কর্মীরাই নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে থেমে যান। ঘটনার পরদিন, অষ্টমীর রাতে ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি ঘিরে তীব্র কটাক্ষ শুরু হয়। হরিশ্চন্দ্রপুরের বিজেপি নেতা কিষান কেডিয়া বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে মন্ত্রীর আশপাশে কী ধরনের অশিক্ষিত মানুষজন রয়েছেন। বাংলা ভাষাটাই ঠিক মতো জানে না এরা। তাই জীবিত মানুষকে মৃত বানিয়ে স্লোগান দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে টাকার লোভেই এরা রাজনীতিতে এসেছে।
একই সুর শোনা যায় এলাকার সিপিআইএম নেতাদের গলায়। তাঁদের কথায়, এটা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার হলেও রাজনৈতিক কর্মীদের এভাবে অশিক্ষিতের মতো আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষার সর্বনাশ যে আমলে হয়েছে, সেই আমলেই এমন ঘটনা স্বাভাবিক। তবে মন্ত্রীর দিক থেকে কর্মীদের রক্ষার চেষ্টা স্পষ্ট। তজমুল হোসেন বলেন, এই রাস্তা এলাকার বহুদিনের দাবি ছিল। আবার উৎসবের মরশুমও চলছে। সেই উত্তেজনার আবহেই কর্মীরা ভুল করে ফেলেছিলেন। পরে নিজেরাই বুঝে স্লোগান বন্ধ করে দেন। উত্তেজনার বশে যে কারও ভুল হতে পারে।