Brain Rot Explained: Amoeba নয়, Social Media-ই খেয়ে নিচ্ছে আমাদের মস্তিস্ক! - Bengali News | Brain Rot Explained: Day after Day Social Media is Eating Human Brain Slowly, Amoeba is New Brain Eater! - 24 Ghanta Bangla News
Home

Brain Rot Explained: Amoeba নয়, Social Media-ই খেয়ে নিচ্ছে আমাদের মস্তিস্ক! – Bengali News | Brain Rot Explained: Day after Day Social Media is Eating Human Brain Slowly, Amoeba is New Brain Eater!

Spread the love

মস্তিস্ক-খেকো অ্যামিবার কথা শুনেই ভয় পাচ্ছেন! কী মৃত্যু ভয়? কিন্তু আপনাদের যদি বলি মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবার থেকে আরও ভয়ঙ্কর ‘দানব’ আগে থেকেই রয়েছে, যে প্রতিদিন কুরে কুরে খাচ্ছে আমাদের মস্তিষ্ক। ধীরে, ধীরে। নিঃশব্দে। আসতে আসতে আপনার মাথাকে নিয়ন্ত্রণ করছে সে। আফিমের নেশার মতো আপনি বুঁদ হয়ে পড়ছেন, কিন্তু বেরতে পারছেন না। এ কিন্তু মৃত্যু থেকেও বড় ভয়ঙ্কর।

ব্রেন রট কী?

যা বলছিলাম, ব্রেন রট বা মস্তিষ্কের পচন। এটা আসলে কোনও মেডিক্যাল টার্ম নয়। চলতি শব্দ। মূলত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরাই তৈরি করেছেন এই শব্দটি। কী এই ব্রেন রট? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে নিম্নমানের, অগভীর বা একঘেয়ে ডিজিটাল কনটেন্ট, যেমন ধরুন: মিম, ছোট ভিডিয়ো যেখানে প্রয়োজনীয় কোনও তথ্য নেই, তা দেখার ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার উপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তাকেই ‘ব্রেন রট’ বলা হয়। সোজা কথায়, এটি মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার অনুভূতি।

এই শব্দটিকেই ২০২৪ সালের ‘ওয়ার্ড অফ দ্য ইয়ার’ বা বছরের সেরা শব্দ হিসেবে বেছে নিয়েছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। তাহলে বুঝতেই পারছেন, শুধু আমাদের বাংলা নয়, বিশ্বজুড়ে মানব মাথার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই ব্রেন রট দানব।

কখন বুঝবেন আপনি ব্রেন রটে আক্রান্ত?

স্মার্টফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কেটে যাচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। রিলের পর রিল, শর্টসের পর শর্টস। সময় কীভাবে বইছে তার খেয়াল নেই। কিন্তু দিন শেষে মাথায় একটা অদ্ভুত শূন্যতা, কাজে মন বসছে না, ছোট ছোট জিনিসও মনে রাখতে পারছেন না। নিশ্চয়ই, আপনার সঙ্গেও এমনটা হয়? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে আপনি হয়তো ‘ব্রেন রট’ বা মস্তিস্কের পচনের শিকার।

ব্রেন রট কি আসলে রোগ?

ডাক্তারি পরিভাষায় ব্রেন রট বলে হয়তো কোনও রোগ নেই। তবে কিছু সাধারণ মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন দেখে এর লক্ষণ আন্দাজ করতে পারেন। যেমন ধরুন, একটি কাজে বেশিক্ষণ মনোযোগ দিতে না পারা। বই পড়া বা লম্বা সিনেমা দেখার মতো ধৈর্য হারিয়ে ফেলা। স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া। ফোন নম্বর, নাম বা ছোটখাটো তথ্য সহজে ভুলে যাওয়া। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া বা ঘুমানোর পরও সারাদিন ক্লান্ত লাগা বা মাথা কাজ না করা। এমনকি অনেক ছোটখাটো সমস্যার সমাধানেও আগের মতো মাথা কাজ না করা। আর একটা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ দেখা যায়, অনেকে বাস্তব জগতের মানুষের সঙ্গে মিশতেই পছন্দ করেন না। বুঝতে পারছেন কতটা ভয়ের?

কেন হয় ব্রেন রট? নেপথ্যের কারণগুলি কী কী?

আমাদের ডিজিটাল অভ্যাসই এর জন্য মূলত দায়ী। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি লাইক, কমেন্ট বা নতুন ভিডিয়ো আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক এক প্রকার হরমোন ক্ষরণ করে, যা আনন্দের অনুভূতি দেয়। এই সাময়িক আনন্দের জন্য আমরা বারবার স্ক্রিনে ফিরে যাই এবং এক অদ্ভূত লুপের মধ্যে আটকে পড়ি। এ ছাড়াও রিলস বা শর্টস-এর মতো ভিডিয়ো কনটেন্ট কখনও শেষ হয় না। একটার পর একটা ভিডিয়ো আসতেই থাকে। এর ফলে আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করি, যা আমাদের মস্তিষ্ককে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।

অনেকেই মনে করেন গান শোনা, চ্যাট করা ও কাজ করা অর্থাৎ মাল্টিটাস্কিং, যাতে নাকি প্রোডাক্টিভিটি বাড়ে। কিন্তু বাস্তবে এটি আমাদের মস্তিষ্কের ফোকাস করার ক্ষমতাকে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত করে।

মুক্তি মিলবে কীভাবে? জেনে নিন কয়েকটি সহজ উপায়

ডিজিটাল দুনিয়া থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়া আজকের দিনে একেবারেই সম্ভব নয়। কিন্তু সচেতন থাকলে এই ‘ব্রেন রট’-এর প্রভাব থেকে নিজেকে বাঁচানো সম্ভব। এর জন্য প্রথমেই আপনার ফোনে ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং বা স্ক্রিন টাইম ফিচার ব্যবহার করে কোনও নির্দিষ্ট অ্যাপের জন্য একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিন। আর যদি সেই অ্যাপ আনইন্সটল করতে পারেন, তার থেকে ভাল কিছুই হয় না।

সপ্তাহে অন্তত একটি দিন বা দিনের নির্দিষ্ট কিছু ঘণ্টা ফোন বা ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকা অভ্যাস করুন। সেই সময়টা বই পড়ুন, পরিবারের সঙ্গে গল্প করুন বা বাইরে ঘুরতে যান। যা দেখছেন, তা আপনার জীবনে কোনও মূল্য যোগ করছে কি না, নিজেকে এই প্রশ্ন করুন। শিক্ষামূলক বা সৃজনশীল কনটেন্ট দেখার চেষ্টা করুন। ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে থেকে ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার বন্ধ করুন। কারণ, ঘুমের আগে স্ক্রিনটাইম কমিয়ে দিলে ঘুম ভাল হয়। বিশ্রাম পাস মস্তিস্কও।

বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করুন। মাঠে খেলাধুলো করুন। বা এমন কিছু করুন যা অফলাইনে, বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে করা সম্ভব।

‘ব্রেন রট’ শব্দটি হয়তো মজা করে তৈরি, কিন্তু এর পেছনের সমস্যাটা একেবারেই মজার নয়। প্রযুক্তি আমাদের জীবনের অংশ, শত্রু নয়। ফলে, এর নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জরুরি। অক্সফোর্ডের এই স্বীকৃতি আমাদের সেই কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। তাই নিজের ডিজিটাল অভ্যাস নিয়ে বারে বারে ভাবুন ও পর্যালোচনা করুন। এ ছাড়াও এই অভ্যাসে লাগাম টানার এটাই সময়। আপনার মস্তিষ্ক কিন্তু আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাকে নিষ্ক্রিয় হতে দেবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *