Pink Cheeks Home Remedies: ব্লাশারকে বলুন বাই বাই, প্রাকৃতিক গোলাপি গাল এখন আপনার হাতের মুঠোয়! – Bengali News | How to get pink cheek using homemade products without using blusher
ব্লাশারকে বলুন বাই বাই, প্রাকৃতিক গোলাপি গাল এখন আপনার হাতের মুঠোয়!Image Credit: Canva
আর তো মাত্র কটা দিন, তারপরই দুর্গাপুজো। আর এই সময় কমবেশি প্রতিটি মেয়েকেই দেখা যায় অল্প সল্প মেকআপ করতে। কেউ কেউ ফুল মেকআপও করেন। এমন সময় অনেকে চান গালে গোলাপি রঙের আভা। ব্লাশার দিয়ে যে কাজ করা যায়। কিন্তু গোলাপি গাল পাওয়ার জন্য শুধু কি ব্লাশারই একমাত্র উপায়? যদি আপনি এমনটা ভেবে থাকেন, তা হলে আপনার ধারণা বদলানোর সময় এসেছে। নানা প্রসাধনীর অতিরিক্ত ব্যবহার ত্বকের জন্য বড় ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে, তাই বেছে নিতে পারেন প্রাকৃতিক উপায়। ঘরোয়া বেশ কিছু টিপস মেনে চললেই আপনার গাল হবে গোলাপি আর ঝলমলে। নিম্নে ৫টি টিপস আলোচনা করা হল।
গোলাপের পাপড়ি ও দুধ
গোলাপের পাপড়ির মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক পিগমেন্ট। যা আপনার ত্বকের রঙকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। তাই ব্লাশারের বিকল্প হিসেবে এটি দারুণ কার্যকরী।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
একখানা বাটিতে ৪-৫টি গোলাপের তাজা পাপড়ি নিন। এ বার এতে ২ চামচ দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে গালে লাগিয়ে রাখুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতি নিয়মিত করলে খুব দ্রুত ফল পাবেন।
বিটরুট আর গ্লিসারিন
বিটরুট বা বিট হল এমন একটি সবজি, যা প্রাকৃতিক গোলাপি রঙের জন্য পরিচিত। এর সঙ্গে গ্লিসারিন মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বক নরম ও গোলাপি হয়ে উঠবে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
প্রথমে একটি ছোট বিটের অর্ধেক অংশ কাটতে হবে। তারপর তা গ্রেট করে রস বের করে নিন। এবার এর সঙ্গে ১ চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি একটি তুলোর প্যাডে নিয়ে গালে লাগিয়ে নিন। ১০-১৫ মিনিট পর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চাইলে রাতে ঘুমোনোর আগেও ব্যবহার করতে পারেন।
অ্যালোভেরা জেল আর গোলাপ জল
গোলাপি আভা পাওয়ার জন্য অ্যালোভেরা জেল এবং গোলাপ জলের মিশ্রণও খুবই কার্যকরী। এটি ত্বককে নরম ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
একটি বাটিতে ২ চামচ অ্যালোভেরা জেল ও ১ চামচ গোলাপ জল মিশিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণটি গালে লাগিয়ে হালকা হাতে মালিশ করা প্রয়োজন। এর ১০ মিনিট পর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণটি রোজ ব্যবহার করলে যে কারও ত্বক নরম ও উজ্জ্বল থাকবে।
শসার রস আর মধু
শসা ত্বককে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে মধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে। এই দুটি উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার করলে যে কারও ত্বক হবে প্রাণবন্ত। সেই সঙ্গে গোলাপি আভা ফুটে উঠবে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
অর্ধেক শসা গ্রেট করে রস বের করে নিন। এবার এর সাথে ১ চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি তুলোর সাহায্যে গালে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন। এরপর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিন। নিয়মিত এই মিশ্রণ ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।
বাদাম তেল দিয়ে মালিশ
ত্বকে রক্তের সঞ্চালন বাড়াতে এবং উজ্জ্বলতা আনতে বাদাম তেল অত্যন্ত উপকারী। যা যে কারও ত্বকে পুষ্টি জোগায় এবং প্রাকৃতিক গোলাপি আভা তৈরি করে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
প্রতিদিন রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ২-৩ ফোঁটা বাদাম তেল হাতে নিয়ে গালে আলতো করে মালিশ করতে হবে। অন্তত ৫ মিনিট মালিশ করতে পারেন। এই ভাবে মালিশের ফলে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং ত্বক উজ্জ্বল হয়।
এই ঘরোয়া টিপসগুলো ব্যবহার করে যে কেউ প্রসাধনীর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজের ত্বককে রক্ষা করতে পারবেন। নিয়মিত এই উপায়ে ত্বকের পরিচর্যায় করলে তা হবে সুন্দর, সতেজ এবং উজ্জ্বল। অন্যরা গোলাপের মতো গাল দেখলে হিংসে করবে!