জামিনে মুক্তি পেতেই হামলা তামন্না খুনে অভিযুক্তের আত্মীয়দের ওপর, কাঠগড়ায় সিপিএম
নদিয়ার কালীগঞ্জ ফের অশান্ত। তামান্না খুন মামলায় অভিযুক্তের আত্মীয়ের উপর হামলার অভিযোগ উঠল সিপিএম কর্মীদের বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে মোলান্দিতে এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় আক্রান্ত রফিকুল শেখকে ভর্তি করা হয়েছে বহরমপুর মেডিক্যাল কলেজে।
আরও পড়ুন: তামান্নার মৃত্যুর তদন্তে অসন্তুষ্ট পরিবার, তদন্তকারী অফিসার বদল করলেন এসপি
অভিযোগ, সিপিএম কর্মী সাদ্দাম শেখ ও ঈদ মহম্মদসহ পাঁচজন রফিকুলের উপর আচমকা চড়াও হয়। মুর্শিদাবাদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক। রফিকুলের পরিবার মীরা ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুন তামান্না খুনের ঘটনায় মোলান্দি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওইদিন রাতেই খুনের মামলায় ধৃত আদর আলীর আত্মীয় বাদশা শেখকেও লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠে সিপিএমের বিরুদ্ধে। তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি। গুরুতর আহত বাদশাকে ভর্তি করা হয় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে। ওই ঘটনার পরদিনই কালীগঞ্জ থানায় মোট ২০ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়, যার মধ্যে সাদ্দাম শেখ ও ঈদ মহম্মদের নামও ছিল। জুলাই মাসে পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করলেও, সম্প্রতি জামিনে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফেরেন দু’জন।
স্থানীয়দের দাবি, জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ফের দাপট দেখাতে শুরু করেছেন সাদ্দাম ও ঈদ মহম্মদ। তারই জেরে শনিবার ফের এই হামলার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, কালীগঞ্জের সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, তাঁদের কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সিপিএম নেতা দেবাশিস আচার্য বলেন, তামান্না খুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৪ জন প্রকৃত অভিযুক্তকে পুলিশ ধরতে পারেনি। উল্টে বাম কর্মীদের ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে ঘটনার পর থেকে এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ফলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মোলান্দি ও আশপাশের এলাকায়।