Jalpaiguri: বিডিও-র চেম্বারে মারমুখী তৃণমূল, রণংদেহী মেজাজ দাপুটে তৃণমূল নেতার – Bengali News | TMC leader shouting at BDO office in Jalpaiguri
বিডিও অফিসে বিক্ষোভ তৃণমূল নেতারImage Credit: TV9 Bangla
জলপাইগুড়ি: রাজ্যের তরফে দেওয়া ১০০ দিনের বকেয়া টাকায় দুর্নীতির অভিযোগ। বিডিও-কে ঘেরাও রাজ্যের শাসকদলের। বিডিও-র চেম্বারের ভেতর কর্মীদের সঙ্গে রণংদেহী মেজাজ তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস ও তাঁর অনুগামীদের। বিডিও-কে ঘেরাও করে প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ দেখালেন দাপুটে এই তৃণমূল নেতা। বিডিও অফিসে বিক্ষোভের ঘটনায় আমলাদের পাশে দাঁড়িয়ে নেতাকে হুঁশিয়ারি দিল তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব। ঘটনাটি নিয়ে কটাক্ষ করল বিজেপি।
২০২৪ সালে ১০০ দিনের কাজের (MGNREGA) বকেয়া টাকা প্রদান করেছিল রাজ্য সরকার। ওই কাজ পরিচালনার জন্য গ্রামপঞ্চায়েত পিছু ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়। তৃণমূলের এসসি ওবিসি সেলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাসের অভিযোগ, সরকারের তরফে পাঠানো ওই টাকা জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের ৫টি গ্রামপঞ্চায়েত এখনও পায়নি। এই নিয়ে তাঁরা বিডিও থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের কাছে বারবার চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু কোনও উত্তর পাননি।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি সদর বিডিও অফিসে ওই ৫ টি অঞ্চলের প্রধান ও পঞ্চায়েতদের নিয়ে সদর বিডিও মিহির কর্মকারের চেম্বারে বৈঠকে বসেন কৃষ্ণ দাস। আর আলোচনা চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অফিস কর্মীদের উপর কার্যত চড়াও হন কৃষ্ণ দাস ও তাঁর অনুগামীরা। ওইসময় পুলিশ কার্যত নীরব দর্শক হয়েছিল।
অরবিন্দ গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান রাজেশ মণ্ডল অভিযোগ করেন, “আমরা টাকাও পাইনি। টাকা না দিলে বিডিও-র বিরুদ্ধে আদালতের দারস্থ হব আমরা।” সুব্রত সেন, রতন রায় নামে অঞ্চলের অস্থায়ী কর্মীদের বক্তব্য, তাঁরা ২০২৪ সালে ১০০ দিনের টাকা দেওয়ার কাজের জন্য নামের তালিকা করা সহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু এখনও ওই কাজের পারিশ্রমিক তাঁরা পাননি।
তৃণমূলের এসসি ওবিসি সেলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাস
বিডিও অফিসে বিক্ষোভ নিয়ে তৃণমূলের এসসি ওবিসি সেলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাস বলেন, “৫টি গ্রামপঞ্চায়েতে শতাধিক বুথ রয়েছে। প্রতি বুথে একজন করে কাজ করেছেন। তাঁদের পেমেন্ট করার জন্য এবং আরও অন্যান্য কাজের জন্য রাজ্য সরকার অঞ্চল প্রতি ২ লাখ টাকা করে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের ৫টি অঞ্চল এক টাকাও পায়নি। জনগণের টাকা। এই টাকা নয়ছয় করতে দেওয়া যাবে না। টাকা না পেলে বিডিও-র বিরুদ্ধে কোর্টে যাব।” বিডিও অফিসে মেজাজ হারানোর অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, “কোথায় মেজাজ হারিয়েছি? আমি লোকটাই এরকম। আমি লাউড স্পিকারে কথা বলি।”
তৃণমূলের অভিযোগ খারিজ করে বিডিও মিহির কর্মকার বলেন, “যে টাকা এসেছিল তা সমস্ত গ্রামপঞ্চায়েতের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। আমি তার হিসেব দেখিয়েছি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টাকা খরচ করা হয়েছে।” তৃণমূলের জেলা সম্পাদক বিকাশ মালাকার এই ইস্যুতে আমলাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিক্ষোভকে সমর্থন না করে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে কোনও অফিসার অসৎ নন। জানি না উনি দলবিরোধী কাজ করছেন কি না। সেটা দল সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা মনে করি, সরকারি আধিকারিকদের ঘেরাও না করে, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে যাঁরা টাকা পাননি, সেই টাকা পাইয়ে দেওয়া উচিত।”
বিডিও অফিসে তৃণমূলের বিক্ষোভের ঘটনা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সিপিএমের বক্তব্য, ১০০ দিনের টাকা আদায় করতে সিপিএম আদালতে লড়াই করছে। ১০০ দিনকে সামনে রেখে পেছনে পাড়ায় সমাধানের নামে ঠিকাদারির গল্প আছে। আর বিজেপির প্রাক্তন জেলা সম্পাদক শ্যাম প্রসাদ বলেন, “১০০ দিনের টাকা লুঠ করেছে এরা। তৃণমূল নেতা ও আমলারা মিলে চোরে চোরে মাসতুতো ভাই সেজে চুরি করেছে। কিন্তু এখানে চোরের উপর বাটপাড়ি হয়েছে। তাই লড়াই।”