লালগড়ে ফের বাঘের আতঙ্ক, জনাশুলি-লক্ষ্মণপুরের জঙ্গলে মিলল রয়্যাল বেঙ্গলের পায়ের ছাপ - 24 Ghanta Bangla News
Home

লালগড়ে ফের বাঘের আতঙ্ক, জনাশুলি-লক্ষ্মণপুরের জঙ্গলে মিলল রয়্যাল বেঙ্গলের পায়ের ছাপ

পুজোর ঠিক আগে ফের লালগড়ের জঙ্গলমহলে ছড়িয়ে পড়ল বাঘের আতঙ্ক। জনাশুলি ও লক্ষ্মণপুরের জঙ্গলে এদিন সকালে স্থানীয়রা পাতা কুড়োতে গিয়ে হঠাৎই দেখতে পান বেশ কিছু পায়ের থাবার ছাপ। খবরে আতঙ্ক ছড়াতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান বন দফতরের আধিকারিকরা।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে মিলল রয়্যাল বেঙ্গলের দেহ, বার্ধক্যজনিত কারণেই মৃত্যু, দাবি বন বিভাগের

প্রাথমিকভাবে বনকর্মীদের অনুমান ছিল, ছাপগুলি কোনও বড় বনবিড়াল বা নেকড়ে বাঘের হতে পারে। কিন্তু মাপজোখের পর নতুন করে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কারণ উদ্ধার হওয়া থাবার ছাপের দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ সেন্টিমিটার আর প্রস্থ ১০ সেন্টিমিটার, যা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সঙ্গে মিলে যায়। ফলে ফের লালগড়ের জঙ্গলে দক্ষিণরায়ের আগমনের আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে।

বন দফতর বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ তারা। ইতিমধ্যেই এলাকায় একাধিক জায়গায় ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি নজরদারিও আরও কড়া করা হচ্ছে। লালগড়ের জঙ্গলমহলে এর আগেও বহুবার বাঘের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে মেলখেড়িয়ার জঙ্গলে প্রথমবার বাঘের পায়ের ছাপ মিলেছিল। পরে বন দফতরের ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। কিন্তু সেই বাঘটিকে বশে আনা দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছিল। কয়েক মাস পর মেদিনীপুরের চাঁদড়া জঙ্গলে সেটির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। যদিও মৃত্যুর কারণ আজও ধোঁয়াশা শিকারিদের ফাঁদে পড়েই যে মৃত্যু হয়েছিল, সেই সন্দেহই প্রবল।

গত বছরও একইভাবে আতঙ্ক ছড়ায়। ওড়িশার সিমলিপাল থেকে ‘জিনাত’ নামে এক বাঘিনী ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়িতে ঢুকে পড়ে। পরে বাঁকুড়ায় বনদপ্তরের ফাঁদে ধরা দেয় সে। এরই মধ্যে চলতি বছরের শুরুতে এক পুরুষ বাঘকেও দেখা যায় বেলপাহাড়ি এলাকায় ঘোরাফেরা করতে। বন দফতরের অভিজ্ঞ আধিকারিকরা মনে করছেন, এই বাঘগুলি মূলত ওড়িশার সিমলিপাল রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে বেরিয়ে ঝাড়খণ্ড হয়ে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি লালগড়ের জঙ্গলমহলে প্রবেশ করছে। এ বারও একই রকম পথ ধরে দক্ষিণরায় ঢুকে পড়েছে বলে অনুমান। অর্থাৎ, পুজোর মুখে ফের আতঙ্ক ছড়াল জঙ্গলমহলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *