Supreme Court: ‘দু’মাসের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে…’, দেশের হাইকোর্টগুলিকে ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট – Bengali News | Decide on Bail Pleas Within Two Months Supreme Court Tells HC
নয়াদিল্লি: বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা যাবে জামিনের আবেদন। নিষ্পত্তি করতে হবে দু’মাসের মধ্যে। অভিযুক্ত বা দোষীদের মৌলিক অধিকার রয়েছে, এবার দেশের হাইকোর্টগুলিকে সেটাই বুঝিয়ে দিল শীর্ষ আদালত। শুক্রবার একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এমনই নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।
এদিন বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চে চলা একটি মামলায় বিচারপতিরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোনও জামিনের আবেদনকে ঝুলিয়ে রেখে আবেদনকারীকে অনিশ্চয়তার মধ্য়ে ঠেলে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি, এমন ‘অভ্য়াস’ একজন নাগরিকের অধিকার খর্বের সমান, সেই কথাটাও মনে করিয়ে দেয় শীর্ষ আদালত।
কোন পরিপ্রেক্ষিতে উঠে এল জামিন প্রসঙ্গ?
২০১৯ সালে বম্বে হাইকোর্টে একটি জামিন আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও ওই জামিনের আবেদন আদালতে গৃহিত হয় না। এই ভাবেই কেটে যায় ৬ বছর। অবশেষে ২০২৫ সালে সেই আর্জি খারিজ করে উচ্চ আদালত। এরপরেই আবেদনকারী দ্বারস্থ হন শীর্ষ আদালতে। শুক্রবার সেই নিয়েই ছিল শুনানি।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
বম্বে হাইকোর্টের ওই নির্দেশকে বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু এই দীর্ঘসূত্রিতার জন্য ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে উচ্চ আদালতকে। এদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আর মহাদেবন বলেন, ‘জামিনের আবেদন চেয়ে আদালতে দ্বারস্থ হওয়া আবেদনকারীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। সেই মামলাগুলির গুরুত্বের ভিত্তিতে বিচারপতিদের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।’
এই নির্দেশের সপক্ষে সংবিধানের দু’টি অনুচ্ছেদের কথাও তুলে ধরেন বিচারপতি। তাঁর কথায়, ‘শুনানির জন্য দিনের পর দিন এমন অপেক্ষা করে যাওয়া একদিকে মামলার গতিকে যেমন রোধ করে। ঠিক তেমনভাবেই বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে তা হতাশজনক। পাশাপাশি, এটি সংবিধানের ১৪ এবং ২১ ধারার পরিপন্থী।’
শুধুই হাইকোর্ট নয়, শীর্ষ আদালতের ‘নজরদারির‘ আওতায় পড়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলিও। শুনানি চলাকালীন বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, তদন্তকারী সংস্থাগুলিকেও তদন্তের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে তা ঝুলিয়ে রাখা যাবে না।