Pregnancy Unknown Facts: গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরের জীবাণু শিশুকে প্রভাবিত করে! - Bengali News | Pregnancy Unknown Facts: Microbiomes affects the fetus in womb - 24 Ghanta Bangla News
Home

Pregnancy Unknown Facts: গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরের জীবাণু শিশুকে প্রভাবিত করে! – Bengali News | Pregnancy Unknown Facts: Microbiomes affects the fetus in womb

Spread the love

একজন মায়ের শরীর শুধু শিশুকে জন্ম দেয় না, তাকে গড়ে তোলে ভিতর থেকে। আর এখানেই মায়ের শরীরে চলে নানাবিধ জৈবিক ক্রিয়া। তবে জানেন কি? মায়ের শরীরের অন্দরে যে কোটি কোটি মাইক্রোবায়োম ঘুরে বেড়ায়—তারা আসলে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে! মা ও শিশুর সম্পর্কটা আমাদের জীবজগতের সকল সম্পর্কের মধ্যে সবচেয়ে আদি। মায়ের জরায়ুতে ভ্রূণ যখন ক্রমশ বড় হয়, একটা প্রাপ্তবয়স্ক শরীরের সকল শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ারই প্রভাব পড়তে পারে শিশুর উপর। আর এখানেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মাতৃদেহের মাইক্রোবায়োমরা। জীবাণু-ব্যাকটেরিয়া তো শুনেছেন। ভাবছেন এটা আবার কিই! আমাদের প্রত্যেকের শরীরে আছে লক্ষ কোটি ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস, ভাইরাস—যাদের আমরা একত্রে বলি ‘মাইক্রোবায়োম’।

ভাবলে অবাক হয়ে যাবেন―আমাদের শরীরে থাকা এই জীবাণুর সংখ্যা আসলে আমাদের দেহকোষের যে সংখ্যা, তার সমান বা তার থেকেও বেশি! গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে যে মাইক্রোবায়োম থাকে, তা শিশুকে প্রভূত প্রভাবিত করে। ভ্রূণের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতাকে যেমন শক্তিশালী করে, পাশাপাশি মস্তিষ্কের নিউরোনদের ‘ওয়্যারিং’-এও প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে—মায়ের অন্ত্রাশয় ও প্রজনন অঙ্গের ব্যাকটেরিয়া আদতে শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে নানাবিধ সংকেত পাঠায়। সেই অনুযায়ী কাজ করে শরীরের বেশ কিছু হরমোন…

শিশুর জন্মের সময়, বিশেষ করে নরমাল ডেলিভারির সময়, মায়ের জন্মনালীর জীবাণু শিশুর শরীরে ঢোকে। এগুলোই শিশুর দেহের প্রথম মাইক্রোবায়োম—যা ভবিষ্যতে তার মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ভিত্তি তৈরি করে। আর যদি সিজারিয়ান চাইল্ড হয়, তবে শিশুর প্রথম জীবাণু আসে হাসপাতালের পরিবেশ থেকে—যা একেবারে আলাদা প্রভাব ফেলে। এক নামজাদা আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্রে প্রকাশিত হয়েছে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য। সোজা কথায়—মায়ের অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম ঠিক না থাকলে বা অসামঞ্জস্য ঘটলে, সন্তানের মস্তিষ্ক সঠিকভাবে গড়ে ওঠে না। বিশেষ করে শেখা, স্মৃতি ও মানসিক স্থিতি-এর মতো অংশগুলিতে সমস্যা দেখা দেয়। এমনটা বলছেন বিজ্ঞানীরাই।

এই আবিষ্কার শুধু বিজ্ঞানের জন্য নয়, চিকিৎসাশাস্ত্রের জন্যও যুগান্তকারী। হয়তো ভবিষ্যতে ডাক্তাররা প্রেগন্যান্ট মায়েদের ডায়েটে বিশেষ প্রোবায়োটিক যুক্ত করবেন, যাতে শিশুর মস্তিষ্ক আরও স্বাস্থ্যবান হয়। মানসিক অসুস্থতা প্রতিরোধেও এই ধরনের মাইক্রোবায়োমদের গুরুত্ব বাড়বে বলেই ধারণা গবেষকদের। এ জগতে মায়ের চেয়ে বড় আর কেউ নয়। জন্মের পরে মা যতটা গুরুত্বপূর্ণ এক শিশুর কাছে, জন্মের পূর্বে অর্থাৎ ভ্রূণ অবস্থায় মগজ-ঘিলুর তাত্ত্বিক গঠনের জন্যও এক বিশাল দায়িত্ব পালন করেন মা। তাই গর্ভাবস্থায় মায়ের খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন আর স্বাস্থ্য শুধু মায়ের জন্য নয়, আগামী প্রজন্মের মস্তিষ্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *