Bankura: ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই তৃণমূল ঘুরে ফের ঘরে ফিরলেন বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য - Bengali News | Bankura: Joined Trinamool in the morning, returned to BJP in the afternoon! - 24 Ghanta Bangla News
Home

Bankura: ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই তৃণমূল ঘুরে ফের ঘরে ফিরলেন বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য – Bengali News | Bankura: Joined Trinamool in the morning, returned to BJP in the afternoon!

Spread the love

সকালে তৃণমূলে যোগ, বিকালে ফের বিজেপিতে ফেরা!Image Credit: TV9 Bangla

বাঁকুড়া: সকালে তৃণমূলের কার্যালয়ে গিয়ে ঘটা করে তৃণমূলের ঝান্ডা ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য। তার ১২ ঘণ্টা যেতে না যেতেই ফের বিজেপির পতাকা কাঁধে নিয়ে নিজের ঘরে ফিরে গেলেন ওই পঞ্চায়েত সদস্য। বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের চিঙ্গানী গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচিত সদস্য গনেশ মল্লকে নিয়ে এভাবেই দিনভর চলল শাসক বিরোধী শিবিরের দড়ি টানাটানির খেলা।

২০২৩ সালের গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের চিঙ্গানী গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩ টি আসনের মধ্যে ৭ টি আসন পেয়ে বোর্ড গঠন করে বিজেপি। ৪ টি আসন পায় তৃনমূল। ১ টি করে আসনে জয়লাভ করে সিপিএম ও আইএসএফ। পরে সিপিএম-এর নির্বাচিত সদস্য তৃণমূলে যোগ দিলেও ওই পঞ্চায়েত থেকে যায় বিজেপির দখলেই। সম্প্রতি বাঁকুড়া জেলায় বিরোধী পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে নিজেদের কব্জায় নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে শাসক দল তৃণমূল।

বুধবার দুপুরে চিঙ্গানী গ্রাম পঞ্চায়েতের কামারকাঁটা ২৬০ এ ও ২৬০ বি এই দুটি বুথ থেকে নির্বাচিত বিজেপি সদস্য তারাপদ পাল ও গনেশ মল্লকে নিজেদের দলে যোগদান করায় তৃণমূল। রীতিমতো ঘটা করে তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক কার্যালয়ে ওই দুই পঞ্চায়েত সদস্যর হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেন তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুব্রত দত্ত। এরফলে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন যায় তৃণমূলের দখলে। কিন্তু তারপরেও শেষরক্ষা হল না।

১২ ঘণ্টা যেতে না যেতেই সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া দুই সদস্যের মধ্যে গনেশ মল্ল গতকাল সন্ধ্যায় ফের ফিরে যান নিজের ঘরে। বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার যুব সভাপতি কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে বিজেপির পতাকা কাঁধে তুলে নেন তিনি। দুপুরে দল বদল করা পঞ্চায়েত সদস্য গনেশ মল্ল যেখানে বিজেপিতে কাজ করতে না পারার যুক্তি দেখিয়েছিলেন, সেই গনেশ মল্ল সন্ধ্যায় বিজেপিতে যোগ দিয়ে বলেন, তাঁকে চাকরি ও বকেয়া টাকা পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তৃণমূলে।

সকালে তৃণমূলে যখন যোগ দিয়েছিলেন গণেশ বলেছিলেন, “আমি বিজেপিতে থাকাকালীনও কোনও কাজ পাচ্ছিলাম না। তাই বিজেপি থেকে তৃণমূল যোগ দিলাম। মানুষের উপহার করব। রাস্তাঘাট তৈরি হবে।”

আবার সেই গণেশই সন্ধ্যায় যখন ঘরে মানে বিজেপিতে ফিরলেন, তখন বললেন, “আমি আসলে টাকা পেতাম। আমাকে ভুল বুঝিয়ে টাকা দেব বলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। টাকাও দেয়নি, ভুল বুঝিয়ে বলেছিল, চাকরি দেওয়া হবে, আমার বউ আসলে অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি, সেই লোভে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে নিজের ভুল বুঝতে পারি।”

গনেশ মল্লর বারংবার এই দলবদল নিয়ে যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি সাজিয়েছেন শাসক ও বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বও। তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুব্রত দত্ত বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলায় বিজেপি নৈরাজ্য চালাচ্ছিল। তাই কর্মীরা বিতশ্রদ্ধ হয়ে তৃণমূলে এসেছেন।”

এদিকে বিজেপিতে পুনরায় যোগদানের পর শাসক দল পুলিশ দিয়ে গনেশ মল্লর পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে এই অভিযোগ তুলে সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখা। বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার যুব সভাপতি কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ভুল বুঝিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। এক জন ফিরে এসেছেন, বাকি দুজনও বুঝে ফিরে আসবেন। আসলে চাকরির টোপ দিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *