Donald Trump: ট্রাম্পের হাতে ওটা কীসের দাগ? মার্কিন প্রেসিডেন্টের শারীরিক অবস্থা কি সত্যি গুরুতর? – Bengali News | US President Donald Trump confirms he’s still alive by saying he’s alive during a live press conference
ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে এই কালো দাগ কীসের?Image Credit: X
ওয়াশিংটন: ৭৯ বছরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) বেশ কয়েকদিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিক বৈঠকে প্রকাশ্যে এলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাও বললেন। নিজের কানে শুনলেন, তাঁকে নিয়ে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কখনও অসুস্থ কখনও মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছে। সে কথা না হেসে উড়িয়ে দিলেও বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা কিন্তু আজও থামল না। বরং তাঁর সাংবাদিক বৈঠকের ফ্রেম ধরে ধরে বেশ কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, সাংবাদিক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা দিনভর কাটাছেঁড়া করে গেলেন। সবচেয়ে বেশি আলোচনায়, ট্রাম্পের হাতের একটি গোল কালো দাগ।
ট্রাম্প ক্যামেরার সামনে আসতে কখনও লাজুক বোধ করেছেন, এই অভিযোগ তাঁর সবচেয়ে বড় শত্রুও করবে না। ক্যামেরার সামনে আসতে ট্রাম্প ভালবাসেন। যেমন ভালবাসেন বিতর্কে থাকতে। ঠোঁটকাটা মন্তব্য করতে। কয়েকদিন আগেই তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেনের স্বাস্থ্য নিয়ে মন্তব্য করে বসেন ট্রাম্প। বিধির বিধান এমনই, সেই ট্রাম্পকে নিয়ে তাঁর একসময়ের ঘনিষ্ঠ ইলন মাস্কের মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্স-এ (টুইটার)-এ #Trumpdead ট্রেন্ডিং হয়ে থাকল। গত মঙ্গলবার থেকে আজকের আগে পর্যন্ত ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তাই আজ ট্রাম্পের সাংবাদিক সম্মেলনের সময় বারবার পিছনোয় জল্পনার আগুনে যেন ঘি পড়ে।
দিনকতক আগে ট্রাম্পের একটি ফোলা মুখের ছবি প্রকাশ্যে আসে। প্রায় ১৩ লক্ষ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা শুরু করেন, ট্রাম্প কি তবে গুরুতর অসুস্থ? আজ ট্রাম্পের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, তিনি কি শুনেছেন তাঁরই অসুস্থতা এমনকী মৃত্যু নিয়েও গুজব রটেছে? ট্রাম্প জবাবে বলেন, তিনি শোনেননি। তিনি কাজে ব্যস্ত ছিলেন বলে সাংবাদিক বৈঠক করতে পারেননি বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের পরেও জল্পনা থামল কই? ট্রাম্পের হাতে একটি কালো গোল দাগকে ঘিরে জল্পনা চরমে ওঠে। কেন বারবার ট্রাম্পের হাতে ওই দাগ দেখতে পাওয়া যায়? কেন মেক-আপ করে ওই দাগ ঢেকে প্রকাশ্যে আসেন ট্রাম্প? গত ফেব্রয়ারি মাসে এই নিয়ে একটি বিবৃতি পর্যন্ত দিতে হয় হোয়াইট হাউসকে। জানানো হয়, বারবার প্রচারে অনেকের সঙ্গে করমর্দন করেন ট্রাম্প। তাই সেখানে একটি স্থায়ী দাগ তৈরি হয়েছে। জল্পনা অবশ্য এতেও থামে না। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এর মধ্যে একদিন প্রকাশ্যে লিখে দেন, ট্রাম্প ‘অ্যাসপিরিন’ জাতীয় ওষুধ নেন। ব্যাস, ট্রাম্পের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হয়ে যায় জোর জল্পনা। পাশাপাশি, গল্ফ খেলে ফেরার সময় এক ছবি শিকারীর তোলা ছবিতে ট্রাম্পের মুখটি অত্যন্ত ফোলা দেখতে লাগে। পরেরদিন ট্রাম্প নিজেও তাঁর গল্ফ খেলার একটি ছবি শেয়ার করেন। সেই ছবিটি কবে তোলা- সেটাও স্পষ্ট হয় না।
তবে ট্রাম্পের অসুস্থতা ও মৃত্যুর জল্পনায় এক অন্য মাত্রা যোগ করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স-ও। ইউএসএ টুডে-র এক সাক্ষাৎকারে বারেবারে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে। তিনি বলেনও, যে ট্রাম্প সুস্থই রয়েছেন। কিন্তু তারপরেই বলে বসেন, কোনও কারণে যদি তেমন কোনও অঘটন ঘটে, তাহলে তিনি গত ২০০ দিনে যা যা শিখেছেন, সবটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত আমেরিকা ও আমেরিকার মানুষের সেবায়। ব্যাস! ভান্সের বক্তব্যের এই শেষ অংশটুকু নিয়ে মিডিয়ায় তোলপাড় পড়ে যায়। এর মধ্যে আবার করাল বেন নামের এক পড়ুয়া মেটা-য় মেলানিয়া ট্রাম্পের একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে ট্রাম্প-পত্নীকে কালো টুপি পরে ক্যামেরা আড়াল করতে দেখা যায়। সেটাও আবার ওয়াল্টার রিড হাসপাতালে। যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টদেরই চিকিৎসা হয়। এখানেই রয়েছে ট্রাম্পের জন্য বরাদ্দ বিশেষ প্রেসিডেন্সিয়াল কামরা। ট্রাম্প-পত্নী হাসপাতালে কী করছিলেন? সেই উত্তর অবশ্য দেয়নি হোয়াইট হাউস।
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের একদা প্রেস সচিব জেন সাকি দাবি করেন, আসলে ট্রাম্প দেশবাসীর নজর এড়িয়ে ছুটি কাটাতে গেছেন। ফক্স নিউজের সাংবাদিক পিটার ডুসি আজ ট্রাম্পকে সেই প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করে বসেন, ট্রাম্পের মৃত্যুর গুজব কি ট্রাম্পের নজরে এসেছে? জবাবে ট্রাম্পের কটাক্ষ, ‘আমাকে দুদিন দেখতে পাওয়া না গেলে এত কথা হয়। অথচ বাইডেন মাসের পর মাস কিছুই করেনি।’ আজকের সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প কেন অতিরিক্ত মেক-আপ করেছেন, সেই নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।