তুমি বিপজ্জনক প্রেমিক! উত্তমকে কেন এমন বলেছিলেন সুপ্রিয়া? – Bengali News | Supriya devi describe uttam kumar as dangerous lover
উত্তম কুমার। মহানায়ক। আজও বাঙালির কাছে তিনিই সেরা রোমান্টিক হিরো। এখনও মহিলা মহলে সুপুরুষদের নিয়ে আলোচনাচক্র বসলে, উত্তমই হয়ে ওঠেন আলোচনার মধ্যমণি। তাঁর হাসি, কথা বলা, নেশা ধরানো চাউনিতে আজও মাতাল হয়ে যায় সুন্দরীরা। উত্তম যখন সিনেপর্দায় ঝড়় তুলছেন, নানা বিনোদন ম্য়াগাজিনের প্রচ্ছদে জায়গা করে নিচ্ছেন, তখন উত্তমকে নিয়ে আধুনিকাদের মনে জেগে উঠত নানা ফ্যান্টাসি। প্রেমিক উত্তম কেমন হতেন, কেমন হত তাঁর আদর, তা নিয়ে কৌতুহল, ফিসফাসের শেষ ছিল না। কারণ, মনে মনে সবাই তো চাইতেন উত্তমের মতো প্রেমিক, উত্তমের মতো জীবনসঙ্গী। কিন্তু সিনেপর্দার সেই প্রেমিক উত্তম কী বাস্তবেও দারুণ প্রেমিক ছিলেন? সত্য়িই কি তাঁর চোখে ধরা পড়ত প্রেমের প্রতিটি রং? উত্তমের ঠিক কোন ম্যাজিকে বুঁদ হয়ে থাকত নারীদের মন? নাহ, এই প্রশ্নের উত্তর বার বার মহানায়কের কাছে রাখা হলেও, সদুত্তর পাওয়া যায়নি। বরং উল্টে উত্তমই তাঁর প্রিয় বেণু অর্থাৎ সুপ্রিয়া চৌধুরীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, হ্যাঁ গো বেণু, আমাকে মেয়েরা এত ভালবাসে কেন?
সময়টা সত্তর দশকের মাঝামাঝি। বেশ কয়েকটি ছবির শুটিং শেষ করে তখন কিছুদিনের বিশ্রামে রয়েছেন উত্তম কুমার। ময়রাস্ট্রিটের বাড়িতেই সুপ্রিয়ার সঙ্গে সুন্দর মুহূর্ত কাটাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু মহানায়কের কি আর বিরাম আছে? শুটিং শেষ হলেও, তাঁর বাড়িতে নিত্য সাংবাদিকদের যাওয়া আসা। ঠিক এই সময়ই এক সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপচারিতায়, সাংবাদিকের সামনেই সুপ্রিয়াকে প্রশ্ন করেছিলেন উত্তম। সুপ্রিয়ার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কেন উত্তমকে এত ভালবাসে মেয়েরা?
উত্তমের প্রশ্নে প্রথমে কিছুটা হতবাক হলেও, পরে অবশ্য হেসে ফেলেছিলেন বেণু। পরে উত্তমের হাতে হাত রেখে, স্পষ্ট বলেন, ”কারণ তুমি ডেঞ্জারেসলি হ্যান্ডসাম। মেয়েরা ভালোবাসে ভালোমানুষ নির্ভরযোগ্য স্বামী আর বিপজ্জনক সুন্দর প্রেমিক। এই সবই তোমার মধ্যে দেখেছে সবাই। আর এই কারণেই তো আমিও তোমার প্রেমে নিজেকে মেলে ধরেছি! ” সুপ্রিয়ার এমন কথায় সেদিন উত্তমও হেসে ফেলেছিলেন, সাংবাদিককে বলেছিলেন, তাহলে এসবে নিশ্চয়ই আমার কোনও দোষ নেই! আমি উত্তম, আমি তো এরকমই!