Hooghly Latest Update: শ্বাসরোধ করে খুন, দেহ টুকরো করে কেটে ভাসিয়ে দেওয়া হয় গঙ্গায়! বাঁশবেড়িয়ায় যুবক খুনে হাড়হিম তথ্য – Bengali News | Man killed his friend in hooghly West bengal
বাঁশবেড়িয়ায় যুবক খুনে হাড়হিম তথ্য
Image Credit: Tv9 Bangla
হুগলি: বন্ধুর ডাকে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন যুবক। তারপর থেকে আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবার নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করতেই ওই বন্ধুকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সেই ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে। জানা যাচ্ছে, অভিযুক্ত প্রথমে শ্বাসরোধ করে খুন করে। তারপর প্রমাণ লোপাটে দেহ চপার দিয়ে টুকরো-টুকরো করে কেটে গঙ্গায় ভাসিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। গোটা ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চাইল পরিবার।
ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির মগড়া থানা এলাকায়। সেখানেই বাঁশবেড়িয়া ঝুলুনিয়া এলাকার বাসিন্দা লক্ষ্মণ (৩৬)। গত ২১ অগস্ট পরিবারের তরফে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় মগড়া থানায়। পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এলাকায় স্নিফার ডগ এনে তল্লাশি চালানো হয়।পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তরফে গঙ্গাতে তল্লাশি চালানো হয়। ঘটনায় শিবনাথ সাউ ওরফে শিবুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মগড়া থানার পুলিশ শিবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করে।
জানা গিয়েছে, পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে দিঘায় ঘুরতে গিয়েছিলেন লক্ষ্মণ। সেখান থেকে ফিরে আসার পর শিবু তাঁকে স্থানীয় ক্লাবে ডেকে নিয়ে যান বলে দাবি করে পরিবারের। এই ঘটনার সঙ্গে শিবু যুক্ত আছে বলে প্রাথমিক অনুমান করে পুলিশ। এরপর শিবুকে গ্রেফতার করে জেরা করতেই লক্ষণকে খুনের কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরোনো শত্রুতার জেরেই খুন করা হয়েছে তাঁকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথমে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় লক্ষ্মণকে। খুনের পর প্রমাণ লোপাট করতে দেহ চপার দিয়ে টুকরো টুকরো করে গঙ্গায় ভাসিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা।
হুগলি গ্রামীণ জেলা পুলিশের ডিএসপি ক্রাইম অভিজিৎ সিনহা মহাপাত্র জানান, “নিখোঁজের একটা অভিযোগ দায়ের হয় মগড়া থানায়। আমরা সেই মতো শুরু করি।অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর নিখোঁজ যুবককে খুঁজে পেতে সব রকম প্রচেষ্টা চালায় পুলিশ। অভিযুক্তরা স্বীকার করেছে যুবককে তারা খুন করেছে। সেই মতো আমরা ঘটনার পুনর্নির্মাণ করি। খুনে ব্যবহৃত একটি ছুরি এবং গামছা উদ্ধার হয়েছে। এখনো পর্যন্ত দেহ পাওয়া যায়নি। আশেপাশের সমস্ত থানা রেল পুলিশকে আমরা জানিয়েছি।স্নিফার ডগ নিয়ে এসেও আমরা তল্লাশি চালিয়েছি। এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ ও খতিয়ে দেখা হয়েছে। এলাকার অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। দেহ খুঁজে পাওয়ার জন্য আমরা সব রকম প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।”
এ দিকে, লক্ষণের দেহ বা তাঁর দেহের অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। তাই বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের দল নামিয়ে গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
মৃত যুবকের বোন সুমিত্রা চৌধুরী বলেন, “১৫ দিন পর পুলিশ এসে বলছে লক্ষ্মণকে খুন করে গুম করে দেওয়া হয়েছে। অনেকদিন আগেই তো গ্রেফতার করা হয়েছিল শিবুকে তাহলে এতদিন পরে সে কেন স্বীকার করছে। এর পিছনে কোনও প্রভাবশালীর হাত আছে। পুলিশ সেটা খুঁজে বের করুক অথবা সিআইডি-কে দিয়ে তদন্ত করাক।” যুবকের ভাই রাহুল চৌধুরী বলেন, “পুলিশ যে দাবি করছে সেটা সঠিক নয়।সিবিআই তদন্ত হোক।”