COPD: বাড়িতে COPD-এর রোগী আছে? ভুলেও লাগাবেন না এই সব গাছ, যে কোনও সময় হতে পারে বড় বিপদ - Bengali News | Do not keep this plants at home if you have any COPD patients at home - 24 Ghanta Bangla News
Home

COPD: বাড়িতে COPD-এর রোগী আছে? ভুলেও লাগাবেন না এই সব গাছ, যে কোনও সময় হতে পারে বড় বিপদ – Bengali News | Do not keep this plants at home if you have any COPD patients at home

Spread the love

COPD বা ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টজনিত অসুখ। এই রোগের প্রভাবে ফুসফুস দুর্বল হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা কমে আসে। রক্তে বাড়তে থাকে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা। কমতে থাকে অক্সিজেনের মাত্রা। যা ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় মানুষকে। তাই এই রোগে ভুগছেন এমন মানুষদের জন্য আশপাশের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে ধুলো, ধোঁয়া বা তীব্র গন্ধযুক্ত কিছু উপাদান থাকলে শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই ঘরে কোন ধরনের গাছ রাখা হচ্ছে, সেটি নিয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। কোন কোন গাছ ভুলেও রাখা উচিত নয়?

১. পরাগরেণু উৎপন্ন করে এমন ফুলগাছ – গাঁদা, সূর্যমুখী, জুঁই, লিলি, ডালিয়া ইত্যাদি ফুলগাছ থেকে প্রচুর পরাগরেণু ছড়ায়। এই পরাগরেণু COPD রোগীর শ্বাসনালীতে অ্যালার্জি সৃষ্টি করে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এমনকি হাঁচি, কাশি, বুক চাপা পড়ার মতো উপসর্গ বাড়িয়ে তুলতে পারে।

২. সুগন্ধি ও তীব্র গন্ধযুক্ত গাছ – রজনীগন্ধা, চন্দ্রমল্লিকা বা গোলাপের মতো তীব্র গন্ধযুক্ত ফুল COPD রোগীর জন্য ক্ষতিকর। কারণ তীব্র গন্ধ শ্বাসনালীকে উত্তেজিত করে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির মতো সমস্যা বেড়ে যায়।

৩. অতিরিক্ত আর্দ্রতা বাড়ায় এমন গাছ – মানি প্ল্যান্ট, ফার্ন, পিস লিলি ইত্যাদি গাছ ঘরে অতিরিক্ত আর্দ্রতা সৃষ্টি করে। আর্দ্র পরিবেশে ছত্রাক (fungus) জন্মায়, যা COPD রোগীর ফুসফুসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ছত্রাকের স্পোর শ্বাসনালীর ভেতরে গিয়ে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

৪. কাঁটাযুক্ত গাছ – ক্যাকটাস বা অন্য কাঁটাযুক্ত গাছ দেখতে সুন্দর হলেও এগুলি ঘরে রাখলে COPD রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই ধরনের গাছে জমে থাকা ধুলো বা ছত্রাক অজান্তে শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

৫. ধূলিকণা জমে এমন পাতাওয়ালা গাছ – রাবার প্ল্যান্ট, বড় পাতার ফার্ন বা কলাগাছের মতো গাছে সহজেই ধুলো জমে থাকে। COPD রোগীরা ধুলোর প্রতি সংবেদনশীল হওয়ায় এগুলোতে শ্বাসকষ্ট ও কাশি বেড়ে যেতে পারে।

৬. বিষাক্ত রস বা গন্ধযুক্ত গাছ – কিছু গাছে (যেমন ওলকচু, মানি প্ল্যান্ট, ডাইফেনবাকিয়া) এমন রস থাকে, যা বাতাসে ছড়িয়ে COPD রোগীর শ্বাসনালীতে জ্বালা বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

কেন এসব গাছ এড়িয়ে চলা উচিত?

COPD রোগীর শ্বাসনালী এমনিতেই দুর্বল ও প্রদাহগ্রস্ত হন। সামান্য ধুলো, গন্ধ বা পরাগরেণুও তাঁদের শ্বাসকষ্টকে মারাত্মক করে তুলতে পারে। ফুলের পরাগরেণু অ্যালার্জি সৃষ্টি করে, তীব্র সুগন্ধ শ্বাসনালীর প্রদাহ বাড়ায়, আর আর্দ্র পরিবেশে ছত্রাক জন্মে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করে। ধুলো জমা বা বিষাক্ত রসযুক্ত গাছ আবার সরাসরি শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বাড়িতে COPD রোগী থাকলে সবসময় এমন গাছ নির্বাচন করা উচিত যেগুলি বাতাস পরিষ্কার করে, তবে ধুলো, গন্ধ বা পরাগরেণু ছড়ায় না—যেমন অ্যালোভেরা বা স্নেক প্ল্যান্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *