Purba Medinipur: অভিজিতের কেন্দ্রে একে একে পদ খোয়ালেন আদি বিজেপি নেতারা! দ্বন্দ্ব তুঙ্গে – Bengali News | Many old bjp leaders has lost their post in BJP in Abhijit Ganguly’s constituency
তমলুক: সম্প্রতি বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটির নাম প্রকাশিত হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের দাবি, সেই কমিটিতে দেখা গিয়েছে, ২০২১ সালে যারা ‘দাদার অনুগামী’ হিসেবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরা বুথ বা মণ্ডল সভাপতি না হয়ে সরাসরি জেলা সহ সভাপতি হয়ে যাচ্ছেন।
মহিষাদলের বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি গত বিধানসভায় বিজেপির প্রার্থী ছিলেন, তিনি জেলা সহ সভাপতির পদ খুইয়েছেন। তাঁকে সাধারণ সদস্য করে রেখে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি। এছাড়াও পদ হারিয়েছেন ময়নার আশিস মণ্ডল। ময়নার দাপুটে বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচিত আশিস মণ্ডল তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি ছিলেন। তমলুক পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলের নেতা হিসেবেও তিনি কাজ করছেন।
পদ খোয়ানোর পর আশিসবাবু স্পষ্টতই ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নিচ্ছেন, কারণ তিনি আদি বিজেপির সদস্য। যারা বিজেপির আদি কর্মী তাদের মনে আঘাত দিয়ে ভাল কিছু হওয়া সম্ভব নয়। বিজেপির কাছে আমার আবেদন, যারা দলের পুরনো সৈনিক তাদের যথেষ্ট সম্মান দেওয়া হোক।” রাজনৈতিক মহলের দাবি যে সমস্ত আদি বিজেপি কর্মীরা পদ হারিয়েছেন, সম্মানহানি হওয়ায় হয়ত সক্রিয়ভাবে আসন্ন বিধানসভা ভোটের ময়দানে আর তাদের লড়তে দেখা যাবে না। নন্দকুমার ব্লকের এক প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান ভবেশ বর্মণ ২০২১-এ বিজেপিতে যোগ দেন। নব প্রকাশিত তালিকায় তাঁকে জেলার সহ-সভাপতি করা হয়েছে। বাদ পড়েছেন জিমুত মাইতি।
গত বিধানসভা নির্বাচনে মহিষাদলের বিজেপি প্রার্থী বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, প্রথমে ক্ষোভ থাকবে, পরে ঠিক হয়ে যাবে। ময়নার বাকচা এলাকা বিজেপির গড় হিসেবে পরিচিত। তৃণমূলের দাবি, ময়নার বাকচায় গত বিধানসভা নির্বাচনে ওই যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাদের কিছু ভুল ছিল, তাই সেই সময় ভারতীয় জনতা পার্টিতে গিয়েছেন অনেকে। বিক্ষুব্ধ নেতারা তৃণমূলে ফিরবেই। এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
প্রাক্তন মন্ত্রী বর্তমানে তমলুকের বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র বলেন, “যারা তৃণমূলে আসবেন, রাজ্য নেতৃত্বের অনুমতিতে তাদের অবশ্যই দলে স্বাগত জানানো হবে।” তবে এই বিষয়ে বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক সুকান্ত চৌধুরী বলেন, ক্ষোভের কথা তাঁরা জানেন না। দায়িত্ব না পেয়ে হয়ত মন খারাপ হতে পারে। ক্ষোভ প্রকাশের কোনও খবর নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি।