Calcutta High Court: পোশাকে রক্তের নমুনা নেই! সাড়ে ১৪ বছর পর পুলিশের তদন্তের নমুনা দেখে হতবাক আদালত, বেকসুর খালাস খুনে অভিযুক্ত মহেশ – Bengali News | Durgapur murder accused acquitted after 14 and half years in calcutta high court
কলকাতা হাইকোর্টImage Credit source: Getty Image (History/Universal Images)
কলকাতা: সাড়ে ১৪ বছর পর বেকসুর খালাস খুনে অভিযুক্ত যুবক। অবশেষে মুক্তি পেলেন দুর্গাপুরে এক খুনের ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মহেশ কেশরী। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্ত ডিভিশন বেঞ্চ মুক্তি দিয়েছে তাঁকে। প্রশ্ন উঠেছে, আদৌ মহেশ কেশরী খুন করেছিলেন? শুধুমাত্র যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণের অভাবই নয়, পুলিশের তদন্ত যেভাবে এগিয়েছে, তাতে অসন্তুষ্ট আদালত। শুধু তাই নয়, পদে পদে পুলিশের সমালোচনা করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।
এই মামলায় আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বাজারের মধ্যে একটি দোকানে মৃতদেহ পাওয়া গেলেও, তার প্রকৃত কোনও প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না। ফলে পুলিশ অফিসার, চিকিৎসক সহ যে ১২ জনের মধ্যে অন্তত ৬ জনকে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দেখানো হয়েছে, তাদের বক্তব্যের তেমন সারবত্তা নেই বলেই মনে করছে হাইকোর্ট।
তথাকথিত ওই প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে আবার পাঁচজন একই পরিবারের। ফলে অভিযুক্তকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার এটা একটা চক্রান্ত কি না, সেই প্রশ্নও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে মনে করেছে হাইকোর্ট।
২০১১ সালের ২৫ মার্চের ঘটনা। জামুরিয়া থানার চিচুড়িয়া বাজারে বেলা সেদিন বেলা ১১ টা নাগাদ একটি মোবাইলের দোকানের ভিতরে মুক্তি বাউরি নামে এক যুবকের গলাকাটা দেহ উদ্ধার হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা ছড়ায় বাজার এলাকায়। ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে মহেশ কেশরী নামে ওই মৃত যুবকের প্রতিবেশীকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
দুর্গাপুর অতিরিক্ত জেলা জজের আদালত ২০১৪ সালের ২৮ অগস্ট ওই অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন জেলের সাজা দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন অভিযুক্ত। তাঁর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী অনির্বাণ মিত্র যুক্তি দেন, তাঁর মক্কেলকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ শুনানির পর বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘ওই ঘটনার কোনও প্রকৃত প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না বলেই মনে করছে আদালত। সাক্ষীদের মধ্যে শুধুমাত্র দু’জন বলেছে যে রক্তমাখা পোশাক পরে অভিযুক্তকে ওই দোকানের দিক থেকে দৌড়ে যেতে দেখা গিয়েছে।’ অথচ, ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য যে পোশাক পাঠানো হয়েছে তাতে রক্তের কোনও নমুনা ছিল না! আর সেটা দেখেই বিস্মিত আদালত। আদালত এটাও দেখেছে যে মৃতদেহের কাছ থেকে একটি ভাঙা রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার হলেও, তা ময়নাতদন্তের সময় চিকিৎসকদের কাছে পাঠানো হয়নি। আদালতের মতে, ওই ছুরি ময়নাতদন্তের সময় চিকিৎসকের হাতে থাকলে, তিনি দেহের ক্ষতের সঙ্গে ওই ছুরির আকার মিলিয়ে নিশ্চিত করতে পারতেন যে ওই ছুরিতেই খুন হয়েছে কি না।
ফরেন্সিক পরীক্ষায় বলা হয়েছে যে ওই ভাঙা ছুরিতে মানুষের রক্তের দাগ রয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে মৃতের দেহের রক্তের কোনও মিল পাননি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। এসব সামনে আসার পর আদালতে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে পুলিশ। কারণ অভিযুক্তের হাতের কোনও ছাপই নেওয়া হয়নি। ফলে ছুরির সঙ্গে তার হাতের ছাপ মিলিয়ে দেখা হয়নি। অথচ পুলিশ খুনের ধারা যুক্ত করে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে।
এদিকে, খুনের কোনও মোটিফ দেখাতে পারেনি পুলিশ। আদালতের মতে সেটাই, পুলিশের খারাপ তদন্তে কফিনে শেষ পেরেকটা পুঁতে দিয়েছে। কেন অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে খুন করেছে, তার কোনও কারণই চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। অথচ তদন্তে সেটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলেই মনে করেছে আদালত।