সাত বছর পর অবশেষে মুক্তি যুবকের, প্রেমিকার বয়ানে বেকসুর খালাস করল আদালত
সাত বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে স্বস্তি পেলেন এক যুবক। নাবালিকা প্রেমিকার সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করার অপরাধে যাঁর বিরুদ্ধে পকসো মামলা হয়েছিল, সেই যুবককে কলকাতার আদালত সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করল।
আরও পড়ুন: স্বামী পরিবারকে অন্ধকারে রেখে প্রেমিকের সঙ্গে দিঘায় যুবতী, হোটেল থেকে দেহ উদ্ধার
ঘটনাটি ২০১৮ সালের। সেই সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক ওই তরুণী বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে বারাণসী চলে গিয়েছিলেন। সেখানেই গোপনে বিয়ে হয় দু’জনের। কিন্তু পরিবারের আপত্তিতে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়। যুবককে গ্রেফতার করা হয়, কয়েক সপ্তাহ জেলেও কাটাতে হয় তাঁকে। তরুণীকেও হোমে পাঠানো হয়। চার্জশিটে উল্লেখ ছিল, অভিযুক্ত জোর করে নিয়ে গিয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। কিন্তু আদালতে দাঁড়িয়ে তরুণী ভিন্ন কথা বলেন। তরুণী জানান, তিনি যুবককে ভালোবাসেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি স্বেচ্ছায় পালিয়েছিলেন এবং বিয়ের জন্য তিনিই চাপ দিয়েছিলেন প্রেমিককে। এমনকি পালিয়ে না গেলে আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন। পুলিশের দাবি করা ‘উদ্ধার’-এর কথাও তিনি অস্বীকার করেন। জানান, তাঁরা নিজেরাই থানায় গিয়েছিলেন, তখনই স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়।
এই সাক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়েই বিচারক মন্তব্য করেন, শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কোনও অভিযুক্তকে দোষী বলা যায় না। প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারলে অভিযোগ টিকে থাকে না। সেই যুক্তিতেই যুবককে মুক্তি দেওয়া হয়। এই রায়ের পর স্বাভাবিক ভাবেই আলোচনায় উঠে এসেছে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ। সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছিল, কিশোর-কিশোরীর প্রেমকে অপরাধ হিসেবে দেখলে তা অন্যায় হবে। বাস্তব জীবনে তারা পড়াশোনার পাশাপাশি একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে। এই কারণে ধর্ষণ বা পকসো মামলা চাপানো সঠিক নয়। যদিও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছিল, সম্মতির বয়স ১৮ থেকে নামানো হলে শিশু পাচার ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা বাড়তে পারে। কিন্তু শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে, অপরাধমূলক যৌন শোষণ এবং প্রকৃত প্রেম-ভালবাসার সম্পর্কের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি ।আইনজীবীরা বলছেন, কলকাতার আদালতের এই রায় প্রমাণ করে দিয়েছে, আইনের চোখেও প্রেমকে অপরাধ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া উচিত নয়। আর তরুণীর সাহসী বয়ানই সাত বছর পুরনো মামলায় যুবকের মুক্তির চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়াল।