EXPLAINED Constitution Amendment Bill: এই বিলকে হাতিয়ার করে মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করানো সম্ভব? কতটা চ্যালেঞ্জ মোদী-শাহের কাছে? - Bengali News | EXPLAINED on Constitution Amendment Bill, No Conviction Needed, from Prime Minister to Chief Ministers, or Ministers can be Removed by power of this Law, What it is it - 24 Ghanta Bangla News
Home

EXPLAINED Constitution Amendment Bill: এই বিলকে হাতিয়ার করে মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করানো সম্ভব? কতটা চ্যালেঞ্জ মোদী-শাহের কাছে? – Bengali News | EXPLAINED on Constitution Amendment Bill, No Conviction Needed, from Prime Minister to Chief Ministers, or Ministers can be Removed by power of this Law, What it is it

Spread the love

২০২৪ সালের ২১ মার্চ- আবগারি নীতি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল। জেলে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রীত্ব ছাড়েননি কেজরীবাল। সেখান থেকে ৬ মাস রাজ্য পরিচালন করেছেন। কেজরীবাল জেল থেকে সরকার চালাতে পারলেও আগামিদিনে এমনভাবে কেউ সরকার চালাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। কেন? দাগী মন্ত্রীদের পদ থেকে সরাতে কঠোর আইন আনতে চাইছে কেন্দ্র। কোনও মন্ত্রী গ্রেফতার হলে বা আটক হয়ে যদি ৩০ দিন হেফাজতে থাকেন, তবে ৩১ তম দিনে তাঁকে মন্ত্রীপদ ছাড়তে হবে। ছাড় পাবেন না প্রধানমন্ত্রী থেকে যেকোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য মন্ত্রী। কেন্দ্রের প্রস্তাবিত এই বিল নিয়েই সরব বিরোধীরা। তাদের দাবি, এই বিলের মাধ্যমে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, তাদের মন্ত্রীত্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কী এই বিল, কেনই বা বিরোধীদের এত আপত্তি, সরকারই বা কী বলছে?

২০ অগস্ট লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পেশ করেন ১৩০ তম সংবিধান সংশোধনী বিল। তবে সেই বিল পাশ হয়নি। তা পাঠানো হয়েছে যুগ্ম সংসদীয় কমিটিতে, যেখানে লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদরা এই বিল পর্যালোচনা করবেন।  বিলের সমর্থনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা এতটাও নির্লজ্জ হতে পারে না যে গুরুতর অপরাধমূলক অভিযোগ থাকার পরও সাংবিধানিক পদ দখল করে থাকব।”

বিল পেশ করতেই সঙ্গে সঙ্গে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখায় বিরোধীরা। এমনকী বিল ছিঁড়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে ছুড়ে মারার অভিযোগও ওঠে বিরোধী সাংসদদের বিরুদ্ধে। কী এমন আছে এই বিলে যে এত আপত্তি বিরোধীদের।

কী বলা হয়েছে এই বিলে?

এই বিলে সংবিধানের ৭৫ অনুচ্ছেদে নতুন ৫(এ) ধারা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এই বিল সংবিধানের তিনটি ধারা- ৭৫, ১৬৪ ও ২৩৯এএ ধারায় পরিবর্তন করার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিলে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কিংবা কোনও রাজ্যের মন্ত্রীকে যদি গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়, যেখানে তার ৫ বছর কিংবা তার বেশি কারাদণ্ড হতে পারে। কিংবা গ্রেফতার বা আটকের পর যদি টানা ৩০ দিন হেফাজতে রাখা হয়, তবে ৩১ তম দিনে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। নাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।

এই আইন পাশ হলে জেলবন্দি হওয়ারও দরকার নেই, শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতেই মন্ত্রী পদ থেকে সরানো হতে পারে। তবে শুধু মন্ত্রীপদ কেড়ে নেওয়া নয়, বিলে আরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, পদ খোয়ানো মন্ত্রীরা মুক্তি পাওয়ার পর ফের পদ ফিরে পেতে পারেন।

শাহের গ্রেফতারি মনে করালেন বেণুগোপাল-

বিল পেশ হতেই তরজা কোন পর্যায়ে পৌছয়, তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও কংগ্রেস সাংসদ কেসি বোণুগোপালের বচসাতেই স্পষ্ট। মন্ত্রিত্ব খোয়ানোর বিরোধিতা করে কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেণুগোপাল ২০১০ সালের সোহরাবুদ্দিন শেখ ফেক এনকাউন্টার কেসের কথা তুলে আনেন।  তিনি বলেন, “এই বিল দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে নষ্ট করে দিচ্ছে। এটা সংবিধানের নীতি পরিপন্থী। বিজেপির নেতারা বলছেন এই বিল রাজনীতিতে নৈতিকতা আনবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটা প্রশ্ন করব? যখন উনি গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেই সময় কি নৈতিকতা ধরে রেখেছিলেন?”

সঙ্গে সঙ্গেই জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, “রেকর্ডটা ঠিক করে দিতে চাই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছিল, তারপরও আমি নৈতিকতার খাতিরে শুধুমাত্র পদ থেকে ইস্তফাই দিইনি, যতদিন পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ খারিজ হয়েছে, ততদিন আমি কোনও সাংবিধানিক পদ গ্রহণও করিনি। আমাদের নৈতিকতা শেখাতে এসেছেন? আমি ইস্তফা দিয়েছি। আমরা নৈতিকতা বাড়াতে চাই। এতটাও নির্লজ্জ হতে পারি না যে আমাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সাংবিধানিক পদে বসে থাকব। আমার গ্রেফতারির আগেই ইস্তফা দিয়েছিলাম আমি।”

ক্ষমতার অপব্যবহার?

মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিরোধীরা বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ তুলেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের। ইডি, সিবিআইকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে শাসক ক্ষমতা, এমনটাই অভিযোগ তুলেছে। এই বিলের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি বিরোধীদের। বিল পেশ হওয়ার আগে থেকেই প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিরোধীরা। বিল পেশ হওয়ার পর সেই বিক্ষোভের আঁচ আরও বাড়ে।

সংসদে বিরোধীদের মধ্য়ে সবথেকে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস। তবে তার আগে একটু ইতিহাসে ফিরে যাওয়া দরকার। ২০১৩ সালের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, ন্যূনতম দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত সাংসদ এবং বিধায়কদের পদ অবিলম্বে খারিজ করা হবে। ঠিক এর পাঁচ মাস পর, কেন্দ্রের তৎকালীন ক্ষমতাসীন ইউপিএ সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। সেই অধ্যাদেশে দোষী সাব্যস্ত সাংসদ এবং বিধায়কদের অবিলম্বে অযোগ্য ঘোষণা করার নিয়মটি বাতিল করার কথা বলা হয়েছিল। সেই সময়ে, প্রকাশ্যে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন রাহুল গান্ধী। মনমোহন সরকারের এই পদক্ষেপকে “সম্পূর্ণ অর্থহীন” বলেছিলেন। সংসদেই ছিঁড়ে ফেলেছিলেন অধ্যাদেশ।

এবারে বিল পেশের আগেই কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি বলেন, “পক্ষপাতদুষ্ট কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি দিয়ে বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীদের গ্রেফতার করিয়ে সরকার নড়বড়ে করে দেওয়ার সেরা উপায়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হারাতে না পেরে অবাধে গ্রেফতার করে তাদের সরাও। কখনও শাসকদলের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে স্পর্শ করা হয় না।”

চুপ নেই তৃণমূলও। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, কোনও চার্জশিট কিংবা দোষীসাব্যস্ত হওয়া ছাড়াই যেকোনও মুখ্যমন্ত্রীকে সরাতে পারবে কেন্দ্র। বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে আরও অপব্যবহারের দরজা খুলে গেল।

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বিল নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে মন্ত্রীসভায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের কী হবে। তিনি বলেন, “ “তাহলে তো কোর্টের কোনও দরকার নেই। বিচার ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখানো হচ্ছে। বিজেপি বলবে, বিরোধীরা ভয় পাচ্ছে। তৃণমূল ভয় পেলে বাড়িতে বসে থাকত। আমরা ইডি-সিবিআইকে তোয়াক্কা করি না। বিরোধীদের কী করে শেষ করে দেওয়া যায়। গ্রেফতার করে জেলে ঢোকানো যায়, তার জন্যই এই বিল।”

অভিষেকের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার ২৮ জন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন কেস রয়েছে, ১৯ জনের বিরুদ্ধে খুন, নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিল পাশ হলে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে? তিনি আরও দাবি করেন, ২৫ জন অভিযুক্ত নেতা-মন্ত্রী বিজেপিতে যাওয়ার পর তদন্ত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অভিষেকের যুক্তি কেন্দ্রের এই আইনে মন্ত্রীরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন না।

তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ইডি-সিবিআইয়ের অপব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো ভাঙার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, “যে কোনও জনপ্রতিনিধির সাত বছরের বেশি যদি সাজা হয়, আদালত দোষী সাব্যস্ত করে, তবে তাঁকে সরানো যাবে, এটাই সংবিধান বলে। যে কোনও নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী, বা যে কোনও নির্বাচিত মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেন্দ্র নিজের ইডি-সিবিআই-কে দিয়ে  ভুয়ো মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেফতার করতে পারে। কিন্তু এই বিলটা কী করছে, ৩০ দিনের মধ্যে সেই মুখ্যমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রীকে স্যাক করছে! তার মানে তো যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোকে পুরোপুরিভাবে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটা কেবল বিরোধী পক্ষই নয়, বিজেপির মধ্যে, তাদের যাঁরা শরিক রয়েছেন, তাঁরাও যদি মোদী-অমিত শাহর কথা না শোনেন, তাহলে ঘ্যাচাং ফু! গলা কেটে নাও!”

একদিকে যেমন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল থেকে শুরু করে উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন মন্ত্রী থাকাকালীন গ্রেফতার হয়েছেন, রাজ্যেও গ্রেফতার হওয়া মন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, মদন মিত্রের মতো নেতারা। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে ইস্তফা দিয়েছিলেন মন্ত্রী পদ থেকে। বিরোধীদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার এই বিলকে হাতিয়ার করে বিরোধী শাসিত রাজ্যের মন্ত্রীদের মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেবে, সরকার ফেলার চেষ্টা করবে। কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা মন্ত্রীদের গায়ে কেউ হাত দেবে না।

এই বিল পাশ নিয়ে কেন্দ্রের যে খুব বেশি তাড়া রয়েছে, তা নয়। সেই কারণেই সংসদের বাদল অধিবেশন শেষ হওয়ার আগেরদিন এই বিল পেশ করা হয়েছে। বিলটি পাশ করাতে কেন্দ্রের দুই তৃতীয়াংশ সমর্থনের প্রয়োজন। লোকসভায় ৫৪২ আসন রয়েছে। এই বিল পাশ করানোর জন্য অন্তত ৩৬১ ভোটের প্রয়োজন। এনডিএ-র মোট সদস্যের সংখ্যা ২৯৩। যদি বিরোধী কোনও দলও সমর্থন করে, তাতেও এই সংখ্যায় পৌঁছানো চাপের।

রাজ্যসভাতেও একই চিত্র। ২৩৯ আসনের রাজ্যসভায় এই বিল পাশ করাতে অন্তত ১৬০টি ভোট দরকার। এনডিএ-র কাছে ১৩২ ভোট রয়েছে। এক্ষেত্রেও বিরোধী কোনও দলের সমর্থন ছাড়া বিল পাশ করা সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা জানা যাবে পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *