ধসে গেল ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাংশ, ফের বন্ধ রাস্তা, ব্যাহত যোগাযোগ - 24 Ghanta Bangla News
Home

ধসে গেল ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাংশ, ফের বন্ধ রাস্তা, ব্যাহত যোগাযোগ

প্রবল বর্ষণে ফের বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সিকিমের যোগাযোগের লাইফলাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। মাত্র কয়েকদিন আগে চালু হওয়া এই সড়ক আবারও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শনিবার ভোরে ২৯ মাইল এলাকায় তিস্তা নদীতে ভেসে যায় রাস্তার একটি বড় অংশ। ফলে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন দ্রুত সড়কটি সিল করে দেয়।

আরও পড়ুন: ৩ দিনের জন্য বন্ধ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক, বিকল্প পথে চলবে যানবাহন, কবে খুলবে রাস্তা?

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পাহাড়ে টানা ভারী বর্ষণে মাটি ভিজে দুর্বল হয়ে পড়ে সড়কের ভিত্তি। ভোরবেলা তিস্তায় জলস্তর হঠাৎ বেড়ে গেলে সেই স্রোত রাস্তার অংশবিশেষ ভাসিয়ে নিয়ে যায়। ইতিমধ্যেই ন্যাশনাল হাইওয়ে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড জরুরি মেরামতির প্রস্তুতি শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।

এই সড়কটি উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের মধ্যে প্রধান পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের পথ। তাই এর বন্ধ হয়ে যাওয়া কার্যত জীবনযাত্রাকে অচল করে দিয়েছে। চারদিন বন্ধ থাকার পর মাত্র বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাড়ে ছ’টায় আংশিকভাবে চলাচলের অনুমতি মিলেছিল এই সড়কে। কিন্তু শুক্রবার বিরিকদাড়ায় ধস নামায় দিনের মধ্যে দুইবার সড়ক বন্ধ রাখতে হয়। আজকের বিপর্যয়ের ফলে ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেল এই লাইফলাইন। জানা গিয়েছে, কালিম্পংয়ে শুক্রবার রাতে প্রায় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হওয়ায় ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। আজ সকালে ধস নামায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে মিরিক রোড, ফলে শিলিগুড়ি-মিরিক সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের পাহাড়-সমতল জুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

সেচ দফতর জানিয়েছে, তিস্তা ও জলঢাকা নদীর অসংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সতর্কতা জারি আছে। পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর ক্রমেই বাড়ছে, মানুষদের সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। এর আগে, ৩ অগস্ট একটানা বৃষ্টির জেরে শ্বেতীঝোরায় ভয়াবহ ধস নেমে এই একই সড়ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পাহাড়বাসীর মনে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই সড়ক কখন পুনরায় চালু হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না প্রশাসন। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিকল্প পথে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *