EXPLAINED: SIR-এ নাম বাদ পড়েছে ৬৫ লক্ষের, কী করলে ফের তালিকায় নাম উঠবে? – Bengali News | EXPLAINED: 65 Lakhs Name Removed from Bihar Draft Voter List after SIR, what to do if name removed, know Process
বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিহারে হইচই SIR নিয়ে। কী এই এসআইআর? ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা নিবিড় পরিমার্জনই হল এসআইআর। দীর্ঘ এক মাস ধরে চলা এই পরিমার্জনের পর ১ অগস্ট প্রকাশিত হয়েছে খসড়া ভোটার তালিকা। আর তাতেই বাদ গিয়েছে ৬৫ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম। এবার প্রশ্ন হল, যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেল, তারা কী করবেন? তাদের ভোটার কার্ডেরই বা কী হবে?
প্রতি বছরই ভোটার তালিকায় সংশোধনী হয়। তবে নিবিড় সংশোধন হচ্ছে বহু বছর পর। ২০০৩ সালে বিহারে শেষবার নিবিড় পরিমার্জন হয়েছিল ভোটার তালিকার। এরপর ২০২৫ সাল। বিহারে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে চলতি বছরই। তার আগেই এই পরিমার্জন। ২০০৩ সালে ভোটার তালিকায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের নাম এই খসড়া ভোটার তালিকাতেও থাকবে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ৪.৯ কোটি ভোটারকে কোনও পরিচয়পত্র বা নথি জমা দিতে হবে না।
যদি কোনও ব্যক্তির নাম ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় না থাকে, তবে তাকে ভোটার লিস্টে নাম তোলার জন্য যোগ্য নথি দিয়ে আবেদন করতে হবে। এর জন্য ১১টি নথির উল্লেখ করা হয়েছে, যা পরিচয়পত্র হিসাবে গ্রহণ করা হবে। এই নথিগুলির মধ্যে যে কোনও একটি নথি দেখাতে পারলেই প্রমাণ হবে আপনি ভারতের নাগরিক।
এই নথিগুলি হল-
১. জন্ম সার্টিফিকেট
২. রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী হলে, তার পরিচয়পত্র।
৩. ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার প্রদত্ত কোনও পরিচয়পত্র বা সার্টিফিকেট। ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসির নথিও গ্রহণ করা হবে।
৪. পাসপোর্ট
৫. সরকার স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের শংসাপত্র, যেখানে জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে।
৬. রাজ্য প্রদত্ত পার্মানেন্ট রেসিডেন্স সার্টিফিকেট।
৭. ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট বা বন অধিকার শংসাপত্র।
৮. ওবিসি/এসসি/এসটি বা অন্য কাস্ট সার্টিফিকেট।
৯. জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা NRC (যেখানে চালু হয়েছে)।
১০. রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের তৈরি ফ্যামিলি রেজিস্টার।
১১. সরকারের দেওয়া জমির নথি, বাড়ির নথি।
এক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার, ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে যাঁরা জন্মগ্রহণ করেছেন, সেই ভোটারদের জন্ম তারিখ এবং জন্মস্থানের প্রমাণ্য নথি দাখিল করতে হবে। ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের পর যারা জন্মেছেন, তাদের নিজের পরিচয়ের প্রমাণ্য নথির সঙ্গে বাবা-মায়েরও নথি জমা দিতে হবে। ২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বরের পর যারা জন্মেছেন, তাদের ক্ষেত্রেও সেই একই নিয়মাবলী।
বিহারের এসআইআরে নাম বাদ পড়েছে ৬৫ লক্ষের। কমিশন জানিয়েছে, এর মধ্যে ২০ লক্ষ ভোটার মারা গিয়েছেন। ২৮ লক্ষ ভোটার অন্য রাজ্যে স্থানান্তরিত হয়েছেন। ফলে তাঁরা আর বিহারে ভোট দিতে পারবেন না। ৭ লক্ষ ভোটারের নাম একের বেশি জায়গায় রয়েছে। বাকি ১ লক্ষ ভোটারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। এবং ১৫ লক্ষ ভোটার ভেরিফিকেশন ফর্ম জমা দেয়নি।
যাদের নাম বাদ গেল, তারা কী করবেন?
যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা যে আর কখনও ভোট দিতে পারবে না, তা নয়। যদি কেউ বৈধ ভোটার হন এবং কোনও কারণে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যায়, তবে তার হাতে এক মাস সময় রয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর অবধি নাগরিকরা, যাদের নাম ভোটার কার্ড থেকে বাদ গিয়েছে, তারা আবেদন করতে পারবেন।
বিহারে নিবিড় পরিমার্জনের জন্য বুথ লেভেল অফিসাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা করেছেন। জমা করা হয়েছে এনুমেরেশন ফর্ম। যদি কোনও ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই ফর্ম জমা না করে থাকেন, তবে তাদের ডিক্লেরেশন ফর্মের পাশাপাশি ফর্ম ৬-ও জমা করতে হবে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, যদি খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে কারোর আপত্তি থাকে, যদি কেউ তালিকায় নাম সংযোজন বা বাদ দিতে চান, তবে তাদের ফর্ম-৬ পূরণ করতে হবে। সঙ্গে জমা দিতে হবে নতুন ডিক্লেরেশন ফর্মও।
যদি কেউ একই বিধানসভা বা তার বাইরে ঠিকানা বদল করতে চান, তবে তাদের ফর্ম-৮ পূরণ করতে হবে। কোনও সংশোধন বা বিশেষভাবে সক্ষম তালিকাভুক্ত হতে চাইলে কিংবা এপিক রিপ্লেসমেন্টের জন্য ফর্ম ৮ ও ডিক্লেরেশন ফর্ম জমা করতে হবে। যেহেতু এখনও পর্যন্ত কেবল বিহারেই ভোটার তালিকায় নিবিড় পরিমার্জন হয়েছে, তাই ভিন রাজ্য থেকে বিহারে কোনও ব্যক্তি এসে বসবাস করলে এবং সেখানের ভোটার হতে চাইলে ফর্ম-৮ জমা করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশ, বিনা তদন্তে বা যথাযথ সুযোগ দেওয়া ছাড়া খসড়া ভোটার তালিকা থেকে কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হবে না। যাচাইয়ের পর সমস্ত ভোটারদের তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে।
যদি কোনও ব্যক্তির ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি থাকে, তবে তিনি জনপ্রতিনিধি আইন ১৯৫০-র ২৪(এ) ধারার অধীনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে পারেন। যদি জেলাশাসকের সিদ্ধান্তেও কেউ অখুশি হন বা সম্মত না হন, তাহলে জেলাশাসকের অর্ডার বা নির্দেশ দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ফের আবেদন করতে পারেন।
খসড়া নির্বাচন তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর যদি ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল অফিসারের কোনও ভোটারের বৈধতা বা নাগরিকত্ব নিয়ে সংশয় হয়, তবে তারা স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত শুরু করতে পারেন এবং ওই ভোটারকে নোটিস পাঠাতে পারেন। তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে কেন তাদের নাম ভোটার লিস্টে থাকবে। তদন্ত ও নথির ভিত্তিতে ইআরও সিদ্ধান্ত নেবেন যে ওই ব্যক্তির নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকবে কি না।
