পরীক্ষা স্থগিত রেখে স্কুলে ‘আমাদের পাড়া’র শিবির, ফিরতে হল পড়ুয়াদের, বিতর্ক
পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে স্কুলে পৌঁছেও ফিরে যেতে হল ছাত্রছাত্রীদের। কারণ, স্কুলে বসেছে সরকারি শিবির। শনিবার এমন ঘটনাই ঘটল উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার হাইস্কুলে। পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির ‘সেকেন্ড সামেটিভ’ পরীক্ষার দিন নির্ধারিত থাকলেও, স্কুলে হাজির হয়ে দেখা যায় পরীক্ষা নয়, চলছে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির শিবির। অভিযোগ, বিষয়টি জানতই না অধিকাংশ পড়ুয়া। ফলে বিভ্রান্তি, হতাশা এবং প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
আরও পড়ুন: প্রথম দিনেই রেকর্ড ভিড়! রাজ্যজুড়ে শুরুতেই সাড়া ফেলল ‘আমাদের পাড়া’ কর্মসূচি
জানা যাচ্ছে, প্রায় ১২০০ পরীক্ষার্থী ওইদিন পরীক্ষা দিতে আসে। কিন্তু পরীক্ষার বদলে সরকারি শিবির দেখে অনেকে হতবাক হয়ে যায়। এক ছাত্র জানায়, স্কুলে এসে সে জানতে পারে পরীক্ষা হচ্ছে না। সরকারি ক্যাম্প বসেছে বলে শিক্ষকরা তাদের জানিয়েছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুব্রত নারায়ণ ধর জানান, ব্লক প্রশাসনের তরফে শুক্রবার রাতেই নির্দেশ আসে যে শনিবার স্কুলে শিবির বসবে। সেজন্য পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সময়স্বল্পতায় ছাত্রছাত্রীদের আগাম জানানো সম্ভব হয়নি। পরে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে এই দাবিকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ব্লকের বিডিও দিব্যেন্দু সরকার দাবি করেছেন, শিবির সংক্রান্ত তথ্য আগে থেকেই স্কুল কর্তৃপক্ষের জানা ছিল। ফলে, হঠাৎ সিদ্ধান্তে ছাত্রছাত্রীদের হয়রানি নিয়ে স্কুলের ভূমিকা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
এক অভিভাবক জানান, এভাবে হঠাৎ করে পরীক্ষা বন্ধ করলে পড়ুয়াদের মনোবল ভেঙে পড়বে। অন্তত একদিন আগে জানালে প্রস্তুতি অন্যভাবে নেওয়া যেত। রাজনৈতিক মহলও বিষয়টি ঘিরে সরব। সিপিএম এবং কংগ্রেস নেতৃত্ব সরকারের উদ্দেশে কটাক্ষ ছুড়ে বলেন, এখন লক্ষ্য উন্নয়ন নয়, স্কুলকে বুথ করে তোলাই উদ্দেশ্য। ছাত্রদের শিক্ষার ক্ষতি করে শাসক দলের প্রচার চলছে।
জানা যাচ্ছে, শুক্রবার থেকেই শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় সামেটিভ পরীক্ষা। শনিবার ছিল তার দ্বিতীয় দিন। অথচ আগেই এমন একটি কর্মসূচি নির্ধারিত থাকলে তা নিয়ে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা যেত বলে মনে করছেন অনেকেই। ঘটনার জেরে স্কুল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা।