রাজেশ খান্নার বাড়ি থেকে উদ্ধার ৬৪টি স্যুটকেস! কী ছিল সুপারস্টারের বন্ধ বাক্সে? – Bengali News | 64 unopened suitcases with gifts were found at late actor rajesh khannas house
রাজেশ খান্না ছিলেন প্রথম সুপারস্টার। একের পর এক বক্স অফিসে সুপারহিটল ছবি দিয়ে রাজেশ খান্নার সাফল্য ছিল আকাশ ছোঁয়া। অনুরাগীরা তাঁর এক ঝলক পাওয়ার জন্য উন্মাদ হয়ে যেতেন। আর সেই সময় রাজেশ খান্নার দাপটেই চলত ইন্ডাস্ট্রি। তাঁর ইশারাতেই চলত পরিচালক ও প্রযোজকরা। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো। একাধিক প্রেম। নায়িকাদের সঙ্গে স্ক্যান্ডেল। স্ত্রী ডিম্পল কাপাডিয়ার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ সেই সময় খবরের কাগজের শিরোনাম হয়ে উঠেছিল। এমন সুপারস্টারের জীবন নিয়ে যে কৌতুহল থাকবে সাধারণ মানুষের, তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। আর তাই তো রাজেশ খান্নার মৃত্যুর ১৩ বছর পরও তাঁর জীবন কাহিনী নিয়ে উৎসাহ তুঙ্গে। তার উপর যদি জানা যায়, রাজেশের মৃত্যুর পর তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৬৮ টি সুটকেস! তাহলে তো কৌতুহল আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়।
ব্যাপারটা একটু খোলসা করে বলা যাক। সম্প্রতি রাজেশ খান্নাকে নিয়ে লেখা গৌতম চিন্তামণির বই ডার্ক স্টার: দ্য লোনলিনেস অব বিইং রাজেশ খান্নায় এমন এক ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন, যা কিনা তাঁর ভক্তদের মনে নতুন করে রাজেশ খান্না নিয়ে রহস্যের সঞ্চার ঘটিয়েছে। তাঁর বই থেকেই জানা গিয়েছে, বলিউডের প্রিয় কাকাজি ওরফে রাজেশ খান্নার মৃত্যুর পর তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৬৪ টি বন্ধ সুটকেস।
তা কী ছিল সেই সুটকেসে?
২০১২ সালে প্রয়াত হন রাজেশ খান্না। সুপারস্টার হলেও, তাঁর শেষ জীবন কেটেছিল খুবই কষ্টের। নিঃসঙ্গ ছিলেন তিনি। একাকীত্ব ঘিরে ধরেছিল তাঁকে। ধীরে ধীরে সেই একাকীত্বর মধ্যেই হারিয়ে যান। একসময় যে মানুষটির আশপাশে হাজার হাজার লোক থাকতেন। তাঁর এক হাঁক ডাকে জরো হতেন একডজন মানুষ। সেই মানুষটিই শেষ জীবনে একা হয়ে পড়েন। একসময় তাঁর বাড়ি ‘আশীর্বাদ’-এ রোজই আসা-যাওয়া লেগে থাকত নানা মানুষের। কিন্তু সেই মানুষটিই শেষ জীবনে একা হয়ে পড়েন।
গৌতম চিন্তামণি লিখেছেন, রাজেশ খান্না মানুষ ভালবাসতেন। আর সেই কারণেই প্রিয়জনদের জন্য যখনই বিদেশে যেতেন উপহার আনতেন। আর সেই উপহার সুটকেসে ভরে রাখতেন। অনেক সময় এমনও হয়েছে, উপহার তো এনেছিলেন, কিন্তু প্রিয় মানুষটিকে দিতে ভুলে গিয়েছেন। সেই রকমই উপহারে ঠাসা ৬৪টি সুটকেস মেলে রাজেশের বাংলোতে। যার মধ্যে ছিল বিদেশ থেকে আনা নানা দামী উপহার। এই সুটকেসই প্রমাণ করে, শেষ জীবনে তিনি ছিলেন ভালবাসার কাঙাল। কিন্তু ততদিনে তাঁর থেকে দূরে চলে গিয়েছেন অনেকেই। আর সেই দূরত্বই তাঁর মৃত্যু ডেকে আনে।