৪ জেলায় প্রাথমিক স্তরে চালু হচ্ছে কুড়মালি ভাষায় পড়াশোনা, চলছে প্রস্তুতি
দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে বাস্তবায়িত হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের কুর্মি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে প্রাথমিক স্তরে এবার থেকে চালু হতে চলেছে কুড়মালি ভাষায় পড়াশোনা। শিক্ষা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার নির্দিষ্ট স্কুলগুলিতে এই ভাষায় পঠনপাঠন শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।
আরও পড়ুন: টানা ৫ দিন পর পুরুলিয়ায় অবরোধ প্রত্যাহার কুড়মিদের, নবান্নের চিঠি প্রত্যাখ্যান
এই প্রকল্প বাস্তবায়নে গঠন করা হচ্ছে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি। কুড়মালি ভাষায় দক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের সহযোগিতায় তৈরি হবে অনুবাদ দল। তাঁরা বাংলা সিলেবাসকে কুড়মালি ভাষায় রূপান্তর করবেন। পাশাপাশি, তৈরি হবে কুড়মালি ভাষায় পাঠ্যবই। তবে এই গোটা প্রক্রিয়াতেই মানা হবে আগেই সাঁওতালি ভাষা চালুর ক্ষেত্রে অনুসরণ করা প্রশাসনিক কাঠামো ও নীতিনির্ধারণ। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। তাদের মতামত চেয়ে পাঠানো হয়েছে শিক্ষা দফতরের তরফে। মূলত অলচিকি হরফে সাঁওতালি ভাষা চালু হওয়ার পর থেকেই কুর্মি সমাজের পক্ষ থেকে ভাষাভিত্তিক স্বীকৃতির দাবি জোরালো হতে থাকে। কেন্দ্রের সংখ্যালঘু মন্ত্রকের লিঙ্গুইস্টিক মাইনরিটিজ (পূর্বাঞ্চল) বিভাগেও এই মর্মে দাবিপত্র জমা পড়ে। পরে তা পৌঁছয় রাজ্যের মুখ্যসচিবের দফতরে। সেখান থেকে ইতিবাচক বার্তা পাওয়ার পর এই উদ্যোগের সূচনা বলে জানা যাচ্ছে।
আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ‘আদিবাসী কুর্মি সমাজ’-এর মুখ্য উপদেষ্টা অজিত মাহাত জানান, ভাষা ও জাতিগত স্বাতন্ত্র্যর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসা হচ্ছে। এবার তার বাস্তব রূপ মিলছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সরকারি স্বীকৃত কোনও হরফ না থাকলেও, কিছু ব্যক্তি উদ্ভাবিত হরফেই বহু জায়গায় কুড়মালি শেখানো হয়। আপাতত ভাষাটি যেন পাঠ্যক্রমে ঢোকানো হোক। পরে ধাপে ধাপে অন্য বিষয়ও চালু করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, বর্তমানে রাজ্যের সিধো-কানহু-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয় (পুরুলিয়া) এবং সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয় (ঝাড়গ্রাম)-এ কুড়মালি ভাষায় পাঠক্রম রয়েছে। এবার তা নেমে আসছে স্কুলস্তরে।