India’s Bunker-Buster: রক্ষা পাবে না মাটির নিচের শত্রুঘাঁটিও! এবার নিজস্ব ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা বানাচ্ছে ভারত – Bengali News | India has begun developing a new missiles with bunker buster capabilities, Know in detail
মাটির নিচে লুকানো ইরানের পরমাণু ঘাঁটিতে মার্কিন বোমারু বিমান ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ফেলার পরই তড়িঘড়ি ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘৰ্ষবিরতিতে কার্যত বাধ্য হয় তেহরান। মার্কিন সেনার সবচেয়ে বিধ্বংসী ৩০ হাজার পাউন্ড বা ১৪,০০০ কিলোগ্রামের ‘জিবিইউ-৫৭’ বোমা মাটির ৬০ মিটার নিচে বা ২০০ ফুট গভীরে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বড়সড় গহ্বর তৈরি করে দেয়। এতটাই সেই বোমার তেজ ও তীব্রতা। ওই হামলা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়, ভবিষ্যতে মাটির গভীরে লুকানো শত্রুর ঘাঁটি ধ্বংস করতে না পারলে কোনও যুদ্ধে জেতা অসম্ভব।
ভারতের ঘাড়েও নিঃশ্বাস ফেলছে দুই পুরনো শত্রু চিন ও পাকিস্তান। সেই সঙ্গে দ্রুত বদলাচ্ছে আন্তর্জাতিক সমীকরণও। আর তাই এবার ভারতও তাদের নিজস্ব ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা তৈরির গতি বাড়াল। খুব দ্রুতই এই বোমা বানিয়ে ফেলবে ডিআরডিও, কাজ চলছে জোরকদমে। ভারতীয় বায়ুসেনা হাতে পাবে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে বানানো দিশি ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমেরিকার চেয়ে কম খরচে, আরও দ্রুত, সহজে শত্রুঘাঁটিতে এই বোমা ফেলা যাবে। এমনকী, এই বোমা ফেলতে আমেরিকার ‘বি-২’ বোমারু বিমানের মতো দামি বিমানও লাগবে না। ভারতীয় বায়ুসেনার ভাঁড়ারে এখন যে বিমান রয়েছে, সেগুলি থেকেই ফেলা যাবে নয়া মিসাইল-বোমা। খরচ-ও কম হবে, লাগবে না কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের অনুমতিও। ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড ও কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অনুমতি মিললেই ভারতের সেনাঘাঁটি থেকে এই বোমা নিয়ে উড়ে যাবে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান। ‘প্রিসাইজ’ হামলা চালিয়ে মাটির নিচে শত্রুরঘাঁটিকে গুঁড়িয়ে দিয়ে আসবে ভারতের বাঙ্কার বাস্টার বোমা।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি, ভারতের নিজস্ব বোমা হবে আরও ভয়ঙ্কর! মাটির গভীরে অন্তত ৮০-১০০ মিটার নিচে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারবে ভারতের নিজস্ব ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা। মার্কিন সেনার মতোই বিশেষ বিমানে করে বয়ে নিয়ে গিয়ে উপর থেকে ফেলা হবে নয়া বোমা। তবে ভারতের ক্ষেত্রে শুধু ইস্পাতে মোড়া বিস্ফোরক ঠাসা বোমা নয়, বরং মিসাইলের পেটের ভিতর থাকবে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। এতে হামলার তীব্রতা হবে আরও বেশি। প্রায় ৭৫০০-৮০০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক বহনে সক্ষম নয়া ইন্টার কন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) তৈরি করছে ভারতের প্রতিরক্ষা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও। এই মিসাইলই বোমার মতো আছড়ে পড়ে আঘাত হানবে টার্গেটে। নয়া মিসাইলের লক্ষ্য শুধু দূরের শত্রুর ঘাঁটি ওড়ানো নয়, বরং মাটির গভীরে ঘাঁটিকেও বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া। নয়া আইসিবিএমে যে শুধু টন টন বিস্ফোরকই ঠাসা থাকবে তা নয়, ছুটেও যাবে হাইপারসনিক স্পিডে। শব্দের চেয়ে ৮-২০ গুণ দ্রুত উড়ে গিয়ে লুকানো শত্রু ঘাঁটিকে ধ্বংস করে দেবে। একে তীব্র গতি, অন্যদিকে ভিতরে ৮ টনেরও বেশি বিস্ফোরক নিয়ে যে টার্গেটে একবার আছড়ে পড়বে ভারতের দিশি বাঙ্কার বাস্টার, সেখানে শুধুই ধুলো আর ধোঁয়া ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
সেই লক্ষ্যেই দ্রুত এই নতুন ধরণের বোমা তৈরি করতে কাজ চালাচ্ছে ডিআরডিও। তার জন্য ভারতের নিজস্ব আইসিবিএম ‘অগ্নি-৫’-নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে ডিআরডিও। এমনিতেই ‘অগ্নি-৫’ প্রায় ৫০০০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে লক্ষ্যে আঘাত করতে পারে। বহন করতে পারে পরমাণু বোমাও। ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমার জন্য নয়া আইসিবিএম-এর ওড়ার ক্ষমতা খানিকটা কমিয়ে ২৫০০ কিলোমিটার করা হচ্ছে। কিন্তু তার পেটের ভিতরে পুরে দেওয়া হবে প্রায় ৮ টনের বিস্ফোরক। বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের কাছেই এরকম ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্র রয়েছে। ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর, মাটির নিচে শত্রুর কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, মিসাইল ভাণ্ডার ও স্ট্র্যাটেজিক পোস্ট ধ্বংস করতে কার্যকরী হবে নয়া বাঙ্কার বাস্টার বোমা। ডিআরডিও এখন অগ্নি-৫ মিসাইলের দুটি ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে। যার মধ্যে একটি মাটির উপরের টার্গেটের জন্য, আরেকটি মাটির নিচের শত্রুঘাঁটির জন্য। প্রাথমিক বোমা তৈরি হয়ে গেলে পরের আপগ্রেডেড ভার্সনে মিসাইলের ভিতর বিস্ফোরকের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে। ভবিষ্যতে ভারতের লক্ষ্য আমেরিকার চেয়েও তীব্রতার বাঙ্কার বাস্টার বোমা বানানো। যা হবে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে গভীরে আঘাত করতে পারে এমন শক্তিশালী বোমা।