‘চুরি করিস নাকি তুই…’, শঙ্কর চক্রবর্তীর চুলের মুঠি ধরে প্রশ্ন – Bengali News | Shankar chakraborty struggle know all details of his early stage of life
শৈশবটা অনেক লড়াইয়ের মধ্য়ে কেটেছে অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তীর। ছোট বয়সেই হারিয়েছেন বাবাকে। বাবার মৃত্যুর পর বৃদ্ধ মাকে নিয়ে টানাটানির সংসার শুরু হয় শঙ্করের। দুটো পেট চালানোর দায়িত্ব একা কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন শঙ্কর। একটা সময় বাড়ি ভাড়া দেওয়ারও ক্ষমতা ছিল না তাঁর। সকালে স্কুলে যেতেন এবং রাতে যেতেন কারখানায় কাজ করতেন। ক্লান্তিতে ক্লাসে ঘুমিয়েও পড়তেন শঙ্কর। মাস্টারমশাই দেখাতেন নির্মমতা। ক্লান্ত ছেলেটার চুলের মুঠি ধরে বলতেন, “চুরি করিস নাকি তুই, যে পড়ে-পড়ে ঘুমাচ্ছিস…”
এই শঙ্কর মাকে নিয়ে বাস করতেন এক বস্তিতে। সেই সময় তাঁর জীবনে ধ্রুবতারার মতো আসেন প্রেমিকা সোনালি চক্রবর্তী। রূপে লক্ষ্মী, গুণে সরস্বতী সোনালিই পাল্টে ফেলেন শঙ্করের জীবন। এক সাক্ষাৎকারে শঙ্কর স্বীকার করে নিয়েছিলেন, সোনালি তাঁর হাতটা টেনে উপরে তুলেছিলেন। সেই সময় অভিনয়ে ততখানিও জনপ্রিয়তা অর্জন করেননি সোনালি। তিনি তখন গানের দিদিমণি। ছোট-ছোট ছেলেমেয়েদের গান শেখাতেন। গান শিখিয়ে যা উপার্জন করতেন, সবটাই গিয়ে তুলে দিতেন শঙ্করের হাতে।
সোনালি ছিলেন ধনী পরিবারের এক মেয়ে। বস্তিতে থাকা শঙ্করের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি না সোনালির বাড়ির লোকজন। তবে পরিবারের চাপে শঙ্করের হাত ছাড়েননি সোনালি। গোটা পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে তাঁকেই বিয়ে করেছিলেন। এক কাপড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। সেই সোনালিকে শঙ্কর হারিয়েছিলেন ২০২২ সালে। দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগেছেন সোনালি। সেই কঠিন লড়াইয়ে শঙ্করকে পাশে পেয়েছেন দিনরাত।
আজও অতবড় ফ্ল্যাটটায় একাই থাকেন শঙ্কর। শুটিংয়ে ডেটের পর ডেট নিতে থাকেন, যাতে বাড়িতে কম সময় কাটাতে হয়। আসলে সোনালি সেই দিনগুলোর কথা বড়ই মনে পড়ে মানুষটার। একাকীত্ব যে কত বড় অভিশাপ, এখন বুঝতে পারেন শঙ্কর!