মাইথন-পাঞ্চেত-তিলাইয়াকে কেন্দ্র করে বড় পরিকল্পনা!গড়ে তোলা হবে পর্যটন পরিকাঠামো - 24 Ghanta Bangla News
Home

মাইথন-পাঞ্চেত-তিলাইয়াকে কেন্দ্র করে বড় পরিকল্পনা!গড়ে তোলা হবে পর্যটন পরিকাঠামো

Spread the love

বাংলার পর্যটনে এক নতুন মাত্রা আনতে মাইথন, পাঞ্চেত ও তিলাইয়ার বিশাল জলাধারকে ঘিরে শুরু হয়েছে বড় পরিকল্পনা। পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়খণ্ড সীমান্ত ঘেঁষা এই অঞ্চলগুলিকে পর্যটনের রূপ দিতে চাইছে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি)। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে ওয়াটার স্পোর্টস, ভাসমান রিসর্ট ও আধুনিক পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলা।

আরও পড়ুন: DVC-র জল ছাড়া নিয়ে ফের চিঠি নবান্নর, বন্যা পরিস্থিতি ঘিরে সতর্ক বার্তা

ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্পের পরিকল্পনা একেবারে প্রাথমিক ধাপ পেরিয়ে এখন মাস্টারপ্ল্যান তৈরির পর্যায়ে। ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতা সংস্থার সঙ্গে কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের সঙ্গেও চলছে ধারাবাহিক বৈঠক। উদ্দেশ্য একটাই, সব ধরনের পর্যটকের চাহিদা বুঝে এমন এক প্যাকেজ তৈরি করা, যা বিনিয়োগকারীদেরও আকৃষ্ট করবে। গত সপ্তাহেই আসানসোল ও শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন বণিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ডিভিসির আধিকারিকরা। উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশন অফ সাউথ বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, আসানসোল চেম্বার অব কমার্স এবং হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা। সেখানে ডিভিসি-র তরফে প্রস্তাবিত পর্যটন পরিকল্পনার খসড়া উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি নেওয়া হয় ব্যবসায়ীদের পরামর্শ। বণিক সংগঠনগুলির মত, পর্যটন শিল্পে বড় বিনিয়োগ টানতে গেলে দীর্ঘমেয়াদি জমি লিজ ও সরকারি নীতিগত স্থায়িত্ব অত্যন্ত জরুরি।

ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট শচীন রায়ের মতে, মাইথন ও পাঞ্চেতের মতো জায়গায় ওয়াটার স্পোর্টসের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিকল্পনা অনেক আগে হলে ভালো হতো। তবে দেরিতে হলেও এ উদ্যোগকে স্বাগত। দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ থাকলে বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে বাধ্য। ডিভিসি সূত্রের খবর, আগামী চার মাসের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনার অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হবে অ্যাডভেঞ্চার ওয়াটার স্পোর্টস যেমন সার্ফিং, জেট স্কিইং, ওয়াটার স্কিইং। পাশাপাশি তৈরি হবে নতুন রিসর্ট, রেস্ট হাউস ও ভাসমান রিসর্ট। সেগুলির মাধ্যমে পর্যটকদের নতুন অভিজ্ঞতা দিতে চায় সংস্থা।

উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে মাইথন রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় পিকনিক স্পট হলেও সেখানে পর্যটকদের থাকার মতো আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। অথচ শীতকালে হাজার হাজার মানুষ দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন এই জলাধারপাড়ে। বহু বছর ধরেই স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের দাবি ছিল, এই অঞ্চলকে সাজিয়ে তোলা হোক আরও সুন্দর করে। অবশেষে সেই দাবির প্রতি সদর্থক সাড়া মিলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

তবে প্রকল্প ঘিরে উঠছে কিছু প্রশ্নও। কারণ মাইথন বা পাঞ্চেতের মতো জলাধার মূলত তৈরি হয়েছিল জল সংরক্ষণ ও কৃষিতে ব্যবহারের লক্ষ্যে। এখন ওয়াটার স্পোর্টসের সুবিধা দিতে গিয়ে যদি গ্রীষ্মকালে জল ধরে রাখা হয়, তবে কৃষকরা কী জল পাবেন? এ নিয়েও চলছে আলোচনা। এর আগে রাজ্য সরকার বহুবার অভিযোগ করেছে, চাষের মরসুমে প্রয়োজনের তুলনায় কম জল দেয় ডিভিসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *