EXPLAINED: কে হতে পারেন পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি? শরিক দলগুলিকে কীভাবে সামলাবে বিজেপি? - Bengali News | In depth: who will be the next Vice President? how BJP will manage allies? - 24 Ghanta Bangla News
Home

EXPLAINED: কে হতে পারেন পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি? শরিক দলগুলিকে কীভাবে সামলাবে বিজেপি? – Bengali News | In depth: who will be the next Vice President? how BJP will manage allies?

উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কীভাবে শরিকদের সামলাবে বিজেপি?Image Credit source: TV9 Bangla

কলকাতা: মেয়াদ শেষের আগেই উপরাষ্ট্রপতির ইস্তফা। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের একাধিক উপরাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষের আগে পদ ছেড়েছেন। তারপরও জগদীপ ধনখড়ের ইস্তফা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে। সংসদে বাদল অধিবেশন চলাকালীন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে উপরাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দিয়েছেন ধনখড়। রাজনৈতিক মহলে তাঁর এই ইস্তফার কারণ নিয়ে যখন গুঞ্জন চলছে, তখন অন্য মাথাব্যথা বিজেপির। ধনখড় পদত্যাগ করায় এবার উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। সেখানে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে এনডিএ শরিকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাধবে না তো? কয়েকমাস পরই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনের আগে বিহারের কাউকে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী করার জন্য চাপ কি দেবে বিজেপির জোটসঙ্গী নীতীশ কুমারের জেডিইউ? কেন্দ্রে বিজেপির আরও একটি বড় জোটসঙ্গী হল চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি। তারাও কি উপরাষ্ট্রপতি পদে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে দাঁড় করাতে বিজেপির উপর চাপ সৃষ্টি করবে?

ধনখড় যখন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন-

একসময় বিজেপি নেতা ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালও ছিলেন জগদীপ ধনখড়। সেই ধনখড়কে ২০২২ সালের জুলাইয়ে উপরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করে বিজেপি। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, কেন্দ্রে তখন বিজেপি একাই সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল। ফলে শরিকদের উপর সরকার টিকে থাকার কোনও প্রশ্ন ছিল না। লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলে প্রয়োজনীয় সংখ্যাও ছিল বিজেপির কাছে।

তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধীরা প্রার্থী করেছিল মার্গারেট আলভাকে। লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে মোট ৭১০টি বৈধ ভোট পড়েছিল। তার মধ্যে ৫২৮টি ভোট পেয়েছিলেন ধনখড়। আর মার্গারেট পেয়েছিলেন ১৮২টি ভোট। তৃণমূল কংগ্রেস ভোটদানে বিরত ছিল। তবে তাদের দুই সাংসদ ভোট দেন।

উপরাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দিয়েছেন যাঁরা-

উপরাষ্ট্রপতি পদে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রথম ইস্তফা দিয়েছিলেন ভিভি গিরি। ১৯৬৭ সালের ১৩ মে উপরাষ্ট্রপতি হন তিনি। ১৯৬৯ সালের ৩ মে ইস্তফা দেন। ১ বছর ৩৫৫ দিন উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনি ইস্তফা দিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাকির হুসেনের আকস্মিক প্রয়াণের জেরে। কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য উপরাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দেন তিনি।

ভিভি গিরি ইস্তফা দেওয়ার পর ১২০ দিন উপরাষ্ট্রপতি পদে কেউ ছিলেন না। ১২০ দিন পর গোপাল স্বরূপ পাঠক উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

ভিভি গিরির পর রামাস্বামী ভেঙ্কটরামন হলেন দ্বিতীয় উপরাষ্ট্রপতি, যিনি মেয়াদ শেষের আগেই ইস্তফা দিয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালের ৩১ অগস্ট উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। আর ১৯৮৭ সালের ২৪ জুলাই ইস্তফা দেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগের সন্ধ্যায় উপরাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দেন। সেইসময় ৪১ দিন উপরাষ্ট্রপতি পদ খালি ছিল।

মেয়াদ শেষে কিছুদিন আগে উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন শঙ্কর দয়াল শর্মাও। ১৯৮৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯২ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি। ৪ বছর ৩২৫ দিন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় উপরাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দেন। তাঁর ইস্তফার পর ২৮ দিন উপরাষ্ট্রপতি পদ খালি ছিল।

শঙ্কর দয়াল শর্মার মতোই মেয়াদ শেষে কিছুদিন আগে ইস্তফা দিয়েছিলেন কে আর নারায়ণন। ১৯৯২ সালের ২১ অগস্ট থেকে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত তিনি উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন। তাঁর ইস্তফার পর ২৮ দিন পদটি খালি ছিল। আবার উপরাষ্ট্রপতি পদে মেয়ার শেষের কিছুদিন আগেই মৃত্যু হয় কৃষণ কান্তের। ১৯৯৭ সালের ২১ অগস্ট থেকে ২০০২ সালের ২৭ জুলাই পর্যন্ত উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি। মোট ৪ বছর ৩৪০ দিন। তিনিই ভারতের প্রথম ও একমাত্র উপরাষ্ট্রপতি, পদে থাকাকালীন যাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যর পর পদটি ২৩টি দিনের জন্য শূন্য ছিল।

বিজেপি মনোনীত প্রথম উপরাষ্ট্রপতি হলেন ভৈরো সিং শেখাওয়াত। ২০০২ সালের ১৯ অগস্ট থেকে ২০০৭ সালের ২১ জুলাই পর্যন্ত উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন। ২০০৭ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু, প্রতিভা পাটিলের কাছে হেরে যান। তিনিই প্রথম উপরাষ্ট্রপতি, যিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে হারেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে হারের পর মেয়াদ শেষের কিছুদিন আগেই উপরাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দেন তিনি। সেইসময় ২১ দিন পদটি খালি ছিল।

ভৈরো সিং শেখাওয়াতের পর ২ দফায় ১০ বছর উপরাষ্ট্রপতি থেকেছেন মহম্মদ হামিদ আনসারি। তাঁর পর এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু উপরাষ্ট্রপতি হন। তিনিও মেয়াদ সম্পূর্ণ করেন। নাইডুর পর উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ধনখড়। ২ বছর ৩৪৪ দিন পদে থাকার পদ অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বছর চুয়াত্তরের ধনখড় ইস্তফা দিয়েছেন। সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন তাঁর এই ইস্তফা ঘিরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

এবারও কি এনডিএ প্রার্থীর জয় সহজ হবে?

তথ্য বলছে, কারও ইস্তফার জেরে উপরাষ্ট্রপতি পদটি সর্বোচ্চ মাস চারেক খালি থেকেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশে বক্তব্য, এবারও বিজেপি চাইবে দ্রুত উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন হোক। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন লোকসভা ও রাজ্য়সভার সাংসদরা। কোনও দল নির্বাচন নিয়ে হুইপও জারি করতে পারে না। ফলে সাংসদরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।

সংখ্যার দিক থেকে এনডিএ প্রার্থীর জয়ের পথ প্রশস্ত। লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে একটি আসন খালি রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রের সাংসদ হাজি নুরুল ইসলাম প্রয়াত হয়েছেন।

অন্যদিকে, রাজ্যসভার ২৪৫টি আসনের মধ্যে ৫টি খালি রয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে রাজ্যসভায় সাংসদ রয়েছেন ২৪০ জন।

এবার বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র লোকসভা ও রাজ্যসভায় শক্তি খতিয়ে দেখা যাক। লোকসভায় ৫৪২ জন সাংসদের মধ্যে ২৯৩ জন এনডিএ-র। আর রাজ্যসভায় ২৪০ জনের মধ্যে ১২৯ জন এনডিএ সাংসদ।

উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদের দুই কক্ষ মিলিয়ে ভোট দেবেন ৭৮২ জন। জয়ের জন্য দরকার ৩৯২ জনের ভোট। সেখানে দুই কক্ষে এনডিএ-র সাংসদ সংখ্যা ৪২২। সংখ্যার দিক থেকে এনডিএ প্রার্থীর জয় সুনিশ্চিত। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, এনডিএ প্রার্থীর জয় নিয়ে আশঙ্কা নেই। কিন্তু, প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে শরিক দলগুলির সঙ্গে টানাপোড়েনের আশঙ্কা রয়েছে।

কী করবেন নীতীশ কুমার?

নভেম্বরে বিহারে বিধানসভা ভোট। তার আগে কি উপরাষ্ট্রপতি পদে বিহারের কোনও ব্যক্তি প্রার্থী করতে বিজেপির উপর চাপ বাড়াবেন জনতা দল ইউনাইটেডের প্রধান নীতীশ কুমার? এই মুহূর্তে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং। ২০২০ সাল থেকে রাজ্যসভার সাংসদ তিনি। এনডিএ শরিকদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বছর উনসত্তরের হরিবংশকে প্রার্থী করা হতে পারে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

দক্ষিণের প্রার্থীতে জোর দেবেন চন্দ্রবাবু নাইডু?

এই মুহূর্তে বিজেপির দুই বড় শরিক জেডিইউ ও টিডিপি। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নীতীশ কুমার যদি বিহারের কোনও প্রার্থী চান, সেক্ষেত্রে কি চুপ থাকবেন চন্দ্রবাবু নাইডু? ধনখড়ের আগে উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন এম বেঙ্কাইয়া নাইডু। কিন্তু, তিনি বিজেপি নেতা ছিলেন। এবার কি টিডিপির পছন্দের কাউকে প্রার্থী করার জন্য চাপ দিতে পারেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী? ধনখড়ের পদত্যাগের পরই এই নিয়ে গুঞ্জন বাড়ছে।

কী ভাবছে বিজেপি?

সবে ধনখড় ইস্তফা দিয়েছেন। ফলে শরিকদের কীভাবে বিজেপি সামলাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিজেপি এক নেতা বলেন, “আমরা এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি। তবে আমার বিশ্বাস, দল এমন একজনকে প্রার্থী করবে, যাঁকে নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই।” দলেরই কোনও বর্ষীয়ান নেতাকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, কোনও রাজ্যের রাজ্যপালকে প্রার্থী করতে পারে বিজেপি। যেমন ধনখড় উপরাষ্ট্রপতি হওয়া আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ছিলেন। আবার সংসদীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনও বর্ষীয়ান কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে উপরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হতে পারে। যেমন করা হয়েছিল এম বেঙ্কাইয়া নাইডুকে। গেরুয়া শিবিরের সংগঠনের কোনও বর্ষীয়ান নেতাকেও প্রার্থী করার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নাইডু ও ধনখড়- দু’জনেই বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা ছিলেন।

উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কারা প্রার্থী হতে পারবেন?

উপরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নিয়ে এনডিএ কী পদক্ষেপ করে, তা ভবিষ্যৎ বলবে। এখন দেখে নেওয়া যাক, কারা উপরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে পারেন। উপরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। কমপক্ষে বয়স হতে হবে ৩৫ বছর। দেশের কোনও লোকসভা কেন্দ্রের ভোটার হতে হবে।

প্রশ্ন উঠছে, নতুন যিনি উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, তিনি কি পাঁচ বছর পদে থাকবেন? নাকি ধনখড়ের মেয়াদের যে ২ বছরের মতো বাকি রয়েছে, ততদিন পদে থাকবেন? সংবিধানের ৬৮(২) অনুচ্ছেদ বলছে, একজন উপরাষ্ট্রপতির ইস্তফার পর যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন করতে হবে। আর নতুন নির্বাচিত উপরাষ্ট্রপতি পাঁচ বছর পদে থাকবেন।

এনডিএ-র শরিকদের সামলে বিজেপি কাকে প্রার্থী করবে, তা ভবিষ্যৎই বলবে। তেমনই বিরোধীরা কাকে প্রার্থী করবে, তা নিয়েও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ধনখড়ের ইস্তফার পর ইন্ডিয়া জোট নতুন করে সংঘবদ্ধ হয় কি না, সেটাও দেখার। ফলে আগামী কিছুদিন যে জাতীয় রাজনীতিতে নেতাদের তৎপরতা বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *