এই হলেন ছবি বিশ্বাস! নায়িকাকে হোটেলের ঘরে সন্ধ্যায় আসতে মানা করেছিলেন কেন? – Bengali News | Untold story about chhobi biswas and alakananda roy about kanchenjunga movie shooting
বাংলা চলচ্চিত্রের প্রবাদপ্রতীম অভিনেতা ছবি বিশ্বাস। চলচ্চিত্র সমালোচকরা তাঁকে বাংলা ছবির অভিভাবক হিসেবে ডাকতে পছন্দ করেন। ব্যারিটন কণ্ঠস্বর। আদবকায়দায় সাহেবিয়ানা। বাংলা সিনেমার পর্দায় ছবি বিশ্বাস মানেই আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের মেল মিশ্রণ। তবে পর্দার নায়ক থেকেও তিনি যে বেশি জনপ্রিয় হয়েছিলেন নায়ক-নায়িকার জাঁদরেল পিতার চরিত্রে। ঠিক যেমন, বহু ছবিতেই উত্তমের সঙ্গে ছবি বিশ্বাসের ইগোর লড়াই সিনেপর্দায় ম্য়াজিক ছড়িয়ে দিত। সেই প্রবাদপ্রতীম অভিনেতাই যখন সদ্য সিনেমায় পা রাখা অভিনেত্রীকে কড়া নির্দেশ দেন, অভিনেত্রী যে ঘাবরে যাবেন, তা তো স্বাভাবিকই!
ব্য়াপারট খোলসা করে বলা যাক। সময়টা ছয়ের দশক। সত্যজিৎ রায় গোটা টিমকে নিয়ে শৈলশহর দার্জিলিঙে হাজির। শুটিং চলছে সত্যজিতের কালজয়ী ছবি ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’র। দার্জিলিঙের অ্যালিস ভিলায় থাকার ব্যবস্থা ছবির কলাকুশলীদের। সত্যজিতের কথায়, শুটিং শুরুর দুদিন আগেই পাহাড়ে এসে পৌঁছেছেন অভিনেত্রী অলকানন্দা রায়। সময় পেয়ে, ঘুরে ফিরে দেখছেন শৈলশহর। তবে সেদিনটা হোটেলের রুমেই ছিলেন অলকানন্দা। হঠাৎই জানতে পারলেন, ছবি বিশ্বাস হোটেলে এসেছেন। ছবিবাবুর সঙ্গে দেখা করতে রুম থেকে বেরিয়ে আসলেন তিনি। ছবি বিশ্বাসকে সামনে পেয়েই, ঢিপ করে পা ছুঁয়ে প্রণাম। একটা ছোট্ট মেয়ে এভাবে প্রণাম করায় চমকে উঠেছিলেন ছবি বাবু। রাশভারী গলায় তিনি অলকানন্দাকে বললেন, একী তুমি কে? অলকানন্দাও চট করে বলে উঠলেন, আমি আপনার ছোট মেয়ে! এরপরে ছবি বিশ্বাস যা বললেন, তা আজও ভুলতে পারেননি অলকানন্দা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ছবি বিশ্বাসের সঙ্গে সেই সাক্ষাতেরই বর্ণনা দিলেন সত্যজিতের অভিনেত্রী।
অলকনন্দা জানান, তখন আমার বয়স মাত্র ১৭। ছবিবাবু ৬০। তিনি তখন খ্যাতির চূড়ায়। আর আমি একেবারেই নতুন। তাই ওই বয়সেই ডেপোঁ ছিলাম। ওতো ভাবনা চিন্তা করে কথা বলতে পারতাম না। তাই টুক করেই ছবিবাবুকে বলে ফেলেছিলাম, আমি আপনার ছোট মেয়ে। উনি অবশ্য আমার উত্তর শুনে হেসেও ফেলেছিলেন। তবে পরে যে এমনটা বলবেন, তা ভাবতেই পারিনি।
তা অলকানন্দাকে কী বলেছিলেন ছবি বিশ্বাস?
ছবি বিশ্বাস প্রথমে অলকানন্দার কাছে জানতে চান, তিনি হোটেলের কোন রুমে রয়েছেন। তারপর জেনে নেন, অলকানন্দার রুমটি তাঁর রুম থেকে কতটা দূরে। ব্যস, দূরত্ব বুঝে নিয়েই, অলকানন্দাকে, বর্ষীয়ান অভিনেতা বলেন, শোনো ছোট মেয়ে সন্ধ্যা হলে আমার রুমের দিকে যাবে না! কেমন? ছবি বিশ্বাসের এই কথায় কিছুটা কৌতুহলী হয়ে পড়েন অলকানন্দা। তবে সেদিন আর সাহস করেননি ছবিবাবুর রুমের দিকে যাওয়ার। পরে জানতে পেরেছিলেন, সন্ধ্যা হলেই ছবি বিশ্বাসের রুমে আসর বসত। মদ্যপান করতেন ছবির কয়েকজন টিমের মেম্বাররা। ছোট্ট মেয়ের এসব দেখা ফেলাটা উচিত নয় বলেই, সেদিনকে অলকানন্দা রায়কে রুমের দিকে যেতে বারণ করেছিলেন ছবি বিশ্বাস।
তথ্যসূত্র- আড্ডা স্টেশন