BCCI Revenue: গরিব থেকে ধনকুবের, বছরে ১০ হাজার কোটি আয়, কীভাবে আরও ফুলেফেঁপে উঠছে ভারতীয় ক্রিকেট? – Bengali News | BCCI Revenue: From poor to rich, annual income of Rs 10,000 crore, how is Indian cricket becoming more prosperous?
একটা সময় ছিল, যখন সত্যিকারের স্ট্রাগল দেখেছে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড। ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল ভারতীয় বোর্ডকে। সেই সময় বিশ্বকাপ স্পনসর করেছিল রিলায়েন্স। সেই কারণেই ১৯৮৭ বিশ্বকাপের নাম হয়েছিল রিলায়েন্স কাপ।
১৯৮৭-এর বিশ্বকাপে প্রায় ৬ কোটি টাকার অর্থনৈতিক চুক্তি হয়েছিল, বলছে ইন্ডিয়া টুডের সূত্র। আর সেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সোনার খনি আবিষ্কার করল ১৯৯২ সালে। তারপর থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকল এই বোর্ডের উপার্জন। ১৯৯২ সালে যখন প্রথমবারের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতে এল ক্রিকেট খেলতে তখনই প্রথমবারের জন্য টিভি রাইটস বিক্রি করল বিসিসিআই।
১৯৯২ সালে ম্যাচ প্রতি মাত্র ৪০ হাজার ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ১০ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকার বিনিময়ে দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট বোর্ডকে টিভি রাইটস বিক্রি করে বিসিসিআই। যদিও, আগে টিভি রাইটস বিক্রি নিয়ে কোনও অভিজ্ঞতা না থাকায় সেই সময় গোটা সিরিজের জন্য মাত্র ৩০ হাজার আমেরিকান ডলার চেয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। যদিও তার পরিপ্রেক্ষিতে ম্যাচ প্রতি ৪০ হাজার ডলার অফার করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ও পরে সেই টাকাই ফাইনাল হয়। বর্তমানে ভারতীয় বোর্ড ম্যাচ প্রতি ৬৭ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা আয় করে, শুধুমাত্র ব্রডকাস্টিং রাইটস বিক্রি করে।
সেই শুরু, তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি ভারতীয় বোর্ডকে। কোটি কোটি টাকা তারা শুধু মিডিয়া রাইটস বিক্রি করে উপার্জন করেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তা গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ হাজার ৭৪১ কোটি টাকায়।
এই ভারতীয় বোর্ড আইসিসি থেকেও বিরাট পরিমাণ অর্থ নিয়ে আসে। গত অর্থবর্ষে প্রায় ১ হাজার ৪২ কোটি টাকা বিসিসিআই পেয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের থেকে। যা আইসিসির মোট লভ্যাংশের ৩৮.৫ শতাংশ। ভারতের পর সর্বোচ্চ লভ্যাংশ পায় ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। তাদের অংশ যথাক্রমে ৬.৮৯ শতাংশ ও ৬.২৫ শতাংশ। আর এর পিছনেও রয়েছে একটা বিরাট কারণ। তথ্য বলছে, ক্রিকেট থেকে আইসিসির আয়ের বেশিরভাগটাই আসে যদি ভারতের ম্যাচ থাকে। স্পনসর থেকে টিভি রাইটস, উপার্জনের সমস্ত ক্ষেত্রে ভারত থাকলে অনেক বেশি লাভ হয় আইসিসির।
ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের স্টেটমেন্ট বলছে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাদের উপার্জন হয়েছে ৩১০ মিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। আর তার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের উপার্জন ৯ হাজার ৭০০ কোটির বেশি। ২০১৩ সালের এনডিটিভির একটি রিপোর্ট বলছে ভারত যদি দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে না যায়, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ডের দৈনিক ১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হবে।
২০২১ সালের একটি রিপোর্ট বলছে, ভারতের সঙ্গে ৫ টেস্টের সিরিজে ইংল্যান্ডের লাভ হয় প্রায় ১৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ১ হাজার ১৮১ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা। ওই সিরিজের শেষ ম্যাচ না খেলায় ব্রডকাস্টিং রাইটস ও টিকিট বিক্রি থেকে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের ২০ মিলিয়ন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ২৩২ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই ক্ষতি ছুঁয়েছিল প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।
ফলে, কোনও ছোট দেশ ভারতের সঙ্গে একটা সিরিজ খেললে যে পরিমাণ অর্থ তারা উপার্জন করে, তাতে হয়তো সেই দেশের কয়েক বছরের খরচ চলে যায়। আর এই কারণেই, একাধিক ছোট ক্রিকেট খেলিয়ে দেশ ভারতের সঙ্গে তাদের দেশে একদিনের ম্যাচের বা টি২০ সিরিজ খেলতে চায়।
এ সব ছাড়াও ভারতের একটা আইপিএল রয়েছে। যে আইপিএলকে সোনার ডিম পাড়া মুরগি বলে চিহ্নিত করা যায়। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের উপার্জনের প্রায় ৫৯ শতাংশ বা ৫ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা এসেছিল আইপিএল থেকেই। আর এই ভাবেই পৃথিবীর অন্যতম ধনী ক্রীড়া সংস্থায় পরিণত হয়েছে বিসিসিআই।