স্কুলের মধ্যেই ছাত্রীদের ‘গায়ে হাত, শ্লীলতাহানি’, বাংলায় ধৃত ইংরেজির শিক্ষক
ক্লাসের মধ্যেই একাধিক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি ও যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা এলাকা। অভিযোগ, ইংরেজি শিক্ষক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। ধৃতকে আদালতে তোলা হলে তাঁর জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। এই ঘটনায় স্কুল প্রাঙ্গণে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের তীব্র বিক্ষোভ দেখা দেয়।
আরও পড়ুন: জলপাইগুড়ির স্কুলে ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, প্রিন্সিপালের পদত্যাগের দাবি
জানা যাচ্ছে, অভিযুক্ত শিক্ষক সত্র মাত্র তিন মাস আগে এই স্কুলে যোগ দেন। তবে স্কুলে আসার পর থেকেই তিনি অষ্টম ও নবম শ্রেণির কিছু ছাত্রীকে লক্ষ্য করে অস্বস্তিকর আচরণ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে যে তিনি ক্লাসে পড়ানোর অজুহাতে ছাত্রীদের গায়ে খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে হাত দিতেন। আগেই বেশ কয়েকজন ছাত্রী স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষককে সতর্ক করা সত্ত্বেও তিনি এহেন আচরণ বন্ধ করেননি। এরপর বৃহস্পতিবার একাধিক ছাত্রী সরাসরি যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলার পর এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা স্কুলে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সুদীপ্ত মৈত্রকে গ্রেফতার করে বাগদা থানায় নিয়ে যায়। সেখানে ছাত্রীদের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হলে পকসো আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক র জানান, ছাত্রীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। শিক্ষক কিছু অভিযোগ স্বীকার করলেও কিছু অস্বীকার করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে শক্ত প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। আদালত তাঁকে জেলে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। এদিকে, স্কুল প্রশাসন ছাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার কথা জানিয়েছে।