ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরেই বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ৮ প্রসূতি অসুস্থ, তদন্ত কমিটি গঠন - 24 Ghanta Bangla News
Home

ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরেই বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ৮ প্রসূতি অসুস্থ, তদন্ত কমিটি গঠন

Spread the love

দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে একযোগে অসুস্থ হয়ে পড়লেন আটজন প্রসূতি। অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যার পরে ইঞ্জেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া ওই মহিলারা। রাত বাড়তেই পরিস্থিতির অবনতি হয়। যার জেরে তাঁদের সিসিইউ ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করতে হয়। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে।

আরও পড়ুন: বেসরকারি হাসপাতালের গা-ছাড়া মনোভাবেই মৃত্যু প্রসূতির! অভিযোগ পরিবারের

জানা গিয়েছে, প্রসূতিরা সকলেই বর্তমানে সিসিইউ-তে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁদের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল হলেও পরিবারগুলির মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এখনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার করে জানায়নি। এক প্রসূতির আত্মীয় জানান, তাঁত বউদি হঠাৎই জ্বরে কাঁপতে শুরু করেন। এমন পরিস্থিতি যে তৈরি হবে তা তাঁরা ভাবতেই পারছেন না। তাঁদের অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতি হয়েছে।

অভিযোগ, আক্রান্তদের মধ্যে কেউ শ্বাসকষ্টে ভুগেছেন, কেউ জ্বরে কাঁপতে থাকেন। এসব লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ ইঙ্গিত দিচ্ছেন, ইঞ্জেকশন বা অন্যান্য ওষুধজনিত কারণে এই প্রতিক্রিয়া হতে পারে যদিও কোনও সরকারি বক্তব্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে রাতেই হাসপাতালে ছুটে আসেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাস, হাসপাতালের সুপার, ডেপুটি সুপার-সহ একাধিক চিকিৎসক। প্রত্যেককে পর্যবেক্ষণে রাখা হয় অপারেশন থিয়েটারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাজির হন বালুরঘাট থানার আইসি ও অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরাও।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতেই একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ওষুধ, ইঞ্জেকশন ও স্যালাইন সংরক্ষণ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। সোমবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনার পর থেকে প্রসূতিদের পরিজনদের মধ্যে আতঙ্ক, ক্ষোভ ও অসন্তোষ তীব্রতর হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, একসঙ্গে এতজন প্রসূতি কীভাবে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন? তা হলে কি ওষুধে কোনও সমস্যা ছিল? না কি চিকিৎসার কোনও বড় গাফিলতি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই এখন গোটা জেলার নজর তদন্ত কমিটির রিপোর্টে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *