EXPLAINED: ৪২ লক্ষের ব্যবধান ঘুচিয়ে 'নায়ক' হয়ে উঠতে পারবেন শমীক? - Bengali News | In Depth: What will be the BJP state President Samik Bhattacharya's strategies to fulfill party's dream in West Bengal? - 24 Ghanta Bangla News
Home

EXPLAINED: ৪২ লক্ষের ব্যবধান ঘুচিয়ে ‘নায়ক’ হয়ে উঠতে পারবেন শমীক? – Bengali News | In Depth: What will be the BJP state President Samik Bhattacharya’s strategies to fulfill party’s dream in West Bengal?

Spread the love

বাংলায় বিজেপির লক্ষ্য পূরণে কী রণকৌশল শমীক ভট্টাচার্যের? Image Credit source: TV9 Bangla

কলকাতা: মাত্র একদিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। শুভেচ্ছার বন্যা। আবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আধিকারিকদের পরিচয় করিয়ে দিতে চাইছেন সচিব। সবাইকে থামিয়ে একদিনের মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘সময় কম। ওসব পরে হবে। এখন কাজটা করি।’ বাস্তবে নয়। এই দৃশ্য দেখা গিয়েছে অনিল কাপুরের ‘নায়ক’ সিনেমায়। আর বাস্তবে তাঁর দলের লক্ষ্য পূরণে মাস নয়েক সময় পাচ্ছেন বঙ্গ বিজেপির নতুন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ‘নায়ক’ সিনেমার শিবাজীরাও গায়কেওয়াড়ের মতো দায়িত্ব পাওয়ার পরই দলের লক্ষ্য পূরণে তিনি নেমে পড়েছেন। যদিও শমীককে ঘটা করে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁরও হাতে সময় খুব কম। তাই ঠিক পরের দিনই খাতা পেন নিয়ে সুনীল বনশলদের সঙ্গে বসে পড়েন শমীক। শুরু হয় অঙ্ক কষা। রাজ্যে কতটা জমি রয়েছে বিজেপির? চব্বিশের লোকসভা ভোটের নিরিখে তৃণমূলের সঙ্গে ভোটের যে পার্থক্য রয়েছে, সেটা কীভাবে মিটবে?

তৃণমূলও ফুল, বিজেপিও ফুল- তফাৎ শুধু ৪২ লক্ষ-

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল বঙ্গ বিজেপি। কিন্তু, ৭৭-এ গিয়ে আটকে যায়। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় ১২টি আসন পেয়েছে গেরুয়া শিবির। তৃণমূল জিতেছে ২৯টি আসন। লোকসভার প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ভোটের ব্যবধান ৪২ লাখ। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল ভোট পেয়েছে ২ কোটি ৭৫ লক্ষের সামান্য বেশি। আর বিজেপির ঝুলিতে ২ কোটি ৩৩ লক্ষের সামান্য বেশি ভোট। লোকসভা নির্বাচনে দুই দলের প্রাপ্ত ভোটের পার্থক্য ৪২ লক্ষের মতো। বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব রাজ্যে পালাবদলের স্বপ্ন দেখলেও এই ফারাক কীভাবে মিটবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কীভাবে এই ফারাক মেটানো সম্ভব? কতটা ফারাক মেটানো যাবে, তা নিয়ে অঙ্ক কষতে শুরু করেছে বিজেপি।

বিজেপির জমির খতিয়ান-

বিজেপি বলছে, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের হিসেবে ৯২টি বিধানসভা আসনে এগিয়ে রয়েছে তারা। ১০৮টা আসন অল্প ব্যবধানে হেরেছে। সেটা বড় জোর ৫০০০ ভোটের ব্যবধান। অর্থাৎ এগিয়ে থাকা আসন এবং অল্প ব্যবধানে হেরে যাওয়া আসনগুলির উপর পাখির চোখ করে এগোতে চাইছেন শমীক-শুভেন্দুরা।

তবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন, একুশের বিধানসভা নির্বাচন এবং চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে যদি বিধানসভা কেন্দ্রগুলির দিকে তাকানো যায়, তাহলে দেখা যাবে ২০২১ সালের তুলনায় চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ভাল ফল করেছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফল অনুযায়ী বিজেপি ১২১টি বিধানসভা আসনে এগিয়ে ছিল। কিন্তু, ২০২১ বিধানসভায় ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে। অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে খারাপ ফলই বলা যেতে পারে। কারণ, লোকসভার এগিয়ে থাকা আসনের উপর ভিত্তি করেই ২০২১-এর রণনীতি ঠিক করেছিল বিজেপি। তবে, উল্টোদিকে এটাও দেখার, বিধানসভা নির্বাচনে ৩ থেকে ৭৭টা আসন পায় গেরুয়া শিবির। ২০২৪ সালের লোকসভার ফল বলছে, ৯০টি আসনে (যদিও বিজেপি দাবি করছে ৯২টি) এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। এখানে আর একটি মজার ব্যাপার, তৃণমূলের আসন সংখ্যা তো কমছে, কংগ্রেস এবং বাম যথাক্রমে ১১টা ও ১ টি আসন পাচ্ছে। অর্থাৎ শূন্যর শাপমুক্তি হতে পারে সিপিএম-এর। যদিও এই তথ্য নিয়ে আলোচনা করলে, এখানে বলে রাখা উচিত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা হয়। তাই ফলাফল যে সব সময় মিলবে, এমনটাও নয়।

লোকসভায় হারা আসন ঘরে ফিরবে?

২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় ১৮টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। পাঁচ বছর পর ৬টি আসন হাতছাড়া হয়। বিজেপির এই হাতছাড়ার মানচিত্র যদি দেখা যায়, তাহলে দেখা যাবে, ২০১৯-এ উত্তরবঙ্গের মোট ৮টি আসনের মধ্যে ৭টিই ছিল বিজেপির দখলে। শুধুমাত্র মালদহ দক্ষিণ কংগ্রেসের দখলে ছিল। ২০২৪-এ বিজেপির থেকে কোচবিহার ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল। হেভিওয়েট প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক হারেন।

দক্ষিণবঙ্গের সীমান্ত লাগোয়া লোকসভা কেন্দ্রগুলি যেখানে রানাঘাট, বনগাঁ এবং ব্যারাকপুর ছিল বিজেপির দখলে। এখানেও ২০২৪-এ একটি আসন খোওয়ায়। সেটা ব্যারাকপুর। বিজেপি থেকে তৃণমূলে যাওয়া আবার গেরুয়া শিবিরে ফেরত আসা অর্জুন সিংকে হারান ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী পার্থ ভৌমিক।

এবার দেখা যাক হুগলি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে মাস্টারস্ট্রোক খেলেন। রাজনীতিতে ফ্রেশ এবং সেলিব্রিটি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নামানো হয়। তাঁর দিদি নম্বর ওয়ান মহিলাদের অত্যন্ত প্রিয় অনুষ্ঠান হিসাবে ধরা হয়। সেই রচনার কাছে হারেন একসময়ের সেলিব্রিটি লকেট চট্টোপাধ্যায়।

এবার জঙ্গলমহল এবং রাঢ় অঞ্চলের দিকে নজর দেওয়া যাক। এখানেও বিজেপির শিকড় মজবুত ছিল। ২০১৯ সালে ৫টা লোকসভা কেন্দ্র বিজেপির ঝুলিতে ছিল। ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং বিষ্ণুপুর। চব্বিশের নির্বাচনে এই পাঁচটির মধ্যে মাত্র ২টি পুরুলিয়া এবং বিষ্ণুপুর বিজেপির দখলে থাকে। ৩টে আসন হাতছাড়া হয়।

আর রইল আসনসোল। বিধানসভা আসনটি বিজেপির হাতে থাকলেও লোকসভা আসনটি হাতছাড়া হয় ২০২৪-এ।

হেরে যাওয়া আসনে বিধানসভার স্ট্যাটাস-

কোচবিহারের দিকে নজর দিলে দেখা যাচ্ছে, এখানে ৩টে বিধানসভা আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। একটা কান ঘেঁষে হেরেছে।

ব্যারাকপুর, যেখানে অর্জুন সিং হেরেছেন। সেখানে একটি মাত্র ভাটপাড়া বিধানসভা আসনে এগিয়ে রেয়েছে বিজেপি। তবে, ব্যারাকপুর, জগদ্দল, বীজপুরের মতো বিধাসভায় ৫ থেকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে বিজেপি।

এবার রাঢ় এবং জঙ্গলমহলে লোকসভাগুলো দেখলে, যেখানে ৩টে লোকসভা আসন হারিয়েছে বিজেপি, তার মধ্যে শুধু মেদিনীপুর লোকসভার বিধানসভা আসনগুলির দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, এগরা ও খড়্গপুর বিধানসভায় এগিয়ে বিজেপি। আর দাঁতন, কেশিয়াড়ি, মেদিনীপুর এবং নারায়ণগড়ে ৫ থেকে ১০ হাজার ব্যবধানে বিজেপি হেরেছে।

অর্থাৎ ৯০ থেকে ৯২ টা বিধানসভায় এগিয়ে বিজেপি এবং ১০৮টা আসনে অল্প ব্যবধানে হেরেছে। মোট ২০০টি আসনকে পাখির চোখ করে এগোতে চাইছেন শমীকরা।

শমীকের স্ট্যাটেজি-

যেখানে ২০০ বিধানসভা আসনে জয় খুব একটা কঠিন হবে না বলে মনে করছে বিজেপি, সেই জায়গায় রণনীতি কীভাবে সাজাচ্ছেন শমীক? বঙ্গ বিজেপির দায়িত্ব পাওয়ার পরই বিরোধীদের বার্তা দিতে শুরু করেছেন শমীক। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর প্রসঙ্গ টেনে বাম সমর্থকদের বার্তা দিয়েছেন। আবার একুশের নির্বাচনে যাঁরা নো ভোট টু বিজেপি বলেছিলেন, তাঁদের মুখোশ ছেড়ে সরাসরি তৃণমূলের হয়ে প্রচারে নামতে বলছেন। তাঁর কথায় “যাঁরা নো ভোট টু বিজেপি স্লোগান দিয়েছিলেন, তাঁরা মুখোশের আড়ালের নয়, মুখোমুখি লড়াই করুন। মুখোমুখি দাঁড়ান। বিজেপির বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পথে নেমে হাঁটুন। তাঁদের যাঁরা অনুগামী রয়েছেন, তাঁদের বলছি, ভোট কেটে চতুর্থবারের জন্য তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনবেন না। তাহলে এই পশ্চিমবঙ্গ আর পশ্চিমবঙ্গ থাকবে না।

সভাপতি হয়েই মুসলিমদেরও বার্তা দিয়েছেন শমীক। তৃণমূল মুসলিমদের শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করে বলে তোপ দাগেন। মুসলিমদের এই নিয়ে ভাবনাচিন্তা করার আহ্বান জানিয়েও তিনি অবশ্য বলছেন, মুসলিম ভোট না পেলেও তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করবে বিজেপি। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “বাংলা এমন ছিল না। এই পশ্চিমবঙ্গ আমাদের পশ্চিমবঙ্গ নয়, আমাদের চেনা রাজ্য নয়, আমরা এমন ছিলাম না। এখানে হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে স্কুলে সরস্বতী পুজো করত, ফল কাটত। সরস্বতী পুজো করতে দিলে নবি দিবস পালন করতে হবে এই পরিস্থিতি ছিল না।”

সংকল্প পত্র-

শমীকরা বলছেন, এবার আর নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্টের অপেক্ষায় থাকবেন না তাঁরা। তার অনেক আগেই ইস্তাহার প্রকাশ করবে। বিজেপি যাকে সংকল্প পত্র বলে। শোনা যাচ্ছে পুজোর পরই প্রকাশ করা হবে সংকল্প পত্র। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এটা একটা শমীকের স্ট্রাটেজি। কী সেই স্ট্র্যাটেজি?

শমীক বলছেন, মানুষের কাছে কিছু পজিটিভ বিষয় নিয়ে যেতে হবে। আগের থেকে সংকল্প পত্র প্রকাশ করলে প্রতিশ্রুতিগুলো আরও ভালভাবে বাংলার মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারবে বিজেপি।

২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচন শুরুর এক সপ্তাহ আগে অর্থাৎ ২৭ নির্বাচন শুরু, ২১ মার্চ ইস্তাহার প্রকাশ করেছিল বিজেপি। সেই ইস্তাহারে কী লেখা আছে, তা জানানোর এবং জানার অবকাশ কোথায়? সেই জন্য এবার আগে ভাগে ইস্তাহার প্রকাশ করে ক্ষমতায় এলে তারা কী কী করতে পারে, তা মানুষের কাছে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি।

মুখপাত্র শমীক এবং সভাপতি শমীক-

আসলে মুখপাত্র শমীকের ভূমিকাই এখানে কাজে লাগছে বলে মনে করছেন অনেকে। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির মুখপাত্রের দায়িত্ব তিনি সামলেছেন। কোথায় বিজেপির দুর্বলতা, সেই জায়গায় ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট করার চেষ্টা এতদিন করে এসেছেন। বিজেপির মধ্যে বিভিন্ন লবি রয়েছে, সেটা মাথায় রেখেই প্রথম দিন থেকেই তাঁর বার্তা, পুরনোরাও এই দলের সম্পদ। তাঁরা জামানত জব্দ হবে জেনেও ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে ভোটে লড়েছেন। আজ তাঁদেরও সময়। আবার বিভিন্ন জায়গা থেকে নতুনদেরও নিতে হবে। নেতা কুমোরটুলি থেকে অর্ডার করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন।

রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, সভাপতি হয়েই শমীক বুঝিয়ে দিয়েছেন, দলে নতুন-পুরনো দ্বন্দ্ব থাকলে চলবে না। তাই, উত্তরবঙ্গ সফরে দলের পুরনো নেতাদেরও বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আবার বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে দলের যে ‘দূরত্ব’ তৈরি হয়েছিল, তা দূর করার চেষ্টা করেছেন। দিলীপের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আর সেই বৈঠকের পর দিলীপও জানিয়েছেন, তিনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।

দলের অন্দরে তিনি যে কোনও বিতর্ক চাইছেন না, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন শমীক। তিনি সভাপতি হওয়ার পর মুরলীধর সেন লেনে বঙ্গ বিজেপির দফতরে ঢোকার মুখে শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদারের ছবি সরানো হয়। শুভেন্দুর ছবি সরানো নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধার আগেই শমীক বলে দেন, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপির হৃদয়ে রয়েছেন। শুভেন্দু, সুকান্ত, দিলীপদের নিয়েই যে তিনি ভোট ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে চান, বুঝিয়ে দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির নতুন সভাপতি।

আরএসএস-র ভূমিকা-

মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় বিজেপির জয়ে বড় অবদান ছিল আরএসএস-র। বিজেপির পক্ষে ভোট টানতে ময়দানে নেমেছিল তারা। বাংলায় আরএসএস কোন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, সেদিকে নজর রয়েছে সবার।

শমীকরা অঙ্ক কষছেন। তৃণমূলও অঙ্ক কষছে। কার অঙ্ক মিলবে, সেটা জানা যাবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর। ৪২ লক্ষের ব্যবধান ঘুচিয়ে বিজেপির নতুন সভাপতি ‘নায়ক’ হয়ে উঠতে পারেন কি না, সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *