ব্লাড মানি নিতে অস্বীকার, ক্ষমা কি জুটবে না ইয়েমেনে বন্দি থাকা কেরলের নার্সের? – Bengali News | Victim’s Family Refused to Accept Blood Money & Give Pardon, What will Happen to Kerala Nurse Nimisha Priya who was sentenced Death in Yemen
ইয়েমেনে মৃত্যুদণ্ডের সাজা কেরলের নার্সকে।Image Credit source: X
নয়া দিল্লি: যেটুকু বাঁচার আলো ছিল, সেটুকুও কি নিভে গেল নিমিশা প্রিয়ার জন্য়? ব্লাড মানি নিতে অস্বীকার করল ইয়েমেনে নিহত তালাল আবদো মাহদির পরিবার। কেরলের নার্সের ভাগ্যে কী রয়েছে, তা নিয়ে রয়েই গেল অনিশ্চয়তা।
ইয়েমেনে সর্বোচ্চ শাস্তির মুখে কেরলের নার্স। খুনের অভিযোগে নিমিশা প্রিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাঁচার একমাত্র উপায় ছিল যদি নিহতের পরিবার আর্থিক ক্ষতিপূরণ, যাকে দিয়া বা ব্লাড মানি বলা হয়, তা গ্রহণ করে এবং নিমিশাকে ক্ষমা করে দেয়। তবে জানা গিয়েছে, তালালের পরিবার নিমিশাকে ক্ষমা করতে নারাজ। তারা ব্লাড মানি নিতেও অস্বীকার করেছে।
কেরলের নার্সকে বাঁচানো ও ইয়েমেন থেকে উদ্ধার করে আনার জন্য ভারত সরকার যাবতীয় প্রচেষ্টা করেছে, কিন্তু ইয়েমেন সরকার কোনওভাবেই মৃত্যুদণ্ডের সাজা পরিবর্তন করতে চায়নি। আগামী ১৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্টে পরবর্তী শুনানি হবে।
৩৮ বছরের কেরলের নার্স নিমিশা প্রিয়া ইয়েমেনে নিজের ক্লিনিক খুলেছিলেন তালাল আবদো মাহদির সঙ্গে, কিন্তু সেই ব্যবসায়িক সম্পর্ক ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। নিমিশার পাসপোর্ট পর্যন্ত কেড়ে নেয় তালাল। তাঁর হাত থেকে মুক্তি পেতেই ঘুমের ইঞ্জেকশন দিয়েছিলেন নিমিশা, তবে তা ওভারডোজ হয়ে যাওয়ায় তালালের মৃত্যু হয়। প্রমাণ লোপাট করতে নিমিশা তালালের দেহ কুচি কুচি করে কেটে, জলের ট্যাঙ্কে ফেলে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষে বিমানবন্দরে ধরা পড়ে যান। ২০২০ সালে নিমিশাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ইয়েমেনের আদালত।
নিমিশাকে বাঁচানোর জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল ব্লাড মানিরও। তবে গতকাল নিমিশা প্রিয়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকশন কাউন্সিলের কোর কমিটির সদস্য দীনেশ নায়ার বলেন, “কাউন্সিল যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। আমরা নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং বেশ কিছুটা ব্লাড মানিও সংগ্রহ করেছি যাতে তারা নিমিশাকে ক্ষমা করে দেন, কিন্তু তারা এই বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, এটা তাদের সম্মানের বিষয়।”
তবে এখনও আশা ছাড়ছে না কাউন্সিল। নিমিশা প্রিয়াকে বাঁচানোর প্রচেষ্টা জারি থাকবে বলেই জানিয়েছে তারা।
